রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকেই শীর্ষ পদ শূন্য, এমডি নিয়োগে শর্ত শিথিল

রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকেই শীর্ষ পদ শূন্য, এমডি নিয়োগে শর্ত শিথিল
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি পদ এখন শূন্য। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়োগের যোগ্যতার শর্তই শিথিল করেছে সরকার। নতুন নীতিমালায় বিশেষ দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা থাকলে এমডি পদের ঠিক আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা না থাকলেও কাউকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা যাবে। অন্যদিকে, সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকটও ভয়াবহ। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশই এখন খেলাপি।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। গতকাল জারি করা ২০২৬ সালের এ নীতিমালায় গত ২৬ জুলাই প্রকাশিত আগের নীতিমালাটি বাতিল করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হতে হলে ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে অন্তত ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীকে আগে কোনো ব্যাংকের এমডি বা সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, অথবা ওই পদের ঠিক আগের পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে বিশেষ পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, সুনাম ও অন্যান্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা থাকলে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা সম্ভব হবে। ফলে ডিএমডি পদে দুই বছর পূর্ণ না করলেও যোগ্য কর্মকর্তাদের এমডি হওয়ার পথ খুলছে।
এ পদের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। চাকরিজীবনে সততা, সুনাম ও সন্তোষজনক কর্মদক্ষতার রেকর্ড থাকতে হবে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকতে হবে।
এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশের পাশাপাশি প্রার্থীর গোয়েন্দা তথ্য ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদন যাচাই করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে প্রার্থী মনোনীত হবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি সাপেক্ষে তার সঙ্গে চুক্তি করবে। নিয়োগের মেয়াদ হবে তিন বছর। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ও পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশে পুনর্নিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে।
তবে বিশেষায়িত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে আগের অভিজ্ঞতার শর্ত বহাল থাকছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ডিএমডি হিসেবে কমপক্ষে দুই বছর কাজ করার পাশাপাশি নবম গ্রেড থেকে অন্তত ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিলের সুযোগটি সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এক নয়।
এদিকে এমডি নিয়োগের নিয়ম পরিবর্তনের দিনই সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর অগ্রণী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএলের এমডিদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল। ফলে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনোটিতেই এখন এমডি নেই। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার এসব ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগ দিয়েছিল।
সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খানকে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবর রহমান ওই বছরের ৭ নভেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আর রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম দায়িত্বে ছিলেন ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের পৃথক আদেশে তাদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়।
সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থাও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি ব্যাংকের মোট ঋণ ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণ করা ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৯ শতাংশই আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সোনালী ব্যাংক ছাড়া বাকি আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক লোকসানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে মূলধন ঘাটতিও বড় আকার ধারণ করেছে।
একসময় সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে পরিচিত জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতি এখন বেশ বাজে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির নিট লোকসান ছিল ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকায়। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ এখন ৭৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৫ শতাংশের বেশি। মূলধন ঘাটতিও ৬৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের প্রায় ৪৪ শতাংশ খেলাপি। গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায়। এসব ঋণ থেকে আয় না আসায় ব্যাংকটি লোকসানে পড়েছে। অন্যদিকে, রূপালী ব্যাংক চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৪০ কোটি টাকা পরিচালন লোকসান করেছে। ২০০৯ সালের পর লুটপাটের শিকার হওয়া বেসিক ব্যাংক ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসান দিয়ে আসছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে ব্যাংকটির নিট লোকসান জমেছে ৬ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা।
তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণও কম নয়। গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি ৫ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা পরিচালন আয় করেছে। তবে এ আয়ের ৮৩ শতাংশের বেশি এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ থেকে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি পদ এখন শূন্য। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়োগের যোগ্যতার শর্তই শিথিল করেছে সরকার। নতুন নীতিমালায় বিশেষ দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা থাকলে এমডি পদের ঠিক আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা না থাকলেও কাউকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা যাবে। অন্যদিকে, সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকটও ভয়াবহ। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশই এখন খেলাপি।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। গতকাল জারি করা ২০২৬ সালের এ নীতিমালায় গত ২৬ জুলাই প্রকাশিত আগের নীতিমালাটি বাতিল করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হতে হলে ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে অন্তত ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীকে আগে কোনো ব্যাংকের এমডি বা সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, অথবা ওই পদের ঠিক আগের পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে বিশেষ পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, সুনাম ও অন্যান্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা থাকলে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা সম্ভব হবে। ফলে ডিএমডি পদে দুই বছর পূর্ণ না করলেও যোগ্য কর্মকর্তাদের এমডি হওয়ার পথ খুলছে।
এ পদের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। চাকরিজীবনে সততা, সুনাম ও সন্তোষজনক কর্মদক্ষতার রেকর্ড থাকতে হবে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকতে হবে।
এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশের পাশাপাশি প্রার্থীর গোয়েন্দা তথ্য ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদন যাচাই করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে প্রার্থী মনোনীত হবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি সাপেক্ষে তার সঙ্গে চুক্তি করবে। নিয়োগের মেয়াদ হবে তিন বছর। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ও পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশে পুনর্নিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে।
তবে বিশেষায়িত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে আগের অভিজ্ঞতার শর্ত বহাল থাকছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ডিএমডি হিসেবে কমপক্ষে দুই বছর কাজ করার পাশাপাশি নবম গ্রেড থেকে অন্তত ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিলের সুযোগটি সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এক নয়।
