সৌদি আরবে ফ্লাইট বিঘ্ন, অর্থ ফেরতসহ বেবিচকের জরুরি নির্দেশনা

সৌদি আরবে ফ্লাইট বিঘ্ন, অর্থ ফেরতসহ বেবিচকের জরুরি নির্দেশনা
সিজেডএন ডেস্ক

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের হামলায় নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এতে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা দ্রুত জানানো, টিকিট পুনঃবুকিং ও অর্থ ফেরতের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় এসব কথা বলা হয়।
বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দর বন্ধ, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের দ্রুত অবহিত করতে হবে। এজন্য এসএমএস, টেলিফোন, ইমেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিকমাধ্যমসহ কার্যকর যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।
তবে শুধু ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য জানানো নয়, পরিবর্তিত সময়সূচি, পুনঃবুকিংয়ের সুযোগ, অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া এবং যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কেও সুস্পষ্ট তথ্য দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত না করে কোনো যাত্রীকে বিমানবন্দরে যেতে বলা যাবে না।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত না হয়ে বা নির্দেশনা পাওয়ার আগেই যেসব যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন, তাদের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, হালকা খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।
এছাড়া বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অযত্নে ফেলে রাখা যাবে না। তাদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বেবিচক।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফ্লাইট বিঘ্নের কারণে কোনো যাত্রীর সৌদি আরবে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং অন্যান্য উপযুক্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়ে যাত্রীদের সহায়তা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নির্দেশনায় ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি বা নবায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এ ধরনের বিষয় সৌদি কর্তৃপক্ষের বিধিবিধান ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানানো হয়েছে।
ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিমান সংস্থাকে পর্যাপ্ত সহায়ক কর্মীসহ একজন দায়িত্বশীল ফোকাল পয়েন্ট বা সমন্বয় কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বেবিচক। মনোনীত কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা অবিলম্বে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে যাত্রী সহায়তা, ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য এবং পরিচালনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করতে হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ স্বাক্ষরিত নির্দেশনা দুটির অনুলিপি বিমানবন্দরের এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটির (এওসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিতরণ তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার আরাবিয়া, এয়ার এশিয়া ও এয়ার চায়নার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাদের দেশটির ৩টি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ১৫ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব প্রায় ১৫০০ ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করেছে। বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ৬১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
এসব ফ্লাইট বাতিল ও ব্যাহত হওয়ার ফলে সর্বমোট ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের হামলায় নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এতে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা দ্রুত জানানো, টিকিট পুনঃবুকিং ও অর্থ ফেরতের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় এসব কথা বলা হয়।
বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দর বন্ধ, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের দ্রুত অবহিত করতে হবে। এজন্য এসএমএস, টেলিফোন, ইমেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিকমাধ্যমসহ কার্যকর যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।
তবে শুধু ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য জানানো নয়, পরিবর্তিত সময়সূচি, পুনঃবুকিংয়ের সুযোগ, অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া এবং যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কেও সুস্পষ্ট তথ্য দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত না করে কোনো যাত্রীকে বিমানবন্দরে যেতে বলা যাবে না।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত না হয়ে বা নির্দেশনা পাওয়ার আগেই যেসব যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন, তাদের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, হালকা খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।
এছাড়া বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অযত্নে ফেলে রাখা যাবে না। তাদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বেবিচক।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফ্লাইট বিঘ্নের কারণে কোনো যাত্রীর সৌদি আরবে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং অন্যান্য উপযুক্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়ে যাত্রীদের সহায়তা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নির্দেশনায় ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি বা নবায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এ ধরনের বিষয় সৌদি কর্তৃপক্ষের বিধিবিধান ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানানো হয়েছে।
ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিমান সংস্থাকে পর্যাপ্ত সহায়ক কর্মীসহ একজন দায়িত্বশীল ফোকাল পয়েন্ট বা সমন্বয় কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বেবিচক। মনোনীত কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা অবিলম্বে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে যাত্রী সহায়তা, ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য এবং পরিচালনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করতে হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ স্বাক্ষরিত নির্দেশনা দুটির অনুলিপি বিমানবন্দরের এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটির (এওসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিতরণ তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার আরাবিয়া, এয়ার এশিয়া ও এয়ার চায়নার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাদের দেশটির ৩টি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ১৫ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব প্রায় ১৫০০ ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করেছে। বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ৬১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
এসব ফ্লাইট বাতিল ও ব্যাহত হওয়ার ফলে সর্বমোট ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

সৌদি আরবে ফ্লাইট বিঘ্ন, অর্থ ফেরতসহ বেবিচকের জরুরি নির্দেশনা
সিজেডএন ডেস্ক

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের হামলায় নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এতে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা দ্রুত জানানো, টিকিট পুনঃবুকিং ও অর্থ ফেরতের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় এসব কথা বলা হয়।
বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দর বন্ধ, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের দ্রুত অবহিত করতে হবে। এজন্য এসএমএস, টেলিফোন, ইমেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিকমাধ্যমসহ কার্যকর যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।
তবে শুধু ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য জানানো নয়, পরিবর্তিত সময়সূচি, পুনঃবুকিংয়ের সুযোগ, অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া এবং যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কেও সুস্পষ্ট তথ্য দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত না করে কোনো যাত্রীকে বিমানবন্দরে যেতে বলা যাবে না।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত না হয়ে বা নির্দেশনা পাওয়ার আগেই যেসব যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন, তাদের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, হালকা খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।
এছাড়া বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অযত্নে ফেলে রাখা যাবে না। তাদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের পাশাপাশি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বেবিচক।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফ্লাইট বিঘ্নের কারণে কোনো যাত্রীর সৌদি আরবে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং অন্যান্য উপযুক্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়ে যাত্রীদের সহায়তা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নির্দেশনায় ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি বা নবায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এ ধরনের বিষয় সৌদি কর্তৃপক্ষের বিধিবিধান ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানানো হয়েছে।
ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিমান সংস্থাকে পর্যাপ্ত সহায়ক কর্মীসহ একজন দায়িত্বশীল ফোকাল পয়েন্ট বা সমন্বয় কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বেবিচক। মনোনীত কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা অবিলম্বে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে যাত্রী সহায়তা, ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য এবং পরিচালনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করতে হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ স্বাক্ষরিত নির্দেশনা দুটির অনুলিপি বিমানবন্দরের এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটির (এওসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিতরণ তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার আরাবিয়া, এয়ার এশিয়া ও এয়ার চায়নার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাদের দেশটির ৩টি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ১৫ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব প্রায় ১৫০০ ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করেছে। বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ৬১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
এসব ফ্লাইট বাতিল ও ব্যাহত হওয়ার ফলে সর্বমোট ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

দুইদিনে সৌদি আরবে ১৫০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে শাহজালালের যাত্রীরা
রিয়াদে কিং খালিদ বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় হামলা হুথিদের, নিহত ১







