ডলার ছেড়ে কেন স্বর্ণে ঝুঁকছে চীন

ডলার ছেড়ে কেন স্বর্ণে ঝুঁকছে চীন
সিজেডএন ডেস্ক

আর্থিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষার পাশাপাশি মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে গোল্ড রিজার্ভ বা স্বর্ণের মজুদ বাড়িয়েই চলেছে চীন। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি দেশটির সাধারণ পরিবারগুলোও এখন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকেই ঝুঁকছে।
পিপলস ব্যাংক অফ চায়না সেপ্টেম্বরে গত প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এ ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনার পেছনে রয়েছে তাদের বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঘিরে তৈরি হওয়া ঝুঁকি কমানোর দীর্ঘমেয়াদী কৌশল।
বিদেশে অর্থ রাখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড পরিমাণ ঋণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু দেশের সম্পদ পশ্চিমা সরকারগুলোর জব্দ করার ঘটনা এ ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। উদীয়মান বাজার এবং গ্লোবাল সাউথের অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য বিষয়টি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। সে জায়গায় স্বর্ণ কিনে নিজ দেশে সঞ্চয় করা অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ নিজ ভূখণ্ডে রাখা স্বর্ণের ওপর অন্য কোনো বিদেশি সরকারের হাত বাড়ানোর সুযোগ থাকে না।

চীন ঠিক কী পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই তাদের মজুদে প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ যোগ করেছে। এর ফলে তাদের ঘোষিত মোট স্বর্ণের মজুদ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪১০ টনে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটিই ছিল তাদের এক মাসের সবচেয়ে বড় ক্রয়। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ চীনের মোট সরকারি রিজার্ভের ৮.৫ শতাংশ স্বর্ণ, ২০২৪ সালের শেষেও এটি ছিল মাত্র ৫.৫ শতাংশ।
শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নয়, চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের হিসেব বলছে, চীনের সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনার আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশটির বাজারে ব্যক্তিগতভাবে স্বর্ণ কেনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৮.৪ শতাংশ বেড়েছে। এমনকি এ মাসে বাজারে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ৮.৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পরও ক্রয়ের ধারাবাহিকতা থামেনি।
স্বর্ণের দাম খানিকটা কমার পেছনে শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্টের সরকারি ঋণের উচ্চ মুনাফাকে দায়ী করেছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। মুদ্রাস্ফীতি সামলাতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোয় ডলার ও সরকারি বন্ডের মতো মাধ্যমগুলো ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল, কারণ এগুলো থেকে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়। অন্যদিকে স্বর্ণ ধরে রাখলে সেখান থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা আসে না।

চীন কেন বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কিনছে
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টভিত্তিক কমার্জব্যাংকের পণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান থু ল্যান নগুয়েন মনে করেন, চীনের এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্যই হলো ‘ট্রেজারি’ নামে পরিচিত মার্কিন সরকারি ঋণের ওপর নিজেদের অতি-নির্ভরতা কমানো।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের নেওয়া একটি পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চোখ খুলে দিয়েছে। সে সময় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সম্পদ রাতারাতি জব্দ করে। এ ঘটনা প্রমাণ করেছে, অন্য দেশের ব্যাংকে গচ্ছিত রিজার্ভ সংকটের মুহূর্তে কত দ্রুত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরষ্ট্রের ওপর বিশাল ঋণের বোঝাও বিশ্ববাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। চলতি বছরের শুরুতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মার্কিন কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস পূর্বাভাস দিয়েছিল, জনগণের হাতে থাকা তাদের ফেডারেল ঋণ ২০২৬ সালে সে দেশের অর্থনীতি বা জিডিপির ১০১ শতাংশে দাঁড়াবে। ২০৩৬ সালের মধ্যে ১২০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলবে। ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপদে পড়লে এত বিপুল পরিমাণ ঋণ তারা কীভাবে মেটাবে- তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর মার্কিন ঋণের একটি বড় অংশ কিন্তু চীনের হাতেই রয়েছে। তাই তুলনামূলক কম ঝুঁকি ও স্থিতিশীল সম্পদ হিসেবে সোনাই এখন বেইজিংয়ের সেরা পছন্দ।
অন্যদিকে, সাধারণ চীনা পরিবারগুলোর স্বর্ণ কেনার পেছনে কাজ করছে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। স্থানীয় শেয়ারবাজার, আবাসন বা অন্যান্য খাতে যখন বিনিয়োগের ভরসা কমে যায়, তখন মানুষ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নেয়। চীনে শেয়ার বাজারের মন্দা এবং আবাসন খাতের চরম সংকট সাধারণ মানুষকে বেশি অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। অতিরিক্ত নির্মাণ ও ঋণের চাপে চীনের আবাসন খাতে ধস নেমেছে এবং ঘরবাড়ির দাম দিন দিন কমছে। এক সময়ের লাভজনক আবাসন খাত এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষ এখন স্বর্ণের বার ও মুদ্রার দিকেই ঝুঁকছে।

