২০৫০ সালে দেশে প্রবীণের সংখ্যা হবে সাড়ে ৪ কোটি!

২০৫০ সালে দেশে প্রবীণের সংখ্যা হবে সাড়ে ৪ কোটি!
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার বয়রার হোসেন শেখের বয়স ৭০ বছর। সরকারি চাকরিতে ৩২ বছর কাটিয়ে ২০১৭ সালে অবসরে যান তিনি। অবসরের পর কয়েক বছর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে থাকলেও বর্তমানে তার ঠিকানা একটি প্রবীণ পুনর্বাসন কেন্দ্র। মাসে দুই-একবার বাবাকে দেখতে আসেন সন্তানরা, রেখে যান কিছু টাকা। সেই অর্থেই চলে পুনর্বাসন কেন্দ্রের খরচসহ তার দৈনন্দিন প্রয়োজন। তবে বয়সের ভার, শারীরিক দুর্বলতা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং মানসিক অসুস্থতায় এখন কঠিন সময় পার করছেন হোসেন শেখ।
গল্পটি শুধু হোসেন শেখের একার নয়। দেশে দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা। কিন্তু তাদের আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। ফলে জীবনের শেষ অধ্যায়ে অনেক প্রবীণের ভরসা হয়ে উঠছে বৃদ্ধাশ্রম।
১ অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস। প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা ও অবদানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি বার্ধক্যকে সমাজের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখার বার্তা পৌছে দিতে পালিত হয় দিবসটি। ‘দ্য এজ অব লংজেভিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’-প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রবীণ দিবস।
ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ। যা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে প্রায় ১ জন প্রবীণ। ২০৫০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা সালে দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ।।
অন্যদিকে, বিবিএসের ‘ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৪’-এ ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে প্রবীণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ হিসাবে ২০২৪ সালে এ বয়সী মানুষের হার ছিল ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে যা ছিলো ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।
ইউনিসেফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালে বাংলাদেশ বয়স্ক সমাজে প্রবেশ করবে। এ সময় ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব মানুষের হার ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০৪৭ সালে তা বেড়ে ১৪ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তাদের জন্য সরকারি আবাসন ও সেবার ব্যবস্থা এখনো সীমিত। দেশে ৮টি বিভাগে প্রবীণ নিবাস নির্মাণ করা হলেও সেগুলো এখনো চালু হয়নি।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী মাসে এসব নিবাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের হিসাবে দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ৯২টি প্রবীণ নিবাস বা বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কতজন প্রবীণ থাকছেন, তার সমন্বিত কোনো হিসাব নেই।
প্রবীণ মানুষের শুধু আবাসন নয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও রয়েছে বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবীণদের ২৮ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পুরুষদের ২৫ শতাংশ। বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও নিউরোকগনিটিভ সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগলেও প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না অনেকেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবীণদের কেবল নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখলে চলবে না। স্বাস্থ্যসেবা, জেরিয়াট্রিক চিকিৎসা, সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে তাদের যতটা সম্ভব সক্রিয় ও উৎপাদনশীল রাখতে হবে। কারণ, দেশের বর্তমান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ নির্ভরশীলতার চাপও বাড়বে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব দুস্থ মানুষকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৭ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত ৮টি শান্তিনিবাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভাতা কিংবা আবাসন দিয়ে ভবিষ্যতের প্রবীণ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এখনই সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা, নিরাপদ আবাসন ও সামাজিক সুরক্ষার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া না হলে দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা বাংলাদেশের সামনে নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

