শিক্ষার্থী ধর্ষণ কাণ্ডে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকে উঠে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
শিক্ষার্থী ধর্ষণ কাণ্ডে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকে উঠে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের জলন্ধরের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির (এলপিইউ) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ফাগওয়ারার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ।

ক্যাম্পাসে সংরক্ষিত একটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ-২৩ইউএম যুদ্ধবিমান ও সামরিক ট্যাংকের ওপরে চড়েও বিক্ষোভ করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবনের কাঁচ ও ফুলের টব ভাঙচুর করছেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু দোকানপাটও ভাঙচুর করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হোস্টেলের সামনে এ বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার হোস্টেলে থাকা এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন এবং এই ঘটনায় কোনো নির্মাণশ্রমিক জড়িত থাকতে পারেন। তাদের দাবি, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত মাঠে নামে পুলিশ। কাপুরথলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার গৌরব তুরা বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বুঝতে পারি, এটি মূলত গুজবের জেরে ঘটেছে। সেই গুজবে কান দিয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। এলপিইউ প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের কিছু ক্ষোভ ছিল, আমরা তাদের অভিযোগ শুনেছি এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।’

জলন্ধর রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিআইজি) নবীন সিংলা জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জবানবন্দি গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে দাবি করেছে, জি৩ হোস্টেলের এক ছাত্রী তিন দিন আগে ধর্ষণের শিকার হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে এফআইআর করা হয়েছে।

ডিআইজি সিংলা জানান, ‘পুরো ঘটনা নিখুঁতভাবে তদন্ত করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ, ফোন রেকর্ড বিশ্লেষণ ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। ছাত্রপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়েই এই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।’ পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে ফাগওয়ারার পুলিশ সুপার (এসপি) মেজর সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল বা এসআইটি গঠন করেছে পুলিশ।

এদিকে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ও গুঞ্জন সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এলপিইউয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বর্তমানে যেসব গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, কিছু সমাজবিরোধী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে এসব ভুয়া ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে কেবল দাপ্তরিক বার্তার ওপর ভরসা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/