মার্কিন ডলারে কি এর প্রভাব পড়বে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চীন স্বর্ণ বাড়ালেই যে রাতারাতি বিশ্ববাজারে ডলারের প্রভাব শেষ হয়ে যাবে- এমনটি ভাবা ভুল হবে। তবে এ পরিবর্তন খুব ধীরগতির হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। চীনসহ অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি এখন মার্কিন সরকারি বন্ড কেনা কমিয়ে সে অর্থ দিয়ে স্বর্ণ কেনা বাড়িয়ে দেয়, তবে বাজারে মার্কিন ঋণের চাহিদা কিছুটা হলেও কমবে। এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে কতগুলো দেশ এবং কতটা দ্রুত এ পথ অনুসরণ করে তার ওপর।
তাছাড়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লেনদেন পরিচালনায় এখনো ডলারই সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর মাধ্যম। স্বর্ণ দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে মজবুত করলেও, দৈনন্দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার রিজার্ভের সব সুবিধা হঠাৎ করে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।

চীন ছাড়াও আর কারা স্বর্ণ কিনছে
চীন একা নয়, বরং বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও স্বর্ণ কেনার দিকে ঝুঁকছে।
নগুয়েন বলেন, এ প্রবণতাটি বিশেষ করে উদীয়মান বাজারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে লক্ষণীয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা পুরো বিষয়টির একটি অংশ মাত্র।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডও স্বর্ণের বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের হিসেব বলছে, পোল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩১ টন এবং জুলাইয়ে আরও ৮ টন স্বর্ণ নিজেদের ভল্টে যুক্ত করেছে।
তবে অনেক দেশের হাতে বিপুল স্বর্ণ থাকলেও তারা যে প্রতি মাসেই নতুন স্বর্ণ কিনছে, তা নয়। যেমন ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, জুন পর্যন্ত তাদের স্বর্ণের মজুদ প্রায় ৮৮০.৫ টনেই অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৪ সালে ভারত যেখানে ৭৩ টন স্বর্ণ কিনেছিল, সেখানে ২০২৫ সালের পুরোটাজুড়ে তারা মাত্র চার টনের মতো স্বর্ণ যোগ করেছে নিজেদের ভল্টে।
টানা স্বর্ণ কিনলেও চীন মজুদের দিক থেকে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশ পিছিয়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চীনের আনুমানিক মোট স্বর্ণের মজুদ দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ টন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৮ হাজার ১৩৩ টনের তিন ভাগের এক ভাগও নয়।
সূত্র: আল জাজিরা

আর্থিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষার পাশাপাশি মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে গোল্ড রিজার্ভ বা স্বর্ণের মজুদ বাড়িয়েই চলেছে চীন। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি দেশটির সাধারণ পরিবারগুলোও এখন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকেই ঝুঁকছে।
পিপলস ব্যাংক অফ চায়না সেপ্টেম্বরে গত প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এ ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনার পেছনে রয়েছে তাদের বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঘিরে তৈরি হওয়া ঝুঁকি কমানোর দীর্ঘমেয়াদী কৌশল।
বিদেশে অর্থ রাখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড পরিমাণ ঋণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু দেশের সম্পদ পশ্চিমা সরকারগুলোর জব্দ করার ঘটনা এ ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। উদীয়মান বাজার এবং গ্লোবাল সাউথের অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য বিষয়টি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। সে জায়গায় স্বর্ণ কিনে নিজ দেশে সঞ্চয় করা অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ নিজ ভূখণ্ডে রাখা স্বর্ণের ওপর অন্য কোনো বিদেশি সরকারের হাত বাড়ানোর সুযোগ থাকে না।

