এ বছরের সেরা ইমোজি কোনটি

এ বছরের সেরা ইমোজি কোনটি
সিজেডএন ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্যক্তিগত বার্তা,অনলাইন দুনিয়ায় মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইমোজি। কখনো আনন্দ, কখনো হতাশা, আবার কখনো ব্যঙ্গ কিংবা বিস্ময় বোঝাতে কয়েকটি ছোট্ট প্রতীকই যথেষ্ট। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এসব প্রতীকের ব্যবহার। একসময় বহুল ব্যবহৃত ইমোজিগুলোর জায়গা দখল করছে নতুন ও ব্যতিক্রমী কিছু চিহ্ন। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়া হলুদ মুখের ইমোজিটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
অবাক করা বিষয় হলো, এই ইমোজির ব্যবহার শুধু দুঃখ প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুর নতুন চাকরির খবর, অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা কিংবা পোষা প্রাণীর ছোটখাটো কাণ্ড, বিভিন্ন পরিস্থিতিতেই দেখা যাচ্ছে একই ইমোজির উপস্থিতি।
এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের জনপ্রিয়তার তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে চোখের কোণে অশ্রু জমে থাকা এই হলুদ মুখ। ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের উদাহরণেও এর ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।
একসময় অট্টহাসিতে চোখে পানি আসা কিংবা কাত হয়ে হাসতে থাকা ইমোজি ছিল অনলাইন কথোপকথনের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক। কিন্তু দীর্ঘদিনের অতিব্যবহারে এগুলোর আবেদন অনেকের কাছে কমে গেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব ইমোজি এখন পুরোনো ধাঁচের বলে বিবেচিত হচ্ছে। কেউ হাসতে হাসতে মারা যাওয়ার অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত খুলির ইমোজি পাঠালে, সেটিকে নিছক হাস্যরসের বদলে প্রজন্মগত রুচির পার্থক্য হিসেবেও দেখা হতে পারে। একইভাবে বিয়ারের গ্লাস ঠোকাঠুকি, চোখ ঢেকে রাখা বানর কিংবা সানগ্লাস পরা হাসিমুখের মতো পরিচিত প্রতীকও জেন-জিদের কাছে আগের মতো জনপ্রিয় নয়।
২০২৫-২৬ সালে ইমোজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে স্বতন্ত্রতা। একই আবেগ প্রকাশ করলেও কোন প্রতীকটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করছে বার্তার ধরন ও গ্রহণযোগ্যতা।
এদিকে, চলতি বছরের মার্চে ইমোজি কিবোর্ডে যুক্ত হওয়া বিকৃত মুখের প্রতীকটিও নজর কেড়েছে। এর চোখ দুটি মুখের দুই প্রান্তের দিকে সরে থাকায় দেখতে অস্বাভাবিক লাগে। উদ্বেগ, অস্বস্তি, আতঙ্ক কিংবা কোনো পরিস্থিতিতে কী প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, তা বুঝতে না পারার অনুভূতি প্রকাশে এটি ব্যবহার করা যায়। নতুন ধরনের এসব প্রতীক তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে মূলত প্রচলিত অভিব্যক্তির বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ দেওয়ায়।
অনেকের কাছে ইমোজির ব্যবহার এখনো নিছক মজা কিংবা ছেলেমানুষি মনে হতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল যোগাযোগে এগুলোর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সামনাসামনি কথোপকথনে কণ্ঠস্বর, মুখের অভিব্যক্তি ও শারীরিক ভঙ্গি যেভাবে অর্থ প্রকাশ করে, অনলাইন বার্তায় ইমোজি অনেকটা সেই ভূমিকা পালন করে। একটি বাক্যকে আন্তরিক, ব্যঙ্গাত্মক, আবেগপূর্ণ কিংবা হালকা রসিকতাপূর্ণ করে তুলতে পারে একটি ছোট্ট প্রতীক।তবে প্রজন্মভেদে ইমোজি ব্যবহারের ধরনেও পার্থক্য রয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক ব্যক্তিরা তরুণদের তুলনায় কম ইমোজি ব্যবহার করেন। নতুন প্রতীকের অর্থ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা কিংবা এই ধরনের যোগাযোগে অভ্যস্ত না হওয়া এর সম্ভাব্য কারণ। ইমোজির অর্থ ও ব্যবহার সম্পর্কে জানতে আগ্রহীদের জন্য ইমোজিপিডিয়ার মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। ডিজিটাল ভাষার বিকাশ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তার একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ ২০১৫ সালে দেখা যায়। সে বছর অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি বছরের সেরা শব্দ হিসেবে কান্না-হাসির ইমোজিকে নির্বাচন করে। এর মধ্য দিয়ে লিখিত ভাষার পাশাপাশি প্রতীকনির্ভর যোগাযোগের গুরুত্বও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে।
