যাদের আয়কর রিটার্নে সম্পদের বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
যাদের আয়কর রিটার্নে সম্পদের বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক
প্রতীকী ছবি

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সব করদাতার জন্য সম্পদের বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে করদাতাকে নিজের সম্পদ, দায় ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হয়। আয় ও সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাই করতেই এ তথ্য চাওয়া হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তিন ধরনের করদাতাদের জন্য সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। আয়কর রিটার্নের আইটি ১০বি (২০২৩) ফরমটি করদাতার পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর তথ্যের জন্য দেওয়া হয়।

বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হয়। তাদের পদ ও গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

দেশে ও বিদেশে থাকা সম্পদের মোট মূল্য ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে করদাতা সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হবে। বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের মূল্য হিসাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী অর্জনমূল্য বা মালিকানা অর্জনের সময়কার মূল্য বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়া, মোট সম্পদের মূল্য ৫০ লাখ টাকার কম হলেও আয়বর্ষের কোনো সময়ে মোটরযানের মালিক থাকলে, সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করলে, বিদেশে সম্পদের মালিক হলে অথবা কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হলে সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে।

আইটি-১০বি ফরমে করদাতার সম্পদ ও দায়ের বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে-

  1. ব্যবসার সম্পদ, দায় ও মূলধন
  2. শেয়ার ও অংশীদারি ব্যবসায় বিনিয়োগ
  3. কৃষিজমি, অকৃষিজমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট
  4. ব্যাংক জমা ও সঞ্চয়পত্র
  5. শেয়ার, বন্ড ও অন্য বিনিয়োগ
  6. অন্যকে দেওয়া ঋণ
  7. প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ
  8. মোটরযান
  9. স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী
  10. আসবাবপত্র ও অন্যান্য সম্পদ
  11. নগদ অর্থ
  12. বিদেশে থাকা সম্পদ

সব সম্পদের প্রযোজ্য মূল্য হিসাব করে মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে। এরপর করদাতার নাম, স্বাক্ষর ও তারিখ দিয়ে ঘোষণার অংশ পূরণ করতে হবে।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় যাদের জন্য সম্পদের বিবরণী প্রযোজ্য, তাদের নির্ধারিত অংশে সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিতে হবে। তথ্য পূরণের আগে সম্পদের মূল্য, মালিকানার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

/এসবি/