খুলনার বয়রার হোসেন শেখের বয়স ৭০ বছর। সরকারি চাকরিতে ৩২ বছর কাটিয়ে ২০১৭ সালে অবসরে যান তিনি। অবসরের পর কয়েক বছর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে থাকলেও বর্তমানে তার ঠিকানা একটি প্রবীণ পুনর্বাসন কেন্দ্র। মাসে দুই-একবার বাবাকে দেখতে আসেন সন্তানরা, রেখে যান কিছু টাকা। সেই অর্থেই চলে পুনর্বাসন কেন্দ্রের খরচসহ তার দৈনন্দিন প্রয়োজন। তবে বয়সের ভার, শারীরিক দুর্বলতা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং মানসিক অসুস্থতায় এখন কঠিন সময় পার করছেন হোসেন শেখ।
গল্পটি শুধু হোসেন শেখের একার নয়। দেশে দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা। কিন্তু তাদের আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। ফলে জীবনের শেষ অধ্যায়ে অনেক প্রবীণের ভরসা হয়ে উঠছে বৃদ্ধাশ্রম।
১ অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস। প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা ও অবদানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি বার্ধক্যকে সমাজের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখার বার্তা পৌছে দিতে পালিত হয় দিবসটি। ‘দ্য এজ অব লংজেভিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’-প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রবীণ দিবস।
ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ। যা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে প্রায় ১ জন প্রবীণ। ২০৫০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা সালে দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ।।
অন্যদিকে, বিবিএসের ‘ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৪’-এ ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে প্রবীণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ হিসাবে ২০২৪ সালে এ বয়সী মানুষের হার ছিল ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে যা ছিলো ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।
ইউনিসেফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালে বাংলাদেশ বয়স্ক সমাজে প্রবেশ করবে। এ সময় ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব মানুষের হার ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০৪৭ সালে তা বেড়ে ১৪ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তাদের জন্য সরকারি আবাসন ও সেবার ব্যবস্থা এখনো সীমিত। দেশে ৮টি বিভাগে প্রবীণ নিবাস নির্মাণ করা হলেও সেগুলো এখনো চালু হয়নি।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী মাসে এসব নিবাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের হিসাবে দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ৯২টি প্রবীণ নিবাস বা বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কতজন প্রবীণ থাকছেন, তার সমন্বিত কোনো হিসাব নেই।
প্রবীণ মানুষের শুধু আবাসন নয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও রয়েছে বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবীণদের ২৮ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পুরুষদের ২৫ শতাংশ। বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও নিউরোকগনিটিভ সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগলেও প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না অনেকেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবীণদের কেবল নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখলে চলবে না। স্বাস্থ্যসেবা, জেরিয়াট্রিক চিকিৎসা, সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে তাদের যতটা সম্ভব সক্রিয় ও উৎপাদনশীল রাখতে হবে। কারণ, দেশের বর্তমান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ নির্ভরশীলতার চাপও বাড়বে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব দুস্থ মানুষকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৭ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত ৮টি শান্তিনিবাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভাতা কিংবা আবাসন দিয়ে ভবিষ্যতের প্রবীণ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এখনই সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা, নিরাপদ আবাসন ও সামাজিক সুরক্ষার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া না হলে দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা বাংলাদেশের সামনে নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

২০৫০ সালে দেশে প্রবীণের সংখ্যা হবে সাড়ে ৪ কোটি!
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার বয়রার হোসেন শেখের বয়স ৭০ বছর। সরকারি চাকরিতে ৩২ বছর কাটিয়ে ২০১৭ সালে অবসরে যান তিনি। অবসরের পর কয়েক বছর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে থাকলেও বর্তমানে তার ঠিকানা একটি প্রবীণ পুনর্বাসন কেন্দ্র। মাসে দুই-একবার বাবাকে দেখতে আসেন সন্তানরা, রেখে যান কিছু টাকা। সেই অর্থেই চলে পুনর্বাসন কেন্দ্রের খরচসহ তার দৈনন্দিন প্রয়োজন। তবে বয়সের ভার, শারীরিক দুর্বলতা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং মানসিক অসুস্থতায় এখন কঠিন সময় পার করছেন হোসেন শেখ।
গল্পটি শুধু হোসেন শেখের একার নয়। দেশে দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা। কিন্তু তাদের আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। ফলে জীবনের শেষ অধ্যায়ে অনেক প্রবীণের ভরসা হয়ে উঠছে বৃদ্ধাশ্রম।
১ অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস। প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা ও অবদানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি বার্ধক্যকে সমাজের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখার বার্তা পৌছে দিতে পালিত হয় দিবসটি। ‘দ্য এজ অব লংজেভিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’-প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রবীণ দিবস।
ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ। যা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে প্রায় ১ জন প্রবীণ। ২০৫০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা সালে দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ।।
অন্যদিকে, বিবিএসের ‘ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৪’-এ ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীকে প্রবীণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ হিসাবে ২০২৪ সালে এ বয়সী মানুষের হার ছিল ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে যা ছিলো ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।
ইউনিসেফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালে বাংলাদেশ বয়স্ক সমাজে প্রবেশ করবে। এ সময় ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব মানুষের হার ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০৪৭ সালে তা বেড়ে ১৪ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তাদের জন্য সরকারি আবাসন ও সেবার ব্যবস্থা এখনো সীমিত। দেশে ৮টি বিভাগে প্রবীণ নিবাস নির্মাণ করা হলেও সেগুলো এখনো চালু হয়নি।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী মাসে এসব নিবাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের হিসাবে দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ৯২টি প্রবীণ নিবাস বা বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কতজন প্রবীণ থাকছেন, তার সমন্বিত কোনো হিসাব নেই।
প্রবীণ মানুষের শুধু আবাসন নয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও রয়েছে বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবীণদের ২৮ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পুরুষদের ২৫ শতাংশ। বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও নিউরোকগনিটিভ সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগলেও প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না অনেকেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবীণদের কেবল নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখলে চলবে না। স্বাস্থ্যসেবা, জেরিয়াট্রিক চিকিৎসা, সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে তাদের যতটা সম্ভব সক্রিয় ও উৎপাদনশীল রাখতে হবে। কারণ, দেশের বর্তমান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ নির্ভরশীলতার চাপও বাড়বে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব দুস্থ মানুষকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৭ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত ৮টি শান্তিনিবাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভাতা কিংবা আবাসন দিয়ে ভবিষ্যতের প্রবীণ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এখনই সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা, নিরাপদ আবাসন ও সামাজিক সুরক্ষার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া না হলে দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা বাংলাদেশের সামনে নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রবীণ শিক্ষককে ৭ মামলার ঘা






