কলকাতায় ৮৭, পাকিস্তানে ১২৪, বাংলাদেশে এলপিজি ১৫৩ টাকা কেজি

কলকাতায় ৮৭, পাকিস্তানে ১২৪, বাংলাদেশে এলপিজি ১৫৩ টাকা কেজি
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের মানুষকে আশপাশের দেশের তুলনায় অত্যন্ত চড়া দামে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে। দেশে প্রতি কেজি এলপিজির সরকার নির্ধারিত দাম ১৫৩ টাকা। ভারতের কলকাতায় তা ৮৭ টাকা, পাকিস্তানে ১২৪ টাকা। শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও এলপিজির নির্ধারিত দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম। দেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে এলপিজির দাম লাগামছাড়া।
দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। এলপিজির চাহিদা এখন বছরে ১৫ লাখ টনের বেশি।
দেশে রান্নায় দুই ধরনের গ্যাস ব্যবহৃত হয়। একটি পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস। অন্যটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি। ২০১৫ সালের পর থেকে বাসাবাড়িতে গ্যাসের লাইন দেওয়া বন্ধ। অন্যদিকে বাড়ছে এলপিজির চাহিদা। এলপিজির দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত চাপে পড়ে যায়।
বাংলাদেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ২০২১ সালের আগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দামে এলপিজি বিক্রি করতেন। এরপর আদালতের আদেশে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা পায় বিইআরসি। এখন বিইআরসি ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। আশপাশের দেশগুলোর চেয়ে বাড়তি দাম নির্ধারণ করে দেয় তারা। অবশ্য সেই দাম কখনোই বাজারে কার্যকর হয় না।
সর্বশেষ গত রবিবার (৪ অক্টোবর) এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একজন খুচরা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলপিজির সরবরাহ কম। ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার তারা বিক্রি করছেন ২ হাজার ৪০০ টাকায়।
এদিকে বরিশাল শহরে এলপিজির দাম ঢাকার তুলনায় ৪০০-৫০০ টাকা কম। পেট্রম্যাক্স, সান ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৭০ টাকা এবং টোটাল গ্যাসের দাম ১ হাজার ৯২০ টাকা।
ভারতের রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল কোম্পানি আইওসিএলের তথ্য বলছে, দেশটির একেক রাজ্যে এলপিজির একেক দাম। পশ্চিম বাংলার প্রধান শহর কলকাতায় ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা দাম ৯৬৮ রুপি। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ৬৮ দশমিক ১৭ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৭ টাকা। দিল্লি ও মুম্বাইয়ে দাম আরও কম।
আইওসিএলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা আছে, গত জুন থেকে বর্তমান দাম কার্যকর এবং এই দামের মধ্যে ভর্তুকি নেই।
জানা গেছে, ভারতে এলপিজিতে দুই ধরনের ভর্তুকি দেওয়া হয়। একটি হলো দরিদ্র মানুষকে সিলিন্ডারপ্রতি ৩০০ রুপি দেয় সরকার, যা ব্যাংক/মুঠোফোনে আর্থিক সেবা হিসেবে পাঠানো হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল কোম্পানি আইওসিএল অনেক সময় লোকসান দিয়ে বাসাবাড়ির এলপিজি বিক্রি করে।
ভারতের সুপরিচিত দৈনিক দ্য হিন্দুর একটি প্রতিবেদন বলছে, সেপ্টেম্বরে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারে পরোক্ষ ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২১০ রুপি। হিসাব করে দেখা যায়, ভর্তুকি বাদ দিলেও ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০০ টাকার আশপাশে থাকে।
শ্রীলঙ্কার বেসরকারি কোম্পানি লাফ গ্যাস তাদের ওয়েবসাইটে বলছে, দেশটির বিভিন্ন শহরে এলপিজির দামে কিছুটা ভিন্নতা আছে। রাজধানী কলম্বোয় সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৯৬৫ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ হাজার ৪০০ টাকার কম।
পাকিস্তানের সংবাদপত্র দ্য ডন ১ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে বলেছে, এলপিজির দাম ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে পাকিস্তান অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটি। প্রতি কেজির দাম ২৭৯ রুপি করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১২৪ টাকা। হিসাব করে দেখা যায়, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম পড়ে দেড় হাজার টাকার কিছু কম।
নেপাল অয়েল করপোরেশনের তথ্য বলছে, দেশটিতে ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০০ টাকার কিছু কম।
ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে মোটামুটি সরকার নির্ধারিত দামেই এলপিজি বিক্রি হয় বলে সেখানকার সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন। পাকিস্তানে নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ আছে। তবে কোনো দেশেই বাংলাদেশের মতো চড়া দামে এলপিজি বিক্রি হয় না।
এলপিজি আমদানি ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে গভীর সমুদ্রে কোনো টার্মিনাল নেই। পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত করার মতো সক্ষমতাও তৈরি হয়নি। তাই ছোট ছোট জাহাজে করে আমদানি করা হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে।

