সিজেপির পতাকা মিছিল আজ, নিষেধাজ্ঞায় অস্বীকৃতি দিল্লি হাইকোর্টের

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সিজেপির পতাকা মিছিল আজ, নিষেধাজ্ঞায় অস্বীকৃতি দিল্লি হাইকোর্টের
সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ‘তেরঙ্গা’ (জাতীয় পতাকা) মিছিলের ডাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দেশের মানুষকে জাতীয় পতাকা হাতে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে বাধা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট সিজেপির বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা আরোপে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ফুটপাতে পণ্য-সামগ্রীর লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক বিক্রেতার করা আবেদনের ওপর শুনানি করেন দিল্লি হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সাম্বরে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। ওই বিক্রেতা বলেছিলেন, এই বিক্ষোভ ব্যবসায়ীদের অধিকারে প্রভাব ফেলবে। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া আইন অনুযায়ী পুলিশকে এটি নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, ‘কনট প্লেস সেন্ট্রাল পার্কের ঠিক মাঝখানে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে আমাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। এটি কোনো (বিক্ষোভের) জায়গা নয়। তারা ইতোমধ্যে দোকানপাট বন্ধ করা শুরু করে দিয়েছে। এটা দুর্গোসার-দশেরার সপ্তাহ। উৎসবের মৌসুমে মধ্য-দিল্লিতে যদি ব্যবসায়ীদের আরও একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন দোকানপাট বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে তারা পথের ভিখারি হয়ে যাবেন। এই বিক্ষোভ বন্ধ করতে হবে।’

দিল্লি হাইকোর্ট কার্যত সিজেপির পক্ষেই রায় দিলেন। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমিত রাখতে পুলিশ আইন অনুযায়ী সব ধরনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে বলেও জানিয়েছেন হাইকোর্ট। নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এনডিএমসি) সন্ধ্যার দিকে বলেছে, প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর জনসাধারণের জন্য দিল্লির সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ থাকবে। যদিও সিজেপির বিক্ষোভকারীদের সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা। তিনি আদালতকে বলেন, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে একই সময়ে বিক্ষোভ করার অনুমতি পেয়েছে সিজেপি।

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে গত ১০ অক্টোবর ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি। তাদের ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কনট প্লেসের কাছাকাছি যন্তর মন্তর রোডের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করে। এর কয়েক দিন পরই দিল্লি হাইকোর্ট ওই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইনডিয়াও এই একই দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।

চলতি সপ্তাহে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও সিজেপির আন্দোলন একসঙ্গে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইনডিয়া জোট থেকে দূরে থাকা আম আদমি পার্টিও (আপ) সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় পতাকা সঙ্গে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে জাতীয় রাজধানীর রাজপথ থেকে বিক্ষোভকারীদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের সাথে যোগ দেওয়া বিরোধী নেতারাও আটক হয়েছেন। এই ধরপাকড়ের সাথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করার বিষয়টি জড়িত।

তিনি বলেন, গত সোমবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে ঢুকে পতাকা ওড়ানো এবং স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে সিজেপির দুই জ্যেষ্ঠ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালত বুধবার তাদের ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে তিহার কারাগারে পাঠিয়েছে।

দলীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই মিছিলের ডাক দিয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়’। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে, শুক্রবারের এই কর্মসূচির পর তাকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হতে পারে। তবে এই ঝুঁকি তাকে দমাতে পারবে না।

যারা দিল্লিতে আসতে পারবেন না, তাদের নিজ নিজ শহরে ‘তেরঙ্গা মিছিল’ আয়োজন করে সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।

এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল পার্কে এই কর্মসূচি পালনের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাছাড়া ওই এলাকায় বর্তমানে ১৬৩ ধারার নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ফলে সিজেপি এই মিছিলের জন্য পুলিশি অনুমতি পাবে কি না, তা নিয়ে তীব্র সংশয় রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

/জেএইচ/