তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৬, ধসে পড়েছে শত শত ভবন

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৬, ধসে পড়েছে শত শত ভবন
তিব্বতে ভূমিকম্পে উদ্ধার অভিযান

চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। এতে ৩ শতাধিক বাড়ি ধসে পড়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বতের নাগচু অঞ্চলের বাচেন কাউন্টিতে। এটি রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ কিলোমিটার গভীরে। এর মাত্রা ছিল ৭। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পটি আঘাত হানার রাতে প্রায় ১ লক্ষ ১১ হাজার মানুষ মাঝারি থেকে তীব্র কম্পন অনুভব করেছেন।

ভূমিকম্পের পর কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চীনের দমকল ও উদ্ধারকারী দলগুলোর ৩৫০ জনেরও বেশি কর্মী এবং ৮৩টি যানবাহন পাঠানো হয়েছে। ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৫৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে।

ভূমিকম্পের খবরের প্রতিক্রিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্যাপক উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি শি বলেছেন, ‘ভূমিকম্পে আটকা পড়া মানুষদের সন্ধান ও উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা প্রদান এবং হতাহতের সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

এদিকে ভূমিকম্পের পর পাহাড় থেকে পাথর ধসে পড়ছে। এজন্য ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে দুর্গম ও উঁচু এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিব্বতের কামদো ও নিংচি শহরেও ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ইউএসজিএস ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি সাতটি কম্পন রেকর্ড করেছে। যার সবগুলোই পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত। সবচেয়ে বড় কম্পনটি ৫.২ মাত্রার এবং এর কেন্দ্রস্থল ১০ কিলোমিটার গভীরে।

গভীর ভূমিকম্পের চেয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি হওয়া অগভীর ভূমিকম্প ও কম্পন বেশি ধ্বংসাত্মক হয়ে থাকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্ধকারের মধ্যে ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে শুরু করেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে গ্রামবাসীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

তিব্বত বরাবরই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। ২০২৩ সালে চীনের কাছাকাছি অবস্থিত পার্বত্য গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

এরও দুই মাসের কম সময় আগে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে তিব্বত ও নেপাল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। ওই দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

/জেএইচ/