হজ ফ্লাইট পরিচালনায় সৌদির সহযোগিতা চান বিমানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
হজ ফ্লাইট পরিচালনায় সৌদির সহযোগিতা চান বিমানমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফের বিন আবিয়াহ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আগামী বছর হজ ফ্লাইট পরিচালনায় সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফের বিন আবিয়াহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে তার অফিসকক্ষে সাক্ষাৎ করেন। এসময় দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল, হজযাত্রী পরিবহন, এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্টসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান খাতে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এরইমধ্যে সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আলোচনায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত কর/চার্জ প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানানো হয়। এ বিষয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২০২৭ সালের হজ ফ্লাইট পরিচালনা নিয়েও আলোচনা হয়। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে আগামী বছর ২৮ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে স্লটের আবেদন করেছে। হজ ২০২৭-এর ফ্লাইট সূচি চূড়ান্ত করার স্বার্থে দ্রুত স্লট অনুমোদনের বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বর্তমানে চুক্তির খসড়া প্রস্তুতের কাজ করছে। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। দুই দেশের এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট (এএসএ) নিয়েও বৈঠকে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

সৌদি এয়ারলাইনস ফ্লাইএডিলের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুরোধ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও স্লট ব্যবস্থাপনা সীমিত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা বিবেচনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দাম্মাম ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

বৈঠকে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ককে আরো গভীর করার পাশাপাশি বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া, হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সার্বিক প্রস্তুতি সরেজমিন পরিদর্শনে জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মোহাম্মেদ রজবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকায় আসার আগ্রহের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী সৌদি রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরো বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ হবে।

/এফসি/