সব মিলিয়ে, বর্তমানে জনপ্রিয় কান্নার ইমোজিটি আনন্দ, দুঃখ, বিস্ময় কিংবা নিছক মজা-কোন অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নির্ভর করে পরিস্থিতি ও ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যের ওপর। একই প্রতীক ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন অনুভূতি তৈরি করতে পারে। টিকটকের এক ব্যবহারকারী বিষয়টি নিয়ে মজা করে বলেছেন, মানুষ সত্যিকারের কান্নার মুহূর্ত বাদে প্রায় সব সময়েই এই ইমোজি ব্যবহার করে।
এই মন্তব্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে আধুনিক ডিজিটাল যোগাযোগের বাস্তবতা। ইমোজির অর্থ এখন আর নির্দিষ্ট কোনো আবেগের মধ্যে আটকে নেই। সময়, প্রজন্ম ও সামাজিক প্রবণতার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এর ব্যবহার। তাই অনলাইনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে শুধু কী বলা হচ্ছে, তা নয়-কোন প্রতীক দিয়ে বলা হচ্ছে, সেটিও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্যক্তিগত বার্তা,অনলাইন দুনিয়ায় মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইমোজি। কখনো আনন্দ, কখনো হতাশা, আবার কখনো ব্যঙ্গ কিংবা বিস্ময় বোঝাতে কয়েকটি ছোট্ট প্রতীকই যথেষ্ট। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এসব প্রতীকের ব্যবহার। একসময় বহুল ব্যবহৃত ইমোজিগুলোর জায়গা দখল করছে নতুন ও ব্যতিক্রমী কিছু চিহ্ন। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়া হলুদ মুখের ইমোজিটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
অবাক করা বিষয় হলো, এই ইমোজির ব্যবহার শুধু দুঃখ প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুর নতুন চাকরির খবর, অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা কিংবা পোষা প্রাণীর ছোটখাটো কাণ্ড, বিভিন্ন পরিস্থিতিতেই দেখা যাচ্ছে একই ইমোজির উপস্থিতি।
এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের জনপ্রিয়তার তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে চোখের কোণে অশ্রু জমে থাকা এই হলুদ মুখ। ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের উদাহরণেও এর ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।
একসময় অট্টহাসিতে চোখে পানি আসা কিংবা কাত হয়ে হাসতে থাকা ইমোজি ছিল অনলাইন কথোপকথনের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক। কিন্তু দীর্ঘদিনের অতিব্যবহারে এগুলোর আবেদন অনেকের কাছে কমে গেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব ইমোজি এখন পুরোনো ধাঁচের বলে বিবেচিত হচ্ছে। কেউ হাসতে হাসতে মারা যাওয়ার অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত খুলির ইমোজি পাঠালে, সেটিকে নিছক হাস্যরসের বদলে প্রজন্মগত রুচির পার্থক্য হিসেবেও দেখা হতে পারে। একইভাবে বিয়ারের গ্লাস ঠোকাঠুকি, চোখ ঢেকে রাখা বানর কিংবা সানগ্লাস পরা হাসিমুখের মতো পরিচিত প্রতীকও জেন-জিদের কাছে আগের মতো জনপ্রিয় নয়।
২০২৫-২৬ সালে ইমোজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে স্বতন্ত্রতা। একই আবেগ প্রকাশ করলেও কোন প্রতীকটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করছে বার্তার ধরন ও গ্রহণযোগ্যতা।
এদিকে, চলতি বছরের মার্চে ইমোজি কিবোর্ডে যুক্ত হওয়া বিকৃত মুখের প্রতীকটিও নজর কেড়েছে। এর চোখ দুটি মুখের দুই প্রান্তের দিকে সরে থাকায় দেখতে অস্বাভাবিক লাগে। উদ্বেগ, অস্বস্তি, আতঙ্ক কিংবা কোনো পরিস্থিতিতে কী প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, তা বুঝতে না পারার অনুভূতি প্রকাশে এটি ব্যবহার করা যায়। নতুন ধরনের এসব প্রতীক তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে মূলত প্রচলিত অভিব্যক্তির বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ দেওয়ায়।
