সরকারি চাকরিজীবীরা আয়করের হিসাব করবেন যেভাবে

চাকরি ডেস্ক
চাকরি ডেস্ক
সরকারি চাকরিজীবীরা আয়করের হিসাব করবেন যেভাবে
আয়কর। ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়। রিটার্নে নির্দিষ্ট সময়ের মোট আয় ও ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরতে হয়। দশম গ্রেড বা তার ওপরে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। রিটার্ন জমা না দিলে বেতন-ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সরকারি কর্মকর্তাদের আয়কর কীভাবে হিসাব করতে হবে, তা বোঝাতে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়ের হিসাব এবারের রিটার্নে দেখাতে হবে। তবে গত জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কার্যকর হওয়া নতুন বেতন-ভাতার হিসাব এবারের রিটার্নে দেখাতে হবে না।

ধরা যাক

আসমা বেগম একজন সরকারি কর্মকর্তা। তার মাসিক মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। বছরে দুটি উৎসব বোনাস হিসেবে তিনি পান ৭১ হাজার টাকা। এ ছাড়া বছরে চিকিৎসা ভাতা ১৮ হাজার টাকা, ইনসেনটিভ বোনাস ১ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা ৭ হাজার ১০০ টাকা পান।

বাড়িভাড়া বাবদ প্রতি মাসে তার আয় ১৪ হাজার ২০০ টাকা।

২০২৫-২৬ করবর্ষে শরিফুল ইসলামের মূল বেতন দাঁড়ায় ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ৭১ হাজার টাকা উৎসব বোনাস এবং ১ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা ইনসেনটিভ বোনাস যোগ করলে বেতন খাতে তার মোট আয় হয় ৬ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা।

তবে চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা চাকরি (ব্যাংক, বিমা ও ফাইন্যান্স কোম্পানি) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫-এর আওতাভুক্ত হওয়ায় এসব ভাতার জন্য তাকে আয়কর দিতে হবে না।

কত টাকা আয়কর হবে

আসমা বেগমের মোট আয় ৬ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে চার লাখ টাকা পর্যন্ত কর নেই। ফলে অবশিষ্ট ২ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর হিসাব হবে।

এ হিসাবে তার ওপর আরোপিত আয়কর দাঁড়ায় ২০ হাজার ৩৫০ টাকা।

বিনিয়োগ ও কর রেয়াতের হিসাব

আসমা বেগম প্রতি মাসে ভবিষ্য তহবিলে ৪ হাজার টাকা করে জমা দেন। এক বছরে এ খাতে তাঁর জমা হয় ৪৮ হাজার টাকা।

এ ছাড়া কল্যাণ তহবিলে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা এবং গোষ্ঠী বিমা তহবিলে ১০০ টাকা করে দেন। বছরে এ দুই খাতে তার জমার পরিমাণ যথাক্রমে ১ হাজার ৮০০ টাকা ও ১ হাজার ২০০ টাকা।

অর্থাৎ ভবিষ্য তহবিল, কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বিমা তহবিল মিলিয়ে তাঁর মোট বিনিয়োগ ৫১ হাজার টাকা।

হিসাবরক্ষণ অফিসের প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ভবিষ্য তহবিলে অর্জিত সুদের পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা।

বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত নির্ধারণে মোট আয়ের দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ টাকা—এই তিনটির মধ্যে যেটি কম, সেটিই রেয়াতের পরিমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আসমা বেগমের মোট আয় ৬ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকার দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ হলো ১৮ হাজার ১০৫ টাকা। অন্যদিকে, তার অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১০ শতাংশ দাঁড়ায় ৫ হাজার ১০০ টাকা। সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা সাড়ে ৭ লাখ টাকা।

তিনটি হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে কম ৫ হাজার ১০০ টাকা। ফলে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত হিসেবে আসমা বেগম ৫ হাজার ১০০ টাকা পাবেন।

শেষ পর্যন্ত কত টাকা কর দিতে হবে

আসমা বেগমের ওপর আরোপিত আয়কর ২০ হাজার ৩৫০ টাকা। এর বিপরীতে তিনি আইনানুগ কর রেয়াত পাবেন ৫ হাজার ১০০ টাকা।

ফলে রেয়াত বাদ দেওয়ার পর তার প্রদেয় আয়কর দাঁড়াবে ১৫ হাজার ২৫০ টাকা।

(সূত্র: আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২৭)

/এবি/