কুমিল্লায় জামায়াতের কমিটি নিয়ে বিরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর

কুমিল্লায় জামায়াতের কমিটি নিয়ে বিরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর
সিজেডএন ডেস্ক

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে দলটির মহানগর কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরের মোগলটুলি এলাকার ফারুকিয়া হাউজিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার সময় কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমসহ মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মহানগর আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ও রুকনদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় কার্যালয়ের বাইরে একদল নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহানগর জামায়াতের অন্তত তিনজন নেতার সঙ্গে কথা বলে কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের বিষয়টি জানা গেছে। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহানগর আমিরের দায়িত্বে থাকা কাজী দ্বীন মোহাম্মদকে ঘিরে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে মহানগর কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কেন্দ্র থেকে বর্তমান আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক (মামুন) ও আরেক নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিনকে পরবর্তী কমিটির নেতৃত্বে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তারা জানান। তাদের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
ওই নেতাদের ভাষ্য, সম্প্রতি আমির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা ভোটার তালিকায় বর্তমান আমির ও দুই নায়েবে আমিরের নাম রাখা হয়নি। তবে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানসহ অন্য নেতাদের নাম রয়েছে। এ নিয়ে দলের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। মাহবুবুর রহমান আমির নির্বাচিত হতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে কয়েক দিন ধরে তার বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল বলেও তারা দাবি করেন।
জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, রুকনদের ভোটে দলের আমির নির্বাচিত হন। মহানগর আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম। বুধবার তিনি মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দলীয় নেতাদের একাংশের অভিযোগ, বৈঠক চলাকালে এ কে এম এমদাদুল হকের অনুসারীরা কার্যালয়ের বাইরে হট্টগোল শুরু করেন। পরে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এমদাদুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বুধবারের বৈঠকেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনাস্থলে ভাঙচুর করা গাড়ির পাশে কাচের টুকরা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতা এ টি এম মাছুম নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
দলীয় নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ১৯৯৮ সাল থেকে কুমিল্লা শহর জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর তিনি মহানগর জামায়াতের আমির হন। সেই হিসাবে প্রায় ২৮ বছর ধরে তিনি শহর ও মহানগর জামায়াতের নেতৃত্বে রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই ব্যক্তির নেতৃত্বে থাকা নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে নেতাদের একাংশ মনে করেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক, সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেলসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠানো হয়। আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের বরাতে পাঠানো ওই বক্তব্যে বলা হয়, মহানগরীর সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলার সময় কয়েকজন যুবক সেখানে ঢুকে হইচই শুরু করেন। পরে চিৎকার করতে করতে চলে যাওয়ার সময় তারা একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে দলটির মহানগর কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরের মোগলটুলি এলাকার ফারুকিয়া হাউজিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার সময় কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমসহ মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মহানগর আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ও রুকনদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় কার্যালয়ের বাইরে একদল নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহানগর জামায়াতের অন্তত তিনজন নেতার সঙ্গে কথা বলে কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের বিষয়টি জানা গেছে। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহানগর আমিরের দায়িত্বে থাকা কাজী দ্বীন মোহাম্মদকে ঘিরে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে মহানগর কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কেন্দ্র থেকে বর্তমান আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক (মামুন) ও আরেক নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিনকে পরবর্তী কমিটির নেতৃত্বে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তারা জানান। তাদের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
ওই নেতাদের ভাষ্য, সম্প্রতি আমির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা ভোটার তালিকায় বর্তমান আমির ও দুই নায়েবে আমিরের নাম রাখা হয়নি। তবে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানসহ অন্য নেতাদের নাম রয়েছে। এ নিয়ে দলের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। মাহবুবুর রহমান আমির নির্বাচিত হতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে কয়েক দিন ধরে তার বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল বলেও তারা দাবি করেন।
জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, রুকনদের ভোটে দলের আমির নির্বাচিত হন। মহানগর আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম। বুধবার তিনি মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দলীয় নেতাদের একাংশের অভিযোগ, বৈঠক চলাকালে এ কে এম এমদাদুল হকের অনুসারীরা কার্যালয়ের বাইরে হট্টগোল শুরু করেন। পরে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এমদাদুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বুধবারের বৈঠকেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনাস্থলে ভাঙচুর করা গাড়ির পাশে কাচের টুকরা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতা এ টি এম মাছুম নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
দলীয় নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ১৯৯৮ সাল থেকে কুমিল্লা শহর জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর তিনি মহানগর জামায়াতের আমির হন। সেই হিসাবে প্রায় ২৮ বছর ধরে তিনি শহর ও মহানগর জামায়াতের নেতৃত্বে রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই ব্যক্তির নেতৃত্বে থাকা নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে নেতাদের একাংশ মনে করেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক, সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেলসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠানো হয়। আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের বরাতে পাঠানো ওই বক্তব্যে বলা হয়, মহানগরীর সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলার সময় কয়েকজন যুবক সেখানে ঢুকে হইচই শুরু করেন। পরে চিৎকার করতে করতে চলে যাওয়ার সময় তারা একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

কুমিল্লায় জামায়াতের কমিটি নিয়ে বিরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর
সিজেডএন ডেস্ক

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে দলটির মহানগর কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরের মোগলটুলি এলাকার ফারুকিয়া হাউজিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার সময় কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমসহ মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মহানগর আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ও রুকনদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় কার্যালয়ের বাইরে একদল নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহানগর জামায়াতের অন্তত তিনজন নেতার সঙ্গে কথা বলে কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের বিষয়টি জানা গেছে। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহানগর আমিরের দায়িত্বে থাকা কাজী দ্বীন মোহাম্মদকে ঘিরে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে মহানগর কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কেন্দ্র থেকে বর্তমান আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক (মামুন) ও আরেক নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিনকে পরবর্তী কমিটির নেতৃত্বে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তারা জানান। তাদের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
ওই নেতাদের ভাষ্য, সম্প্রতি আমির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা ভোটার তালিকায় বর্তমান আমির ও দুই নায়েবে আমিরের নাম রাখা হয়নি। তবে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানসহ অন্য নেতাদের নাম রয়েছে। এ নিয়ে দলের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। মাহবুবুর রহমান আমির নির্বাচিত হতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে কয়েক দিন ধরে তার বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল বলেও তারা দাবি করেন।
জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, রুকনদের ভোটে দলের আমির নির্বাচিত হন। মহানগর আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম। বুধবার তিনি মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দলীয় নেতাদের একাংশের অভিযোগ, বৈঠক চলাকালে এ কে এম এমদাদুল হকের অনুসারীরা কার্যালয়ের বাইরে হট্টগোল শুরু করেন। পরে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এমদাদুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বুধবারের বৈঠকেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনাস্থলে ভাঙচুর করা গাড়ির পাশে কাচের টুকরা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতা এ টি এম মাছুম নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
দলীয় নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ১৯৯৮ সাল থেকে কুমিল্লা শহর জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর তিনি মহানগর জামায়াতের আমির হন। সেই হিসাবে প্রায় ২৮ বছর ধরে তিনি শহর ও মহানগর জামায়াতের নেতৃত্বে রয়েছেন। দীর্ঘদিন একই ব্যক্তির নেতৃত্বে থাকা নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে নেতাদের একাংশ মনে করেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক, সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেলসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠানো হয়। আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের বরাতে পাঠানো ওই বক্তব্যে বলা হয়, মহানগরীর সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলার সময় কয়েকজন যুবক সেখানে ঢুকে হইচই শুরু করেন। পরে চিৎকার করতে করতে চলে যাওয়ার সময় তারা একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।