এদিকে এমডি নিয়োগের নিয়ম পরিবর্তনের দিনই সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর অগ্রণী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএলের এমডিদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল। ফলে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনোটিতেই এখন এমডি নেই। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার এসব ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগ দিয়েছিল।
সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খানকে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবর রহমান ওই বছরের ৭ নভেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আর রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম দায়িত্বে ছিলেন ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের পৃথক আদেশে তাদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়।
সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থাও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি ব্যাংকের মোট ঋণ ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণ করা ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৯ শতাংশই আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সোনালী ব্যাংক ছাড়া বাকি আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক লোকসানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে মূলধন ঘাটতিও বড় আকার ধারণ করেছে।
একসময় সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে পরিচিত জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতি এখন বেশ বাজে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির নিট লোকসান ছিল ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকায়। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ এখন ৭৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৫ শতাংশের বেশি। মূলধন ঘাটতিও ৬৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের প্রায় ৪৪ শতাংশ খেলাপি। গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায়। এসব ঋণ থেকে আয় না আসায় ব্যাংকটি লোকসানে পড়েছে। অন্যদিকে, রূপালী ব্যাংক চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৪০ কোটি টাকা পরিচালন লোকসান করেছে। ২০০৯ সালের পর লুটপাটের শিকার হওয়া বেসিক ব্যাংক ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসান দিয়ে আসছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে ব্যাংকটির নিট লোকসান জমেছে ৬ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা।
তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণও কম নয়। গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি ৫ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা পরিচালন আয় করেছে। তবে এ আয়ের ৮৩ শতাংশের বেশি এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ থেকে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকেই শীর্ষ পদ শূন্য, এমডি নিয়োগে শর্ত শিথিল
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি পদ এখন শূন্য। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়োগের যোগ্যতার শর্তই শিথিল করেছে সরকার। নতুন নীতিমালায় বিশেষ দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা থাকলে এমডি পদের ঠিক আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা না থাকলেও কাউকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা যাবে। অন্যদিকে, সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকটও ভয়াবহ। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশই এখন খেলাপি।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। গতকাল জারি করা ২০২৬ সালের এ নীতিমালায় গত ২৬ জুলাই প্রকাশিত আগের নীতিমালাটি বাতিল করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হতে হলে ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে অন্তত ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীকে আগে কোনো ব্যাংকের এমডি বা সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, অথবা ওই পদের ঠিক আগের পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে বিশেষ পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, সুনাম ও অন্যান্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা থাকলে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা সম্ভব হবে। ফলে ডিএমডি পদে দুই বছর পূর্ণ না করলেও যোগ্য কর্মকর্তাদের এমডি হওয়ার পথ খুলছে।
এ পদের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। চাকরিজীবনে সততা, সুনাম ও সন্তোষজনক কর্মদক্ষতার রেকর্ড থাকতে হবে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকতে হবে।
এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশের পাশাপাশি প্রার্থীর গোয়েন্দা তথ্য ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদন যাচাই করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে প্রার্থী মনোনীত হবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি সাপেক্ষে তার সঙ্গে চুক্তি করবে। নিয়োগের মেয়াদ হবে তিন বছর। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ও পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশে পুনর্নিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে।
তবে বিশেষায়িত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে আগের অভিজ্ঞতার শর্ত বহাল থাকছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ডিএমডি হিসেবে কমপক্ষে দুই বছর কাজ করার পাশাপাশি নবম গ্রেড থেকে অন্তত ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিলের সুযোগটি সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এক নয়।
এদিকে এমডি নিয়োগের নিয়ম পরিবর্তনের দিনই সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর অগ্রণী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএলের এমডিদের চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল। ফলে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনোটিতেই এখন এমডি নেই। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার এসব ব্যাংকের এমডিদের নিয়োগ দিয়েছিল।
সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খানকে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবর রহমান ওই বছরের ৭ নভেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আর রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম দায়িত্বে ছিলেন ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের পৃথক আদেশে তাদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়।
সরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থাও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি ব্যাংকের মোট ঋণ ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণ করা ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৯ শতাংশই আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সোনালী ব্যাংক ছাড়া বাকি আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক লোকসানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে মূলধন ঘাটতিও বড় আকার ধারণ করেছে।
একসময় সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে পরিচিত জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতি এখন বেশ বাজে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির নিট লোকসান ছিল ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকায়। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ এখন ৭৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৫ শতাংশের বেশি। মূলধন ঘাটতিও ৬৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের প্রায় ৪৪ শতাংশ খেলাপি। গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায়। এসব ঋণ থেকে আয় না আসায় ব্যাংকটি লোকসানে পড়েছে। অন্যদিকে, রূপালী ব্যাংক চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৪০ কোটি টাকা পরিচালন লোকসান করেছে। ২০০৯ সালের পর লুটপাটের শিকার হওয়া বেসিক ব্যাংক ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসান দিয়ে আসছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে ব্যাংকটির নিট লোকসান জমেছে ৬ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা।
তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণও কম নয়। গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি ৫ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা পরিচালন আয় করেছে। তবে এ আয়ের ৮৩ শতাংশের বেশি এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ থেকে।