বাংলাদেশের মানুষকে আশপাশের দেশের তুলনায় অত্যন্ত চড়া দামে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে। দেশে প্রতি কেজি এলপিজির সরকার নির্ধারিত দাম ১৫৩ টাকা। ভারতের কলকাতায় তা ৮৭ টাকা, পাকিস্তানে ১২৪ টাকা। শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও এলপিজির নির্ধারিত দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম। দেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে এলপিজির দাম লাগামছাড়া।
দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। এলপিজির চাহিদা এখন বছরে ১৫ লাখ টনের বেশি।
দেশে রান্নায় দুই ধরনের গ্যাস ব্যবহৃত হয়। একটি পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস। অন্যটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি। ২০১৫ সালের পর থেকে বাসাবাড়িতে গ্যাসের লাইন দেওয়া বন্ধ। অন্যদিকে বাড়ছে এলপিজির চাহিদা। এলপিজির দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত চাপে পড়ে যায়।
বাংলাদেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ২০২১ সালের আগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দামে এলপিজি বিক্রি করতেন। এরপর আদালতের আদেশে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা পায় বিইআরসি। এখন বিইআরসি ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। আশপাশের দেশগুলোর চেয়ে বাড়তি দাম নির্ধারণ করে দেয় তারা। অবশ্য সেই দাম কখনোই বাজারে কার্যকর হয় না।
সর্বশেষ গত রবিবার (৪ অক্টোবর) এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একজন খুচরা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলপিজির সরবরাহ কম। ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার তারা বিক্রি করছেন ২ হাজার ৪০০ টাকায়।
এদিকে বরিশাল শহরে এলপিজির দাম ঢাকার তুলনায় ৪০০-৫০০ টাকা কম। পেট্রম্যাক্স, সান ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৭০ টাকা এবং টোটাল গ্যাসের দাম ১ হাজার ৯২০ টাকা।
ভারতের রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল কোম্পানি আইওসিএলের তথ্য বলছে, দেশটির একেক রাজ্যে এলপিজির একেক দাম। পশ্চিম বাংলার প্রধান শহর কলকাতায় ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা দাম ৯৬৮ রুপি। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ৬৮ দশমিক ১৭ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৭ টাকা। দিল্লি ও মুম্বাইয়ে দাম আরও কম।
আইওসিএলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা আছে, গত জুন থেকে বর্তমান দাম কার্যকর এবং এই দামের মধ্যে ভর্তুকি নেই।
জানা গেছে, ভারতে এলপিজিতে দুই ধরনের ভর্তুকি দেওয়া হয়। একটি হলো দরিদ্র মানুষকে সিলিন্ডারপ্রতি ৩০০ রুপি দেয় সরকার, যা ব্যাংক/মুঠোফোনে আর্থিক সেবা হিসেবে পাঠানো হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল কোম্পানি আইওসিএল অনেক সময় লোকসান দিয়ে বাসাবাড়ির এলপিজি বিক্রি করে।
ভারতের সুপরিচিত দৈনিক দ্য হিন্দুর একটি প্রতিবেদন বলছে, সেপ্টেম্বরে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারে পরোক্ষ ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২১০ রুপি। হিসাব করে দেখা যায়, ভর্তুকি বাদ দিলেও ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০০ টাকার আশপাশে থাকে।
শ্রীলঙ্কার বেসরকারি কোম্পানি লাফ গ্যাস তাদের ওয়েবসাইটে বলছে, দেশটির বিভিন্ন শহরে এলপিজির দামে কিছুটা ভিন্নতা আছে। রাজধানী কলম্বোয় সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৯৬৫ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ হাজার ৪০০ টাকার কম।
পাকিস্তানের সংবাদপত্র দ্য ডন ১ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে বলেছে, এলপিজির দাম ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে পাকিস্তান অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটি। প্রতি কেজির দাম ২৭৯ রুপি করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১২৪ টাকা। হিসাব করে দেখা যায়, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম পড়ে দেড় হাজার টাকার কিছু কম।
নেপাল অয়েল করপোরেশনের তথ্য বলছে, দেশটিতে ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০০ টাকার কিছু কম।
ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে মোটামুটি সরকার নির্ধারিত দামেই এলপিজি বিক্রি হয় বলে সেখানকার সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন। পাকিস্তানে নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ আছে। তবে কোনো দেশেই বাংলাদেশের মতো চড়া দামে এলপিজি বিক্রি হয় না।
এলপিজি আমদানি ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে গভীর সমুদ্রে কোনো টার্মিনাল নেই। পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত করার মতো সক্ষমতাও তৈরি হয়নি। তাই ছোট ছোট জাহাজে করে আমদানি করা হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে।

কলকাতায় ৮৭, পাকিস্তানে ১২৪, বাংলাদেশে এলপিজি ১৫৩ টাকা কেজি
