নবম পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা, কার্যকর কবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নবম পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা, কার্যকর কবে
প্রতীকী ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি নতুন নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরাও। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বর্ধিত বেতন কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে নতুন বেতন-ভাতা পেতে তাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করে পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়া অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় আনার বিষয়ে আদেশ জারি করবে অর্থ বিভাগ। তবে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

অর্থ বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, আদেশটি কবে জারি হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এটি একটি প্রক্রিয়াগত বিষয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে চূড়ান্ত সময় নির্ভর করবে অর্থ বিভাগের আদেশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর।

দেশে বর্তমানে ৬ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও সুবিধার আওতায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।

গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে তারা মাসে এক হাজার টাকা বাড়িভাড়া পেতেন। তবে অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় সীমিত হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি অনুদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতায় পরিবর্তন আসবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন, পদ ও বিষয় অনুযায়ী তাদের বেতন গ্রেড নির্ধারিত হবে। বর্তমানে যে গ্রেডে কর্মরত রয়েছেন, নতুন কাঠামোয় সেই গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাওয়ার কথা। যেমন, বেসরকারি কলেজের প্রভাষকেরা সরকারি কলেজের প্রভাষকদের মতো নবম গ্রেডে মূল বেতন পাবেন।

নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন গ্রেডভেদে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। কাঠামোয় আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে। আর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা একযোগে কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যেন দ্রুত নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পান, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।