চীন ঠিক কী পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই তাদের মজুদে প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ যোগ করেছে। এর ফলে তাদের ঘোষিত মোট স্বর্ণের মজুদ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪১০ টনে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটিই ছিল তাদের এক মাসের সবচেয়ে বড় ক্রয়। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ চীনের মোট সরকারি রিজার্ভের ৮.৫ শতাংশ স্বর্ণ, ২০২৪ সালের শেষেও এটি ছিল মাত্র ৫.৫ শতাংশ।
শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নয়, চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের হিসেব বলছে, চীনের সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনার আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশটির বাজারে ব্যক্তিগতভাবে স্বর্ণ কেনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৮.৪ শতাংশ বেড়েছে। এমনকি এ মাসে বাজারে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ৮.৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পরও ক্রয়ের ধারাবাহিকতা থামেনি।
স্বর্ণের দাম খানিকটা কমার পেছনে শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্টের সরকারি ঋণের উচ্চ মুনাফাকে দায়ী করেছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। মুদ্রাস্ফীতি সামলাতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোয় ডলার ও সরকারি বন্ডের মতো মাধ্যমগুলো ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল, কারণ এগুলো থেকে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়। অন্যদিকে স্বর্ণ ধরে রাখলে সেখান থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা আসে না।

চীন কেন বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কিনছে
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টভিত্তিক কমার্জব্যাংকের পণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান থু ল্যান নগুয়েন মনে করেন, চীনের এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্যই হলো ‘ট্রেজারি’ নামে পরিচিত মার্কিন সরকারি ঋণের ওপর নিজেদের অতি-নির্ভরতা কমানো।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের নেওয়া একটি পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চোখ খুলে দিয়েছে। সে সময় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সম্পদ রাতারাতি জব্দ করে। এ ঘটনা প্রমাণ করেছে, অন্য দেশের ব্যাংকে গচ্ছিত রিজার্ভ সংকটের মুহূর্তে কত দ্রুত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরষ্ট্রের ওপর বিশাল ঋণের বোঝাও বিশ্ববাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। চলতি বছরের শুরুতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মার্কিন কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস পূর্বাভাস দিয়েছিল, জনগণের হাতে থাকা তাদের ফেডারেল ঋণ ২০২৬ সালে সে দেশের অর্থনীতি বা জিডিপির ১০১ শতাংশে দাঁড়াবে। ২০৩৬ সালের মধ্যে ১২০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলবে। ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপদে পড়লে এত বিপুল পরিমাণ ঋণ তারা কীভাবে মেটাবে- তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর মার্কিন ঋণের একটি বড় অংশ কিন্তু চীনের হাতেই রয়েছে। তাই তুলনামূলক কম ঝুঁকি ও স্থিতিশীল সম্পদ হিসেবে সোনাই এখন বেইজিংয়ের সেরা পছন্দ।
অন্যদিকে, সাধারণ চীনা পরিবারগুলোর স্বর্ণ কেনার পেছনে কাজ করছে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। স্থানীয় শেয়ারবাজার, আবাসন বা অন্যান্য খাতে যখন বিনিয়োগের ভরসা কমে যায়, তখন মানুষ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নেয়। চীনে শেয়ার বাজারের মন্দা এবং আবাসন খাতের চরম সংকট সাধারণ মানুষকে বেশি অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। অতিরিক্ত নির্মাণ ও ঋণের চাপে চীনের আবাসন খাতে ধস নেমেছে এবং ঘরবাড়ির দাম দিন দিন কমছে। এক সময়ের লাভজনক আবাসন খাত এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষ এখন স্বর্ণের বার ও মুদ্রার দিকেই ঝুঁকছে।

মার্কিন ডলারে কি এর প্রভাব পড়বে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চীন স্বর্ণ বাড়ালেই যে রাতারাতি বিশ্ববাজারে ডলারের প্রভাব শেষ হয়ে যাবে- এমনটি ভাবা ভুল হবে। তবে এ পরিবর্তন খুব ধীরগতির হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। চীনসহ অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি এখন মার্কিন সরকারি বন্ড কেনা কমিয়ে সে অর্থ দিয়ে স্বর্ণ কেনা বাড়িয়ে দেয়, তবে বাজারে মার্কিন ঋণের চাহিদা কিছুটা হলেও কমবে। এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে কতগুলো দেশ এবং কতটা দ্রুত এ পথ অনুসরণ করে তার ওপর।
তাছাড়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লেনদেন পরিচালনায় এখনো ডলারই সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর মাধ্যম। স্বর্ণ দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে মজবুত করলেও, দৈনন্দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার রিজার্ভের সব সুবিধা হঠাৎ করে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।

