ভারতের কাছে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

ভারতের কাছে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ
সিজেডএন ডেস্ক

ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করা, স্থলবন্দরভিত্তিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ দূর করা এবং পাটপণ্য ও পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (পিইটি) ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধও জানিয়েছে ঢাকা।
ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দুই দিনের বৈঠক শুক্রবার শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আলোচনার বিষয়গুলো জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা, সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও খালাসের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শুল্কসুবিধা ধরে রাখার চেষ্টা
বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে রপ্তানিপণ্যের শুল্কসুবিধা ধরে রাখা। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় বর্তমানে পাওয়া সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভারতের বাজারে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্কের পাশাপাশি অশুল্ক বাধা ও অন্যান্য বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পণ্যের মান নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, মানসংক্রান্ত সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের প্রস্তাবও তোলা হয়েছে।
স্থলবন্দর ও আঞ্চলিক যোগাযোগে গুরুত্ব
বাণিজ্য সম্প্রসারণে সীমান্তের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোতে প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম, পণ্য রাখার শেড এবং পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।
পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং সীমান্তবর্তী বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় এনেছে নয়াদিল্লি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির বাধা দূর করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া আখাউড়া-আগরতলা সংযোগ, দুই দেশের রেলপথে পণ্য পরিবহন এবং সীমান্ত হাটের কার্যক্রমসংক্রান্ত বিষয়গুলো বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল।
দেড় বছরের বিরতির পর বৈঠক
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক সাধারণত বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হলে নিয়মিত এই বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
এর মধ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে দেয়। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ চালু রাখা হয়।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা নিরসন এবং স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক করার উদ্যোগ বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।

ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করা, স্থলবন্দরভিত্তিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ দূর করা এবং পাটপণ্য ও পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (পিইটি) ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধও জানিয়েছে ঢাকা।
ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দুই দিনের বৈঠক শুক্রবার শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আলোচনার বিষয়গুলো জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা, সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও খালাসের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শুল্কসুবিধা ধরে রাখার চেষ্টা
বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে রপ্তানিপণ্যের শুল্কসুবিধা ধরে রাখা। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় বর্তমানে পাওয়া সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভারতের বাজারে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্কের পাশাপাশি অশুল্ক বাধা ও অন্যান্য বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পণ্যের মান নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, মানসংক্রান্ত সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের প্রস্তাবও তোলা হয়েছে।
স্থলবন্দর ও আঞ্চলিক যোগাযোগে গুরুত্ব
বাণিজ্য সম্প্রসারণে সীমান্তের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোতে প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম, পণ্য রাখার শেড এবং পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।
পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং সীমান্তবর্তী বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় এনেছে নয়াদিল্লি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির বাধা দূর করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া আখাউড়া-আগরতলা সংযোগ, দুই দেশের রেলপথে পণ্য পরিবহন এবং সীমান্ত হাটের কার্যক্রমসংক্রান্ত বিষয়গুলো বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল।
দেড় বছরের বিরতির পর বৈঠক
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক সাধারণত বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হলে নিয়মিত এই বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
এর মধ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে দেয়। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ চালু রাখা হয়।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা নিরসন এবং স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক করার উদ্যোগ বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।

ভারতের কাছে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ
সিজেডএন ডেস্ক

ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করা, স্থলবন্দরভিত্তিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ দূর করা এবং পাটপণ্য ও পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (পিইটি) ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধও জানিয়েছে ঢাকা।
ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দুই দিনের বৈঠক শুক্রবার শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আলোচনার বিষয়গুলো জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা, সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও খালাসের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শুল্কসুবিধা ধরে রাখার চেষ্টা
বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে রপ্তানিপণ্যের শুল্কসুবিধা ধরে রাখা। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় বর্তমানে পাওয়া সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভারতের বাজারে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্কের পাশাপাশি অশুল্ক বাধা ও অন্যান্য বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পণ্যের মান নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, মানসংক্রান্ত সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের প্রস্তাবও তোলা হয়েছে।
স্থলবন্দর ও আঞ্চলিক যোগাযোগে গুরুত্ব
বাণিজ্য সম্প্রসারণে সীমান্তের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোতে প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম, পণ্য রাখার শেড এবং পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।
পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং সীমান্তবর্তী বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় এনেছে নয়াদিল্লি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির বাধা দূর করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া আখাউড়া-আগরতলা সংযোগ, দুই দেশের রেলপথে পণ্য পরিবহন এবং সীমান্ত হাটের কার্যক্রমসংক্রান্ত বিষয়গুলো বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল।
দেড় বছরের বিরতির পর বৈঠক
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক সাধারণত বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হলে নিয়মিত এই বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
এর মধ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে দেয়। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ চালু রাখা হয়।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা নিরসন এবং স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক করার উদ্যোগ বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।









