টেস্ট ড্র করতে শেষবেলায় আফগানদের ‘চোটের অভিনয়’ নিয়ে বিতর্ক

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
টেস্ট ড্র করতে শেষবেলায় আফগানদের ‘চোটের অভিনয়’ নিয়ে বিতর্ক
কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততে হলে বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র দুটি উইকেট। আর আফগানিস্তানের মূল লক্ষ্য ছিল উইকেট বাঁচিয়ে রাখা। শেষ দিনের চরম নাটকীয়তা আর স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়া হলো না টাইগারদের। ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে একমাত্র টেস্টটি ড্র করেছে আফগানিস্তান। তবে ম্যাচের শেষ দিকে আফগান ব্যাটার কায়েস আহমদের চোটের ঘটনাটি ঘিরে মাঠ ও মাঠের বাইরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। শেষ দিনে টাইগার বোলাররা চেপে বসলে জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ৩৩২ বল খেলে ১১১ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে সেদিকউল্লাহ আতাল যখন সাজঘরে ফেরেন, তখন আফগানদের স্কোরবোর্ডে ৭ উইকেটে ২৮১ রান। জয়ের জন্য তখনও তাদের ১৯৯ রান দরকার। অন্যদিকে হাতে থাকা ২৩ ওভারে ম্যাচ শেষ করার সুবর্ণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে।

ঠিক সেই মুহূর্তেই উইকেটে এসে বুক চিতিয়ে লড়াই শুরু করেন কায়েস আহমদ। শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ার কথা জানিয়ে মাঠে শুয়ে পড়েন তিনি। ফিজিওর সেবা নিয়ে উঠলেও তাকে বেশ কিছুক্ষণ খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। জয়ের খুব কাছাকাছি থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সময় এভাবে খেলা বন্ধ থাকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। দৃশ্যটি ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের গুলবাদিন নায়েবের বহুল আলোচিত চোট বিতর্কের স্মৃতি আবারও মনে করিয়ে দেয়। কায়েসের এ অস্বস্তি সত্যিই চোট ছিল নাকি কৌশলগত সময়ক্ষেপণ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।

প্রায় পাঁচ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আবারও ব্যাট হাতে দাঁড়ান কায়েস। চোটের ভান বা ক্লান্তি-কোনো কিছুই তার ব্যাটের ধার কমাতে পারেনি। ৮০ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৪৯ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ ওভারে তাইজুল ইসলামের বলে টানা দুটো ছক্কা হাঁকিয়ে আফগানিস্তানের ড্র প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন তিনি।

এত বড় লক্ষ্য দিয়েও শেষ মুহূর্তে জয় তুলে নিতে না পারার চরম হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে শান্তদের। অন্যদিকে কঠিন পরিস্থিতিতে একটানা লড়াই করে ম্যাচ বাঁচানোর কীর্তি আফগানদের কাছে যেন এক প্রকার জয়েরই সমান।

/এমএকে/