জেলায় জেলায় সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ

জেলায় জেলায় সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
আয়নাল হোসেন

যশোরের মনিরামপুর পৌরসভায় নাফিজ এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ পারভেজ রুবেলকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। বাঘারপাড়ার বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ব্যাংক ডাকাতি ও প্রতারণা মামলা রয়েছে। অথচ তিনিও ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এভাবে যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। একইভাবে চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ জনকে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় বিবেচনায় সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেছে এবং তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
যশোর ও চুয়াডাঙ্গার মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি প্রায় পাঁচ হাজার ডিলারকে দলীয় বিবেচনায় এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুসরণ না করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়-এমন ব্যক্তি, বিএনপির নেতাকর্মী, মাদক কারবারে আটকের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদেরও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়োগ এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে অনিয়মের অভিযোগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০০টি আবেদন জমা পড়েছে। নতুন ডিলার নিয়াগে এসব অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, সারাদেশে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সারের ডিলার রয়েছে ৫ হাজার ২০০ জন। আর বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সারের ডিলার ৫ হাজার ৬০০ জন। সম্প্রতি সরকার আরও ৫ হাজার ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ ডিলার রয়েছে তাতে নতুন করে নিয়োগের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে সারের ডিলার রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে আবার ওই ডিলারের অধীনে ৯ জন সাব ডিলার রয়েছে। সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অভিযোগ করছেন, সম্প্রতি প্রায় পাঁচ হাজার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে একজন ব্যবসায়ীর কমপক্ষে ৫০ টন ধারণ ক্ষমতার গুদাম থাকতে হবে। এছাড়া একই এলাকার বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু যাদের গুদাম নেই এমন অনেক লোককেও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সচিব সেলিম খান সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, নীতিমালা মেনে এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সারা দেশে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেলে কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ
চুয়াডাঙ্গায় নিয়োগ পাওয়া ৪৫ জন সারের ডিলারের মধ্যে ৪২ জনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ২২ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচজন সংসদ সদস্যের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল।
সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক পরিচয় এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনেককে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, মনিরামপুর পৌরসভায় নাফিজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ রুবেল সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। এছাড়া মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সালাউদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিলার নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ করার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি জানান সংসদ সদস্যরা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এসব কমিটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্যদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণ না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খুলনায় ডিলার নিয়োগে অনিয়ম
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজারে মেসার্স মোল্ল্যা কৃষি ভান্ডারের মালিক রিয়াদ মোহাম্মদ। তিনি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলে। তার নিজের সার বিক্রির দোকান ও গুদাম নেই। অথচ তাকে ডিলার হিসেব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রিয়াদ মোহাম্মদের ডিলারশিপ বাতিলের আবেদন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সবুজ মোড়ল।
ডুমুরিয়ার মাগুরখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডল ডিলারশিপ পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একটি মিষ্টির দোকানকে গুদাম হিসেবে দেখিয়ে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনার মতো দেশের বিভিন্ন জেলায় সারের ডিলার নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের দাবিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনেক আবেদন জমা পড়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তারা আবেদনগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছেন এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

যশোরের মনিরামপুর পৌরসভায় নাফিজ এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ পারভেজ রুবেলকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। বাঘারপাড়ার বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ব্যাংক ডাকাতি ও প্রতারণা মামলা রয়েছে। অথচ তিনিও ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এভাবে যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। একইভাবে চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ জনকে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় বিবেচনায় সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেছে এবং তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
যশোর ও চুয়াডাঙ্গার মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি প্রায় পাঁচ হাজার ডিলারকে দলীয় বিবেচনায় এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুসরণ না করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়-এমন ব্যক্তি, বিএনপির নেতাকর্মী, মাদক কারবারে আটকের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদেরও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়োগ এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে অনিয়মের অভিযোগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০০টি আবেদন জমা পড়েছে। নতুন ডিলার নিয়াগে এসব অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, সারাদেশে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সারের ডিলার রয়েছে ৫ হাজার ২০০ জন। আর বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সারের ডিলার ৫ হাজার ৬০০ জন। সম্প্রতি সরকার আরও ৫ হাজার ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ ডিলার রয়েছে তাতে নতুন করে নিয়োগের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে সারের ডিলার রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে আবার ওই ডিলারের অধীনে ৯ জন সাব ডিলার রয়েছে। সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অভিযোগ করছেন, সম্প্রতি প্রায় পাঁচ হাজার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে একজন ব্যবসায়ীর কমপক্ষে ৫০ টন ধারণ ক্ষমতার গুদাম থাকতে হবে। এছাড়া একই এলাকার বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু যাদের গুদাম নেই এমন অনেক লোককেও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সচিব সেলিম খান সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, নীতিমালা মেনে এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সারা দেশে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেলে কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ
চুয়াডাঙ্গায় নিয়োগ পাওয়া ৪৫ জন সারের ডিলারের মধ্যে ৪২ জনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ২২ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচজন সংসদ সদস্যের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল।
সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক পরিচয় এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনেককে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, মনিরামপুর পৌরসভায় নাফিজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ রুবেল সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। এছাড়া মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সালাউদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিলার নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ করার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি জানান সংসদ সদস্যরা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এসব কমিটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্যদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণ না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খুলনায় ডিলার নিয়োগে অনিয়ম
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজারে মেসার্স মোল্ল্যা কৃষি ভান্ডারের মালিক রিয়াদ মোহাম্মদ। তিনি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলে। তার নিজের সার বিক্রির দোকান ও গুদাম নেই। অথচ তাকে ডিলার হিসেব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রিয়াদ মোহাম্মদের ডিলারশিপ বাতিলের আবেদন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সবুজ মোড়ল।
ডুমুরিয়ার মাগুরখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডল ডিলারশিপ পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একটি মিষ্টির দোকানকে গুদাম হিসেবে দেখিয়ে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনার মতো দেশের বিভিন্ন জেলায় সারের ডিলার নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের দাবিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনেক আবেদন জমা পড়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তারা আবেদনগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছেন এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