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের মানুষকে আশপাশের দেশের তুলনায় অত্যন্ত চড়া দামে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে। দেশে প্রতি কেজি এলপিজির সরকার নির্ধারিত দাম ১৫৩ টাকা। ভারতের কলকাতায় তা ৮৭ টাকা, পাকিস্তানে ১২৪ টাকা। শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও এলপিজির নির্ধারিত দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম। দেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে এলপিজির দাম লাগামছাড়া।
দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। এলপিজির চাহিদা এখন বছরে ১৫ লাখ টনের বেশি।
দেশে রান্নায় দুই ধরনের গ্যাস ব্যবহৃত হয়। একটি পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস। অন্যটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি। ২০১৫ সালের পর থেকে বাসাবাড়িতে গ্যাসের লাইন দেওয়া বন্ধ। অন্যদিকে বাড়ছে এলপিজির চাহিদা। এলপিজির দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত চাপে পড়ে যায়।
বাংলাদেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ২০২১ সালের আগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দামে এলপিজি বিক্রি করতেন। এরপর আদালতের আদেশে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা পায় বিইআরসি। এখন বিইআরসি ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। আশপাশের দেশগুলোর চেয়ে বাড়তি দাম নির্ধারণ করে দেয় তারা। অবশ্য সেই দাম কখনোই বাজারে কার্যকর হয় না।
সর্বশেষ গত রবিবার (৪ অক্টোবর) এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় একজন খুচরা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলপিজির সরবরাহ কম। ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার তারা বিক্রি করছেন ২ হাজার ৪০০ টাকায়।
এদিকে বরিশাল শহরে এলপিজির দাম ঢাকার তুলনায় ৪০০-৫০০ টাকা কম। পেট্রম্যাক্স, সান ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৭০ টাকা এবং টোটাল গ্যাসের দাম ১ হাজার ৯২০ টাকা।
ভারতের রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল কোম্পানি আইওসিএলের তথ্য বলছে, দেশটির একেক রাজ্যে এলপিজির একেক দাম। পশ্চিম বাংলার প্রধান শহর কলকাতায় ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা দাম ৯৬৮ রুপি। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ৬৮ দশমিক ১৭ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৭ টাকা। দিল্লি ও মুম্বাইয়ে দাম আরও কম।
আইওসিএলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা আছে, গত জুন থেকে বর্তমান দাম কার্যকর এবং এই দামের মধ্যে ভর্তুকি নেই।
জানা গেছে, ভারতে এলপিজিতে দুই ধরনের ভর্তুকি দেওয়া হয়। একটি হলো দরিদ্র মানুষকে সিলিন্ডারপ্রতি ৩০০ রুপি দেয় সরকার, যা ব্যাংক/মুঠোফোনে আর্থিক সেবা হিসেবে পাঠানো হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল কোম্পানি আইওসিএল অনেক সময় লোকসান দিয়ে বাসাবাড়ির এলপিজি বিক্রি করে।
ভারতের সুপরিচিত দৈনিক দ্য হিন্দুর একটি প্রতিবেদন বলছে, সেপ্টেম্বরে ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারে পরোক্ষ ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২১০ রুপি। হিসাব করে দেখা যায়, ভর্তুকি বাদ দিলেও ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০০ টাকার আশপাশে থাকে।
শ্রীলঙ্কার বেসরকারি কোম্পানি লাফ গ্যাস তাদের ওয়েবসাইটে বলছে, দেশটির বিভিন্ন শহরে এলপিজির দামে কিছুটা ভিন্নতা আছে। রাজধানী কলম্বোয় সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৯৬৫ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ হাজার ৪০০ টাকার কম।
পাকিস্তানের সংবাদপত্র দ্য ডন ১ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে বলেছে, এলপিজির দাম ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে পাকিস্তান অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটি। প্রতি কেজির দাম ২৭৯ রুপি করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১২৪ টাকা। হিসাব করে দেখা যায়, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম পড়ে দেড় হাজার টাকার কিছু কম।
নেপাল অয়েল করপোরেশনের তথ্য বলছে, দেশটিতে ১৪ দশমিক ২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০০ টাকার কিছু কম।
ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে মোটামুটি সরকার নির্ধারিত দামেই এলপিজি বিক্রি হয় বলে সেখানকার সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন। পাকিস্তানে নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ আছে। তবে কোনো দেশেই বাংলাদেশের মতো চড়া দামে এলপিজি বিক্রি হয় না।
এলপিজি আমদানি ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে গভীর সমুদ্রে কোনো টার্মিনাল নেই। পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত করার মতো সক্ষমতাও তৈরি হয়নি। তাই ছোট ছোট জাহাজে করে আমদানি করা হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে।

দেড় হাজার টাকার এলপিজি মিলছে না আড়াই হাজারেও







