‘স্বচ্ছতার’ লটারিতেও সুবিধা পেলেন যে নির্বাহী প্রকৌশলীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
‘স্বচ্ছতার’ লটারিতেও সুবিধা পেলেন যে নির্বাহী প্রকৌশলীরা
নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে আয়োজিত লটারি অনুষ্ঠান

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে আজ নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে এই লটারির বাইরে থেকে যান তিন প্রভাবশালী নির্বাহী প্রকৌশলী। তারা ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়নে আছেন। তারা হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের সচিবালয়ে কর্মরত (ই/এম-৪) নিয়াজ মো. তানভীর আলম, ইডেন বিভাগে কর্মরত (সচিবালয়) মুনতাসির মামুন এবং সংসদে কর্মরত (ই/এম-৭) রিসালাত বারী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে সরাসরি লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়। তাদের মধ্যে ১১৬ জন সিভিল ও ৩৯ জন ই/এম বিভাগের কর্মকর্তা। লটারিতে বেশ কয়েকটি রঙের বক্স রাখা হয়। এত বক্সের ব্যবহার নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। গণপূর্তের সংস্থাপন শাখা থেকে মাজহারুল ইসলাম ও মো. জিয়াউর রহমানকে শেরেবাংলা নগর ১ ও ২ এ নতুন করে পদায়ন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সচিবালয়ে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলম (বিসিএস ২৮) বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম-৪ এ কর্মরত রয়েছেন। তিনি খুলনার সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের ভাতিজা। এর আগে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম-৩ ও ই/এম-৬ এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইডেন বিভাগে কর্মরত (সচিবালয়)। তিনি ২৭তম বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের কর্মকর্তা। এর আগে, ইডেন গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, ঢাকা-এ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারও আগে তিনি গণপূর্ত প্রকল্প বিভাগ-৩, ঢাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া, নির্বাহী প্রকৌশলী রিসালাত বারী ই/এম-৭ এ (সংসদ) কর্মরত। বিসিএস ৩২তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের এক নেতার স্ত্রী। তিনি একই স্টেশনে চার বছরের বেশি সময় ধরে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক এক মুখ্য সচিবের নিকট আত্মীয় পরিচয়ে তিনি এখানে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মহাখালী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবুল ইসলামকে ডিভিশন-১ এ পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক প্রকৌশলীর মতে, রাজিবুল ইসলাম প্রকৌশলীদের সংগঠনের শীর্ষ এক নেতাকে দিয়ে তদবির করিয়েছেন। তিনি এর আগেও ঢাকা বিভাগ ১ এবং নগর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অন্যদিকে, নিয়াজ মো. তানভীর আলম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদবির করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘কিছু জায়গা স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই হঠাৎ করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যাচ্ছে না। সেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিয়েই এই বদলি ও পদায়ন করেছে।’

তিন প্রকৌশলীকে কেন লটারির আওতায় আনা হয়নি? জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন-২) মো. সারোয়ার আলম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘ভিআইপি কেপিআইভুক্ত চার এলাকা- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও জাতীয় সংসদের নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির বাইরে রাখা হয়েছে।’

এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব জায়গায় যাতে ফ্যাসিস্টদের মধ্য থেকে কেউ আসতে না পারে সেজন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সারোয়ার আলম আরও বলেন, ‘যেসব প্রকৌশলীকে লটারির আওতায় আনা হয়নি তাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এরপরও কোনো অভিযোগ এলে, তখন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এফআর/