শিরোনাম

‘বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট সমাধানে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট সমাধানে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার’
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় কথা বলছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে কবি নজরুল কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভুল নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। বর্তমান সরকার নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে বরাদ্দ বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান করে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তোলন সম্ভব নয়। কূপ শনাক্ত হওয়ার পরও তা আহরণে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিতে সময় লাগে।

নুরুল হক নুর বলেন, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি এনে দ্রুত সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকার কোনো আপস করেনি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে কোনো সমাধান গ্রহণ করা হবে না।

তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের বিভিন্ন জেলা, বিভাগীয় শহর ও উপজেলায় ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভাষা শিক্ষা ও বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিক্ষিত ও বেকার তরুণদের বিদেশে যাওয়ার আগে এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত। এতে বিদেশে দক্ষ কর্মসংস্থান এবং ব্যাংক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

আলোচনা সভায় গকবি নজরুল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র অধিকার পরিষদ প্রকাশ্যে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। পরিচয় গোপন না করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জামায়াত-শিবিরের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-শিবিরকে উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, পেশিশক্তি প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি কিংবা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ক্যাম্পাসে প্রচলিত নির্যাতন ও গেস্টরুম সংস্কৃতির রাজনীতিও আর ফিরতে দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

/এসবি/