শিরোনাম

চালুর আগেই অচল ৪২ লাখ টাকার সৌরচালিত সেচ প্রকল্প

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা প্রতিনিধি
চালুর আগেই অচল ৪২ লাখ টাকার সৌরচালিত সেচ প্রকল্প
সৌরচালিত সেচ প্রকল্পের মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় প্রায় ৪২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা একটি সৌরচালিত সেচ প্রকল্প চালু হওয়ার আগেই অচল হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের জন্য নেওয়া উদ্যোগটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে ইছামতি নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় খনন করা নদীর পানি কৃষিজমিতে পৌঁছে দিতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর দুটি সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের কাজ শুরু করে। ২০২৪ সালের ২৮ মে নির্মাণকাজ শেষ হলেও চালুর আগেই পাম্প দুটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পাম্পগুলোর সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে, ইছামতি নদীর তীরবর্তী শ্রীপুর এলাকায় স্থাপিত আরও দুটি সৌরচালিত সেচ পাম্পেও।

কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের স্থান নির্বাচন শুরু থেকেই যথাযথ ছিল না। ধানখেতের বদলে সবজি চাষের এলাকায় পাম্প বসানো হলে কৃষকরা বেশি উপকৃত হতেন। এর মধ্যেই যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় পুরো উদ্যোগই মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বিএমডিএ ইছামতি নদীর ভূ-উপরিস্থ পানি সেচকাজে ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৪২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে এই সৌরচালিত সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। তবে চালুর আগেই যন্ত্রাংশ চুরি ও প্রকল্প অচল হয়ে পড়ায় সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কৃষক আবুল কাশেম বলেন, চুরি হয়ে যায় তার, ওরা আবার লাগায়, আবার চুরি হয়ে যায় তার। আমরা জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে পড়েছি বিপদে।

স্থানীয় কৃষক আক্কাস আলী বলেন, মোটামুটি সব কমপ্লিট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু লাইন টানার আগেই তারগুলো চুরি করে নিয়ে গেলো। তারপর থেকে কোনো তদারকি না থাকায় দিনের পর দিন সব জিনিসই প্রায় চুরি হয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষক মানিক হোসেন বলেন, আমরা ফসল আবাদ করার জন্য পানি পায় না। পাম্পগুলো চালু হলে আমাদের খুব উপকার হতো। তার ও যন্ত্রাংশ চুরি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ দ্রুত পাম্পটি চালু করার দাবি জানাচ্ছি।

সৌরচালিত সেচ প্রকল্পের ঠিকাদার রুহুল হোসেন বলেন, দুই দফায় তার ও যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ায় আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আংশিক বিল এখনো বাকি আছে। প্রথমবার তার ও যন্ত্রাংশ চুরির ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম এবার তার ও যন্ত্রাংশ আবার চুরি হয়েছে। এবার আমার পক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব না।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুন্নাহার বলেন, সেচ পাম্পের যন্ত্রাংশ চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এফআর/