চীন ছাড়াও আর কারা স্বর্ণ কিনছে
চীন একা নয়, বরং বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও স্বর্ণ কেনার দিকে ঝুঁকছে।
নগুয়েন বলেন, এ প্রবণতাটি বিশেষ করে উদীয়মান বাজারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে লক্ষণীয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা পুরো বিষয়টির একটি অংশ মাত্র।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডও স্বর্ণের বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের হিসেব বলছে, পোল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩১ টন এবং জুলাইয়ে আরও ৮ টন স্বর্ণ নিজেদের ভল্টে যুক্ত করেছে।
তবে অনেক দেশের হাতে বিপুল স্বর্ণ থাকলেও তারা যে প্রতি মাসেই নতুন স্বর্ণ কিনছে, তা নয়। যেমন ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, জুন পর্যন্ত তাদের স্বর্ণের মজুদ প্রায় ৮৮০.৫ টনেই অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৪ সালে ভারত যেখানে ৭৩ টন স্বর্ণ কিনেছিল, সেখানে ২০২৫ সালের পুরোটাজুড়ে তারা মাত্র চার টনের মতো স্বর্ণ যোগ করেছে নিজেদের ভল্টে।
টানা স্বর্ণ কিনলেও চীন মজুদের দিক থেকে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশ পিছিয়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চীনের আনুমানিক মোট স্বর্ণের মজুদ দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ টন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৮ হাজার ১৩৩ টনের তিন ভাগের এক ভাগও নয়।
সূত্র: আল জাজিরা

ডলার ছেড়ে কেন স্বর্ণে ঝুঁকছে চীন
সিজেডএন ডেস্ক

আর্থিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষার পাশাপাশি মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে গোল্ড রিজার্ভ বা স্বর্ণের মজুদ বাড়িয়েই চলেছে চীন। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি দেশটির সাধারণ পরিবারগুলোও এখন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকেই ঝুঁকছে।
পিপলস ব্যাংক অফ চায়না সেপ্টেম্বরে গত প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এ ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনার পেছনে রয়েছে তাদের বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঘিরে তৈরি হওয়া ঝুঁকি কমানোর দীর্ঘমেয়াদী কৌশল।
বিদেশে অর্থ রাখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড পরিমাণ ঋণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু দেশের সম্পদ পশ্চিমা সরকারগুলোর জব্দ করার ঘটনা এ ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। উদীয়মান বাজার এবং গ্লোবাল সাউথের অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য বিষয়টি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। সে জায়গায় স্বর্ণ কিনে নিজ দেশে সঞ্চয় করা অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ নিজ ভূখণ্ডে রাখা স্বর্ণের ওপর অন্য কোনো বিদেশি সরকারের হাত বাড়ানোর সুযোগ থাকে না।

চীন ঠিক কী পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই তাদের মজুদে প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ যোগ করেছে। এর ফলে তাদের ঘোষিত মোট স্বর্ণের মজুদ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪১০ টনে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটিই ছিল তাদের এক মাসের সবচেয়ে বড় ক্রয়। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ চীনের মোট সরকারি রিজার্ভের ৮.৫ শতাংশ স্বর্ণ, ২০২৪ সালের শেষেও এটি ছিল মাত্র ৫.৫ শতাংশ।
শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নয়, চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের হিসেব বলছে, চীনের সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনার আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশটির বাজারে ব্যক্তিগতভাবে স্বর্ণ কেনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৮.৪ শতাংশ বেড়েছে। এমনকি এ মাসে বাজারে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ৮.৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পরও ক্রয়ের ধারাবাহিকতা থামেনি।
স্বর্ণের দাম খানিকটা কমার পেছনে শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্টের সরকারি ঋণের উচ্চ মুনাফাকে দায়ী করেছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। মুদ্রাস্ফীতি সামলাতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোয় ডলার ও সরকারি বন্ডের মতো মাধ্যমগুলো ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল, কারণ এগুলো থেকে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়। অন্যদিকে স্বর্ণ ধরে রাখলে সেখান থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা আসে না।

