বিশ্ব ডিম দিবস আজ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
ডিম। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আজ ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডিম দিবস। পুষ্টিগুণ, সহজলভ্যতা ও খাদ্যনিরাপত্তায় ডিমের অবদান তুলে ধরতে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’।

১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন (বাংলাদেশ শাখা) ও বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও আলোচনা সভা।

বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণ ডিমের চাহিদা রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদনের ভিত্তিতে বছরে একজন মানুষের জন্য প্রায় ১৪০টি ডিমের প্রাপ্যতা রয়েছে। তবে পুষ্টিচাহিদার তুলনায় এ প্রাপ্যতা এখনো কম।

২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা বছরে ২০৮টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। সে হিসাবে আগামী ৪ বছরে মাথাপিছু প্রাপ্যতা প্রায় ৬৮টি বাড়াতে হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, গত কয়েক বছরে দেশে ডিমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিগত ১০ বছরে ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির হার প্রায় ৬৮ শতাংশ।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং শিশু-কিশোরদের পুষ্টিচাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিমের উৎপাদন বাড়ানো জরুরি বলে জানিয়েছে পোলট্রি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)।

বিশ্ব ডিম দিবসে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ডিম থেকে সাধারণত প্রায় ৭৭ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এতে উচ্চমানের আমিষের পাশাপাশি আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফলেট, দস্তা ও ভিটামিন ডি রয়েছে। চোখের সুস্থতার জন্য ডিমে প্রয়োজনীয় লুটিন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো উপাদানও রয়েছে।

ডিম শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে এবং বিপাকীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। এতে ওমেগা-৩-এর মতো প্রয়োজনীয় চর্বিও পাওয়া যায়। সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের খাদ্যতালিকায় ডিম গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। মুরগির ডিম সবচেয়ে বেশি খাওয়া হলেও হাঁস, কোয়েল ও রাজহাঁসের ডিমও জনপ্রিয়।

/জেএইচ/