আমরা থামবো না, জ্ঞানেশের পর প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহের পালা: রাহুল গান্ধী

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
আমরা থামবো না, জ্ঞানেশের পর প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহের পালা: রাহুল গান্ধী
পদযাত্রায় রাহুল গান্ধী

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তাল দিল্লি। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে সোমবার (১২ অক্টোবর) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। একই দাবিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশ্যে এক বিশাল মিছিল বের করেন।

মিছিলের সামনের সারিতে রাহুলের পাশেই ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা। সবার একটাই দাবি ছিল- জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা। সুপ্রিম কোর্টে যারা আবেদন করেছেন, সেই তালিকায় নাম রয়েছে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের তেজস্বী প্রসাদ যাদবের মতো হেভিওয়েট নেতাদের। তাদের মূল অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে সুপরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

পুলিশি বাঁধায় মিছিল শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এগোতে পারেনি। তিলক মার্গ ধরে এগিয়ে চলা মিছিলকারীদের ভগবান দাস রোডের মুখে আটকে দেয় পুলিশ। বাধ্য হয়েই হাজারো মানুষ সেখানেই রাস্তায় বসে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর জন্য আলাদা কোনো আন্দোলন হচ্ছে না। একটিই প্রতিবাদ চলছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহের পালা। আমরা থামব না। এ ছাড়াও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চাপে পড়ে পক্ষপাতমূলক কাজ করছেন বলে অভিযোগ তোলেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।

অন্যদিকে, এই বিক্ষোভের আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি পুলিশের কাছে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়েছিলেন। তার প্রেক্ষিতে পুলিশ বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড-এ তিনটি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

বিক্ষোভের তীব্রতার কারণে রাজধানীর জনপথ, মান্ডি হাউস, বারাখাম্বা রোড, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক ও প্যাটেল চক এ ছয়টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বাহিরের পথ বিকেল চারটা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। তবে দিল্লি মেট্রো জানিয়েছে, এ স্টেশনগুলোতে ট্রেন পরিবর্তনের বা ইন্টারচেঞ্জের সুবিধা স্বাভাবিক রাখা হয়েছিল।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/