সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শহীদ জেহাদ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। '৯০- এর স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাই সরকারের উন্নয়ন, উৎপাদন ও অগ্রগতির ধারা নিশ্চিত করতে দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের সুখ-সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না।
তিনি বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারীরা গণতন্ত্রের মৃতদেহ টেনে দাফন করার চেষ্টা করেছে। নব্বইয়ের আন্দোলনে পরাজিত শক্তি এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি সবসময় একসঙ্গে ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা একসঙ্গে থেকে গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি আরও বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সীমাহীন লুটপাট এবং দেশের মানুষের অর্থ পাচার করেছে। ব্যাংকে জনগণের জমা রাখা টাকা অবাধে বিদেশে পাচার করেছে। একের পর এক জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে জুয়ার আসরে ঘুরপাক খেয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দোসররা জড়িত ছিল।
রিজভী বলেন, সরকার অন্যায়, অসত্য ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে জনগণ তা সমর্থন করবে। ব্যাংক লুট, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের সহযোগীরা এখনো সমাজের বিভিন্ন স্তরে অবস্থান করছে। প্রশাসনের ভেতরেও তারা নানা উপায়ে সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আজই আমরা শুনেছি, সেখানে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়েছে, অন্যটি হয়নি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তারা সাহস পাচ্ছে কোথা থেকে? তারা জনগণের টাকা লুট ও পাচার করেছে। তাদের কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছে, আবার কেউ দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছে।
তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা বসে নেই। গণতন্ত্রকামী মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা কোথায় আত্মগোপনে রয়েছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এসব শক্তির উত্থান হলে দেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব, পতাকা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই তারা শক্তিশালী হয়ে ওঠার আগেই তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যে বিশ্বাসী। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সাঁওতাল, চাকমা ও মারমাসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ এ দেশে মিলেমিশে বসবাস করে। যুগ যুগ ধরে ঈদ, পূজা-পার্বণে একে অপরের বাড়িতে গিয়ে উৎসবে অংশ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করতে পরাজিত শক্তি নানা ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাদের কেউ যেন মদদ দিয়ে দুর্গাপূজার সময় দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পূজামণ্ডপ পাহারা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে কোনো অপশক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে।
শহীদ নাজির উদ্দিন জিহাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম, আন্দোলন ও অর্জনের পেছনে জিহাদের আত্মদান বড় প্রেরণা জুগিয়েছে। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
স্মরণ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এমপি আমান উল্লাহ আমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শহীদ জেহাদ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। '৯০- এর স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাই সরকারের উন্নয়ন, উৎপাদন ও অগ্রগতির ধারা নিশ্চিত করতে দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের সুখ-সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না।
তিনি বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারীরা গণতন্ত্রের মৃতদেহ টেনে দাফন করার চেষ্টা করেছে। নব্বইয়ের আন্দোলনে পরাজিত শক্তি এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি সবসময় একসঙ্গে ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা একসঙ্গে থেকে গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি আরও বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সীমাহীন লুটপাট এবং দেশের মানুষের অর্থ পাচার করেছে। ব্যাংকে জনগণের জমা রাখা টাকা অবাধে বিদেশে পাচার করেছে। একের পর এক জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে জুয়ার আসরে ঘুরপাক খেয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দোসররা জড়িত ছিল।
রিজভী বলেন, সরকার অন্যায়, অসত্য ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে জনগণ তা সমর্থন করবে। ব্যাংক লুট, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের সহযোগীরা এখনো সমাজের বিভিন্ন স্তরে অবস্থান করছে। প্রশাসনের ভেতরেও তারা নানা উপায়ে সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আজই আমরা শুনেছি, সেখানে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়েছে, অন্যটি হয়নি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তারা সাহস পাচ্ছে কোথা থেকে? তারা জনগণের টাকা লুট ও পাচার করেছে। তাদের কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছে, আবার কেউ দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছে।
তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা বসে নেই। গণতন্ত্রকামী মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা কোথায় আত্মগোপনে রয়েছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এসব শক্তির উত্থান হলে দেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব, পতাকা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই তারা শক্তিশালী হয়ে ওঠার আগেই তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যে বিশ্বাসী। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সাঁওতাল, চাকমা ও মারমাসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ এ দেশে মিলেমিশে বসবাস করে। যুগ যুগ ধরে ঈদ, পূজা-পার্বণে একে অপরের বাড়িতে গিয়ে উৎসবে অংশ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করতে পরাজিত শক্তি নানা ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাদের কেউ যেন মদদ দিয়ে দুর্গাপূজার সময় দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পূজামণ্ডপ পাহারা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে কোনো অপশক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে।
শহীদ নাজির উদ্দিন জিহাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম, আন্দোলন ও অর্জনের পেছনে জিহাদের আত্মদান বড় প্রেরণা জুগিয়েছে। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
স্মরণ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এমপি আমান উল্লাহ আমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শহীদ জেহাদ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। '৯০- এর স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
সভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাই সরকারের উন্নয়ন, উৎপাদন ও অগ্রগতির ধারা নিশ্চিত করতে দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের সুখ-সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না।
তিনি বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারীরা গণতন্ত্রের মৃতদেহ টেনে দাফন করার চেষ্টা করেছে। নব্বইয়ের আন্দোলনে পরাজিত শক্তি এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি সবসময় একসঙ্গে ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা একসঙ্গে থেকে গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি আরও বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সীমাহীন লুটপাট এবং দেশের মানুষের অর্থ পাচার করেছে। ব্যাংকে জনগণের জমা রাখা টাকা অবাধে বিদেশে পাচার করেছে। একের পর এক জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে জুয়ার আসরে ঘুরপাক খেয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দোসররা জড়িত ছিল।
রিজভী বলেন, সরকার অন্যায়, অসত্য ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে জনগণ তা সমর্থন করবে। ব্যাংক লুট, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের সহযোগীরা এখনো সমাজের বিভিন্ন স্তরে অবস্থান করছে। প্রশাসনের ভেতরেও তারা নানা উপায়ে সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আজই আমরা শুনেছি, সেখানে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়েছে, অন্যটি হয়নি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তারা সাহস পাচ্ছে কোথা থেকে? তারা জনগণের টাকা লুট ও পাচার করেছে। তাদের কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছে, আবার কেউ দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছে।
তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা বসে নেই। গণতন্ত্রকামী মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা কোথায় আত্মগোপনে রয়েছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এসব শক্তির উত্থান হলে দেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব, পতাকা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই তারা শক্তিশালী হয়ে ওঠার আগেই তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যে বিশ্বাসী। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সাঁওতাল, চাকমা ও মারমাসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ এ দেশে মিলেমিশে বসবাস করে। যুগ যুগ ধরে ঈদ, পূজা-পার্বণে একে অপরের বাড়িতে গিয়ে উৎসবে অংশ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করতে পরাজিত শক্তি নানা ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাদের কেউ যেন মদদ দিয়ে দুর্গাপূজার সময় দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পূজামণ্ডপ পাহারা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে কোনো অপশক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে।
শহীদ নাজির উদ্দিন জিহাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম, আন্দোলন ও অর্জনের পেছনে জিহাদের আত্মদান বড় প্রেরণা জুগিয়েছে। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
স্মরণ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এমপি আমান উল্লাহ আমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারকে ঝামেলায় ফেলতে পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা কাজ করছে: রিজভী
যারা দেশকে উপনিবেশ করতে চায়, বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে ব্যারিকেড তৈরি করবে: রিজভী







