৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতদের আহাজারি ‘পুড়ে পুড়ে শেষ হয়ে গেছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতদের আহাজারি ‘পুড়ে পুড়ে শেষ হয়ে গেছি’
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিত নুর আলম। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের দূরে ঠেলে দেবেন না। আমরা এ কয়েকদিনে পুড়ে পুড়ে শেষ হয়ে গেছি। আমরা আপনাকে কথা দিলাম, আমরা এই রাষ্ট্রের জন্য কাজ করব। আমরা একেকজন তরুণ, সম্ভাবনাময়। আমাদের নিয়োগ দিন, আমাদের সুযোগ দিন। এরপর আমাদের কাজের মূল্যায়ন করুন।’

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে কথাগুলো বলেন ৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিত নুর আলম। এক বুক হতাশা নিয়ে তিনি সরকারের প্রতি পুনরায় গেজেট প্রকাশের আহ্বান জানান।

মানববন্ধন থেকে গেজেটবঞ্চিতদের পুনরায় গেজেট প্রকাশের দাবি জানানো হয়। ‘৪৫তম বিসিএসে বৈষম্যের শিকার গেজেটবঞ্চিতরা’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রায় ২০ জন অংশ নেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতদের মানববন্ধন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতদের মানববন্ধন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নুর আলম বলেন, ‘যদি কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে, তাহলে আমাদের বাদ দিন। কিন্তু কোনো অযৌক্তিক কারণে আমাদের বাদ দেবেন না। আমি ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। পরিবার আমার দিকে তাকিয়ে আছে– আমি গেজেটভুক্ত হব, নিয়োগ পাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানতে চান, আমি কেন বঞ্চিত হলাম। কিন্তু আমার কোনো জবাব নেই। ক্যারিয়ারের শুরুতেই যদি আমরা এমন ধাক্কা খাই, তাহলে কোথায় যাব? আমাদের যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। আমাদের গেজেটভুক্ত করা হোক। আমরা যেন আগামী ১ নভেম্বর সবার সঙ্গে চাকরিতে যোগ দিতে পারি।’

৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতদের মানববন্ধনে নাদিম মাহামুদ। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিতদের মানববন্ধনে নাদিম মাহামুদ। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

‘পরিবারকে কীভাবে সাপোর্ট দেব, কিছুই বুঝতে পারছি না’

মানববন্ধনে নাদিম মাহামুদ বলেন, ‘বাবা-মায়ের বয়স হয়েছে। তারা দুজনই অসুস্থ। তাদের এখনো পর্যন্ত ফোন করে বলতে পারিনি, আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বললে তারা যে কষ্ট পাবেন, তা অকল্পনীয়। সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমাদের যেন পুনরায় বিবেচনা করা হয়, গেজেটভুক্ত করা হয় এবং আমাদের পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘শুধু বিসিএসের জন্য কোনো জায়গায় চাকরি করিনি। ৩০ বছর বয়সে এসে বেসরকারি কোনো চাকরি পাব কি না, আমাকে চাকরি দেবে কি না– এসব নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। পরিবারকে কীভাবে সাপোর্ট দেব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রুবেল হোসেন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রুবেল হোসেন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

‘আত্মহত্যা ছাড়া এখন কোনো পথ দেখছি না’

রুবেল হোসেন বলেন, ‘২০২২ সাল থেকে আমার ইচ্ছা ছিল বিসিএসে চান্স পাব এবং পরিবারের হাল ধরব। ১৪ অক্টোবর আমার সেই আশা শূন্যে নেমে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আত্মহত্যা ছাড়া এখন কোনো পথ দেখছি না। আশা করছি, সরকার আমাদের আশাহত করবে না। আমাদের আবারও পুনর্বিবেচনা করে গেজেটভুক্ত করবে।’

উল্লেখ্য, ১৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যেখানে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশকৃত ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭০২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ১০৫ জন গেজেট থেকে বাদ পড়েন।

/এফসি/