জেলায় জেলায় সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
আয়নাল হোসেন

যশোরের মনিরামপুর পৌরসভায় নাফিজ এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ পারভেজ রুবেলকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। বাঘারপাড়ার বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ব্যাংক ডাকাতি ও প্রতারণা মামলা রয়েছে। অথচ তিনিও ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এভাবে যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। একইভাবে চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ জনকে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় বিবেচনায় সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেছে এবং তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
যশোর ও চুয়াডাঙ্গার মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি প্রায় পাঁচ হাজার ডিলারকে দলীয় বিবেচনায় এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুসরণ না করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়-এমন ব্যক্তি, বিএনপির নেতাকর্মী, মাদক কারবারে আটকের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদেরও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়োগ এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে অনিয়মের অভিযোগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০০টি আবেদন জমা পড়েছে। নতুন ডিলার নিয়াগে এসব অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, সারাদেশে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সারের ডিলার রয়েছে ৫ হাজার ২০০ জন। আর বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সারের ডিলার ৫ হাজার ৬০০ জন। সম্প্রতি সরকার আরও ৫ হাজার ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ ডিলার রয়েছে তাতে নতুন করে নিয়োগের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
জানা গেছে, সারাদেশে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে সারের ডিলার রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে আবার ওই ডিলারের অধীনে ৯ জন সাব ডিলার রয়েছে। সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অভিযোগ করছেন, সম্প্রতি প্রায় পাঁচ হাজার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে একজন ব্যবসায়ীর কমপক্ষে ৫০ টন ধারণ ক্ষমতার গুদাম থাকতে হবে। এছাড়া একই এলাকার বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু যাদের গুদাম নেই এমন অনেক লোককেও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সচিব সেলিম খান সিটিজেন জার্নাল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, নীতিমালা মেনে এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সারা দেশে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেলে কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ
চুয়াডাঙ্গায় নিয়োগ পাওয়া ৪৫ জন সারের ডিলারের মধ্যে ৪২ জনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ২২ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সারের ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচজন সংসদ সদস্যের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল।
সংসদ সদস্যদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক পরিচয় এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনেককে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রছুল সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, মনিরামপুর পৌরসভায় নাফিজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ রুবেল সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। এছাড়া মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সালাউদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিলার নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ করার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি জানান সংসদ সদস্যরা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এসব কমিটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্যদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণ না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খুলনায় ডিলার নিয়োগে অনিয়ম
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজারে মেসার্স মোল্ল্যা কৃষি ভান্ডারের মালিক রিয়াদ মোহাম্মদ। তিনি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলে। তার নিজের সার বিক্রির দোকান ও গুদাম নেই। অথচ তাকে ডিলার হিসেব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রিয়াদ মোহাম্মদের ডিলারশিপ বাতিলের আবেদন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সবুজ মোড়ল।
ডুমুরিয়ার মাগুরখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডল ডিলারশিপ পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একটি মিষ্টির দোকানকে গুদাম হিসেবে দেখিয়ে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনার মতো দেশের বিভিন্ন জেলায় সারের ডিলার নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের দাবিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনেক আবেদন জমা পড়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তারা আবেদনগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছেন এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।