অনেকের কাছে ইমোজির ব্যবহার এখনো নিছক মজা কিংবা ছেলেমানুষি মনে হতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল যোগাযোগে এগুলোর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সামনাসামনি কথোপকথনে কণ্ঠস্বর, মুখের অভিব্যক্তি ও শারীরিক ভঙ্গি যেভাবে অর্থ প্রকাশ করে, অনলাইন বার্তায় ইমোজি অনেকটা সেই ভূমিকা পালন করে। একটি বাক্যকে আন্তরিক, ব্যঙ্গাত্মক, আবেগপূর্ণ কিংবা হালকা রসিকতাপূর্ণ করে তুলতে পারে একটি ছোট্ট প্রতীক।তবে প্রজন্মভেদে ইমোজি ব্যবহারের ধরনেও পার্থক্য রয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক ব্যক্তিরা তরুণদের তুলনায় কম ইমোজি ব্যবহার করেন। নতুন প্রতীকের অর্থ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা কিংবা এই ধরনের যোগাযোগে অভ্যস্ত না হওয়া এর সম্ভাব্য কারণ। ইমোজির অর্থ ও ব্যবহার সম্পর্কে জানতে আগ্রহীদের জন্য ইমোজিপিডিয়ার মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। ডিজিটাল ভাষার বিকাশ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তার একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ ২০১৫ সালে দেখা যায়। সে বছর অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি বছরের সেরা শব্দ হিসেবে কান্না-হাসির ইমোজিকে নির্বাচন করে। এর মধ্য দিয়ে লিখিত ভাষার পাশাপাশি প্রতীকনির্ভর যোগাযোগের গুরুত্বও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে।
সব মিলিয়ে, বর্তমানে জনপ্রিয় কান্নার ইমোজিটি আনন্দ, দুঃখ, বিস্ময় কিংবা নিছক মজা-কোন অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নির্ভর করে পরিস্থিতি ও ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যের ওপর। একই প্রতীক ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন অনুভূতি তৈরি করতে পারে। টিকটকের এক ব্যবহারকারী বিষয়টি নিয়ে মজা করে বলেছেন, মানুষ সত্যিকারের কান্নার মুহূর্ত বাদে প্রায় সব সময়েই এই ইমোজি ব্যবহার করে।
এই মন্তব্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে আধুনিক ডিজিটাল যোগাযোগের বাস্তবতা। ইমোজির অর্থ এখন আর নির্দিষ্ট কোনো আবেগের মধ্যে আটকে নেই। সময়, প্রজন্ম ও সামাজিক প্রবণতার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এর ব্যবহার। তাই অনলাইনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে শুধু কী বলা হচ্ছে, তা নয়-কোন প্রতীক দিয়ে বলা হচ্ছে, সেটিও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এ বছরের সেরা ইমোজি কোনটি
সিজেডএন ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্যক্তিগত বার্তা,অনলাইন দুনিয়ায় মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইমোজি। কখনো আনন্দ, কখনো হতাশা, আবার কখনো ব্যঙ্গ কিংবা বিস্ময় বোঝাতে কয়েকটি ছোট্ট প্রতীকই যথেষ্ট। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এসব প্রতীকের ব্যবহার। একসময় বহুল ব্যবহৃত ইমোজিগুলোর জায়গা দখল করছে নতুন ও ব্যতিক্রমী কিছু চিহ্ন। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়া হলুদ মুখের ইমোজিটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
অবাক করা বিষয় হলো, এই ইমোজির ব্যবহার শুধু দুঃখ প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুর নতুন চাকরির খবর, অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা কিংবা পোষা প্রাণীর ছোটখাটো কাণ্ড, বিভিন্ন পরিস্থিতিতেই দেখা যাচ্ছে একই ইমোজির উপস্থিতি।
এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের জনপ্রিয়তার তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে চোখের কোণে অশ্রু জমে থাকা এই হলুদ মুখ। ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের উদাহরণেও এর ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।
