নতুন পে স্কেলে বেতন পেতে দেরি হতে পারে শিক্ষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন পে স্কেলে বেতন পেতে দেরি হতে পারে শিক্ষকদের
প্রতীকী ছবি

নবম জাতীয় পে স্কেলের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের। বিশেষ করে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হিসাবের জটিলতার কারণে এ প্রক্রিয়ায় বিলম্বের আশঙ্কা করছে অর্থ বিভাগ। ফলে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরে নতুন স্কেলে বেতন দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হিসাব করতে হয় হাতে-কলমে। অন্যদিকে স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব করা হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। এ প্রক্রিয়াগত পার্থক্যের কারণে নতুন পে স্কেল কার্যকরে বিলম্ব হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পেতে কিছুটা সময় লাগবে। আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সেটি সম্ভব নাও হতে পারে।

মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বাদ দিয়ে শুধু স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে বেতন দেওয়া সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, এটি সম্ভব নয়। দুটি আলাদা বিভাগ হলেও মন্ত্রণালয় একই। তাই সবাই একসঙ্গেই নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।

এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে।

বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় বেশি, সেগুলো এমপিওর অর্থের বাইরে থেকেও শিক্ষক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে পারে। তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের সেই আর্থিক সক্ষমতা নেই। ফলে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বেতন-ভাতায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

/এফআর/