চীন কেন বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কিনছে
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টভিত্তিক কমার্জব্যাংকের পণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান থু ল্যান নগুয়েন মনে করেন, চীনের এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্যই হলো ‘ট্রেজারি’ নামে পরিচিত মার্কিন সরকারি ঋণের ওপর নিজেদের অতি-নির্ভরতা কমানো।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণকে কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের নেওয়া একটি পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চোখ খুলে দিয়েছে। সে সময় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সম্পদ রাতারাতি জব্দ করে। এ ঘটনা প্রমাণ করেছে, অন্য দেশের ব্যাংকে গচ্ছিত রিজার্ভ সংকটের মুহূর্তে কত দ্রুত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরষ্ট্রের ওপর বিশাল ঋণের বোঝাও বিশ্ববাজারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। চলতি বছরের শুরুতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মার্কিন কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস পূর্বাভাস দিয়েছিল, জনগণের হাতে থাকা তাদের ফেডারেল ঋণ ২০২৬ সালে সে দেশের অর্থনীতি বা জিডিপির ১০১ শতাংশে দাঁড়াবে। ২০৩৬ সালের মধ্যে ১২০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলবে। ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপদে পড়লে এত বিপুল পরিমাণ ঋণ তারা কীভাবে মেটাবে- তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর মার্কিন ঋণের একটি বড় অংশ কিন্তু চীনের হাতেই রয়েছে। তাই তুলনামূলক কম ঝুঁকি ও স্থিতিশীল সম্পদ হিসেবে সোনাই এখন বেইজিংয়ের সেরা পছন্দ।
অন্যদিকে, সাধারণ চীনা পরিবারগুলোর স্বর্ণ কেনার পেছনে কাজ করছে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। স্থানীয় শেয়ারবাজার, আবাসন বা অন্যান্য খাতে যখন বিনিয়োগের ভরসা কমে যায়, তখন মানুষ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নেয়। চীনে শেয়ার বাজারের মন্দা এবং আবাসন খাতের চরম সংকট সাধারণ মানুষকে বেশি অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। অতিরিক্ত নির্মাণ ও ঋণের চাপে চীনের আবাসন খাতে ধস নেমেছে এবং ঘরবাড়ির দাম দিন দিন কমছে। এক সময়ের লাভজনক আবাসন খাত এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষ এখন স্বর্ণের বার ও মুদ্রার দিকেই ঝুঁকছে।

মার্কিন ডলারে কি এর প্রভাব পড়বে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চীন স্বর্ণ বাড়ালেই যে রাতারাতি বিশ্ববাজারে ডলারের প্রভাব শেষ হয়ে যাবে- এমনটি ভাবা ভুল হবে। তবে এ পরিবর্তন খুব ধীরগতির হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। চীনসহ অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি এখন মার্কিন সরকারি বন্ড কেনা কমিয়ে সে অর্থ দিয়ে স্বর্ণ কেনা বাড়িয়ে দেয়, তবে বাজারে মার্কিন ঋণের চাহিদা কিছুটা হলেও কমবে। এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে কতগুলো দেশ এবং কতটা দ্রুত এ পথ অনুসরণ করে তার ওপর।
তাছাড়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লেনদেন পরিচালনায় এখনো ডলারই সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর মাধ্যম। স্বর্ণ দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে মজবুত করলেও, দৈনন্দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার রিজার্ভের সব সুবিধা হঠাৎ করে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।

চীন ছাড়াও আর কারা স্বর্ণ কিনছে
চীন একা নয়, বরং বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও স্বর্ণ কেনার দিকে ঝুঁকছে।
নগুয়েন বলেন, এ প্রবণতাটি বিশেষ করে উদীয়মান বাজারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে লক্ষণীয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা পুরো বিষয়টির একটি অংশ মাত্র।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডও স্বর্ণের বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের হিসেব বলছে, পোল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩১ টন এবং জুলাইয়ে আরও ৮ টন স্বর্ণ নিজেদের ভল্টে যুক্ত করেছে।
তবে অনেক দেশের হাতে বিপুল স্বর্ণ থাকলেও তারা যে প্রতি মাসেই নতুন স্বর্ণ কিনছে, তা নয়। যেমন ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, জুন পর্যন্ত তাদের স্বর্ণের মজুদ প্রায় ৮৮০.৫ টনেই অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৪ সালে ভারত যেখানে ৭৩ টন স্বর্ণ কিনেছিল, সেখানে ২০২৫ সালের পুরোটাজুড়ে তারা মাত্র চার টনের মতো স্বর্ণ যোগ করেছে নিজেদের ভল্টে।
টানা স্বর্ণ কিনলেও চীন মজুদের দিক থেকে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশ পিছিয়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চীনের আনুমানিক মোট স্বর্ণের মজুদ দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ টন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৮ হাজার ১৩৩ টনের তিন ভাগের এক ভাগও নয়।
সূত্র: আল জাজিরা