একসময় অট্টহাসিতে চোখে পানি আসা কিংবা কাত হয়ে হাসতে থাকা ইমোজি ছিল অনলাইন কথোপকথনের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক। কিন্তু দীর্ঘদিনের অতিব্যবহারে এগুলোর আবেদন অনেকের কাছে কমে গেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব ইমোজি এখন পুরোনো ধাঁচের বলে বিবেচিত হচ্ছে। কেউ হাসতে হাসতে মারা যাওয়ার অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত খুলির ইমোজি পাঠালে, সেটিকে নিছক হাস্যরসের বদলে প্রজন্মগত রুচির পার্থক্য হিসেবেও দেখা হতে পারে। একইভাবে বিয়ারের গ্লাস ঠোকাঠুকি, চোখ ঢেকে রাখা বানর কিংবা সানগ্লাস পরা হাসিমুখের মতো পরিচিত প্রতীকও জেন-জিদের কাছে আগের মতো জনপ্রিয় নয়।
২০২৫-২৬ সালে ইমোজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে স্বতন্ত্রতা। একই আবেগ প্রকাশ করলেও কোন প্রতীকটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করছে বার্তার ধরন ও গ্রহণযোগ্যতা।
এদিকে, চলতি বছরের মার্চে ইমোজি কিবোর্ডে যুক্ত হওয়া বিকৃত মুখের প্রতীকটিও নজর কেড়েছে। এর চোখ দুটি মুখের দুই প্রান্তের দিকে সরে থাকায় দেখতে অস্বাভাবিক লাগে। উদ্বেগ, অস্বস্তি, আতঙ্ক কিংবা কোনো পরিস্থিতিতে কী প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, তা বুঝতে না পারার অনুভূতি প্রকাশে এটি ব্যবহার করা যায়। নতুন ধরনের এসব প্রতীক তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে মূলত প্রচলিত অভিব্যক্তির বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ দেওয়ায়।
অনেকের কাছে ইমোজির ব্যবহার এখনো নিছক মজা কিংবা ছেলেমানুষি মনে হতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল যোগাযোগে এগুলোর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সামনাসামনি কথোপকথনে কণ্ঠস্বর, মুখের অভিব্যক্তি ও শারীরিক ভঙ্গি যেভাবে অর্থ প্রকাশ করে, অনলাইন বার্তায় ইমোজি অনেকটা সেই ভূমিকা পালন করে। একটি বাক্যকে আন্তরিক, ব্যঙ্গাত্মক, আবেগপূর্ণ কিংবা হালকা রসিকতাপূর্ণ করে তুলতে পারে একটি ছোট্ট প্রতীক।তবে প্রজন্মভেদে ইমোজি ব্যবহারের ধরনেও পার্থক্য রয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক ব্যক্তিরা তরুণদের তুলনায় কম ইমোজি ব্যবহার করেন। নতুন প্রতীকের অর্থ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা কিংবা এই ধরনের যোগাযোগে অভ্যস্ত না হওয়া এর সম্ভাব্য কারণ। ইমোজির অর্থ ও ব্যবহার সম্পর্কে জানতে আগ্রহীদের জন্য ইমোজিপিডিয়ার মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। ডিজিটাল ভাষার বিকাশ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তার একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ ২০১৫ সালে দেখা যায়। সে বছর অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি বছরের সেরা শব্দ হিসেবে কান্না-হাসির ইমোজিকে নির্বাচন করে। এর মধ্য দিয়ে লিখিত ভাষার পাশাপাশি প্রতীকনির্ভর যোগাযোগের গুরুত্বও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে।
সব মিলিয়ে, বর্তমানে জনপ্রিয় কান্নার ইমোজিটি আনন্দ, দুঃখ, বিস্ময় কিংবা নিছক মজা-কোন অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নির্ভর করে পরিস্থিতি ও ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যের ওপর। একই প্রতীক ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন অনুভূতি তৈরি করতে পারে। টিকটকের এক ব্যবহারকারী বিষয়টি নিয়ে মজা করে বলেছেন, মানুষ সত্যিকারের কান্নার মুহূর্ত বাদে প্রায় সব সময়েই এই ইমোজি ব্যবহার করে।
এই মন্তব্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে আধুনিক ডিজিটাল যোগাযোগের বাস্তবতা। ইমোজির অর্থ এখন আর নির্দিষ্ট কোনো আবেগের মধ্যে আটকে নেই। সময়, প্রজন্ম ও সামাজিক প্রবণতার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এর ব্যবহার। তাই অনলাইনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে শুধু কী বলা হচ্ছে, তা নয়-কোন প্রতীক দিয়ে বলা হচ্ছে, সেটিও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নতুন ফিচার যুক্ত করলো ইনস্টাগ্রাম







