বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আরও কমবে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি: আইএমএফ

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আরও কমবে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি: আইএমএফ
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির এ চিত্র উঠে আসে। এদিন আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
‘রেজিলিয়েন্স আন্ডার স্ট্রেইন, আর্জেন্ট চয়েসেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি নানা ধাক্কা সামলে টিকে থাকলেও সব দেশ সমানভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছে না। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুবিধা পাওয়া দেশগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো বেশি চাপে রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে। এতে ডলারের চাহিদা, বিদ্যুৎ ও পরিবহণ ব্যয় এবং উৎপাদন খরচের ওপর চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে পণ্য ও সেবায়। যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনুষ্ঠানস্থলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না সরকার। সংস্থাগুলো নিজ নিজ হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে। তিনি বলেন, আইএমএফ তাদের মতো করে হিসাব দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এটাই মূল কথা।
চলতি বছরের এপ্রিলে আইএমএফ পূর্বাভাসে বলেছিল, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তিন মাস পর জুলাইয়ে তা কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশের কথা বলেছিল। এবার তা আরও কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশের কথা বলছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পূর্বাভাসও কমেছে। বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির।
বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রবৃদ্ধি কমবে
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতি সহনশীলতা বজায় রেখেছে। তবে সেই সক্ষমতা ধরে রাখার ব্যয় বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহণ খরচ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে যেতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য পরামর্শ
বাংলাদেশের জন্য এখন বড় হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি উঁচুতে থাকার পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নিলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগের ইঙ্গিত রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য ছিল জিডিপির প্রায় শূন্য শতাংশ। ২০২৬ সালে তা ঘাটতিতে পড়ে জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ সালে ঘাটতি বেড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সরকার কীভাবে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেবে, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, সবার জন্য ব্যাপক ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সাময়িক ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়া বেশি কার্যকর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে বাজারদর কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখার ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার তুলনায় তিন থেকে ২২ গুণ পর্যন্ত বেশি সরকারি অর্থ ব্যয় হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ পরামর্শের গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি নির্ধারণের সময়ও প্রতিটি দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির এ চিত্র উঠে আসে। এদিন আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
‘রেজিলিয়েন্স আন্ডার স্ট্রেইন, আর্জেন্ট চয়েসেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি নানা ধাক্কা সামলে টিকে থাকলেও সব দেশ সমানভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছে না। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুবিধা পাওয়া দেশগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো বেশি চাপে রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে। এতে ডলারের চাহিদা, বিদ্যুৎ ও পরিবহণ ব্যয় এবং উৎপাদন খরচের ওপর চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে পণ্য ও সেবায়। যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনুষ্ঠানস্থলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না সরকার। সংস্থাগুলো নিজ নিজ হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে। তিনি বলেন, আইএমএফ তাদের মতো করে হিসাব দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এটাই মূল কথা।
চলতি বছরের এপ্রিলে আইএমএফ পূর্বাভাসে বলেছিল, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তিন মাস পর জুলাইয়ে তা কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশের কথা বলেছিল। এবার তা আরও কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশের কথা বলছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পূর্বাভাসও কমেছে। বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির।
বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রবৃদ্ধি কমবে
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতি সহনশীলতা বজায় রেখেছে। তবে সেই সক্ষমতা ধরে রাখার ব্যয় বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহণ খরচ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে যেতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য পরামর্শ
বাংলাদেশের জন্য এখন বড় হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি উঁচুতে থাকার পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নিলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগের ইঙ্গিত রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য ছিল জিডিপির প্রায় শূন্য শতাংশ। ২০২৬ সালে তা ঘাটতিতে পড়ে জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ সালে ঘাটতি বেড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সরকার কীভাবে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেবে, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, সবার জন্য ব্যাপক ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সাময়িক ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়া বেশি কার্যকর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে বাজারদর কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখার ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার তুলনায় তিন থেকে ২২ গুণ পর্যন্ত বেশি সরকারি অর্থ ব্যয় হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ পরামর্শের গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি নির্ধারণের সময়ও প্রতিটি দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আরও কমবে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি: আইএমএফ
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির এ চিত্র উঠে আসে। এদিন আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
‘রেজিলিয়েন্স আন্ডার স্ট্রেইন, আর্জেন্ট চয়েসেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি নানা ধাক্কা সামলে টিকে থাকলেও সব দেশ সমানভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছে না। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুবিধা পাওয়া দেশগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো বেশি চাপে রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে। এতে ডলারের চাহিদা, বিদ্যুৎ ও পরিবহণ ব্যয় এবং উৎপাদন খরচের ওপর চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে পণ্য ও সেবায়। যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনুষ্ঠানস্থলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না সরকার। সংস্থাগুলো নিজ নিজ হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে। তিনি বলেন, আইএমএফ তাদের মতো করে হিসাব দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এটাই মূল কথা।
চলতি বছরের এপ্রিলে আইএমএফ পূর্বাভাসে বলেছিল, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তিন মাস পর জুলাইয়ে তা কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশের কথা বলেছিল। এবার তা আরও কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশের কথা বলছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পূর্বাভাসও কমেছে। বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির।
বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রবৃদ্ধি কমবে
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতি সহনশীলতা বজায় রেখেছে। তবে সেই সক্ষমতা ধরে রাখার ব্যয় বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহণ খরচ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে যেতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য পরামর্শ
বাংলাদেশের জন্য এখন বড় হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি উঁচুতে থাকার পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নিলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগের ইঙ্গিত রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য ছিল জিডিপির প্রায় শূন্য শতাংশ। ২০২৬ সালে তা ঘাটতিতে পড়ে জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ সালে ঘাটতি বেড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সরকার কীভাবে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেবে, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, সবার জন্য ব্যাপক ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সাময়িক ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়া বেশি কার্যকর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে বাজারদর কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখার ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার তুলনায় তিন থেকে ২২ গুণ পর্যন্ত বেশি সরকারি অর্থ ব্যয় হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ পরামর্শের গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি নির্ধারণের সময়ও প্রতিটি দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এডিবির পূর্বাভাসে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৪ শতাংশ







