পরিত্যক্ত ‘নগর পাঠাগারে’ ফিরেছে প্রাণ

পরিত্যক্ত ‘নগর পাঠাগারে’ ফিরেছে প্রাণ
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

একসময় রেস্টুরেন্ট ও গোডাউনের দখলে থাকা আজিমপুরের পরিত্যক্ত ‘নগর পাঠাগার’ এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভরে ওঠে বইয়ের পাতার শব্দে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওই স্থাপনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এখন চালু হয়েছে ‘শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ স্মৃতি পাঠাগার’। একসময় অব্যবহৃত থাকা পাঠাগারটি এখন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। অনেকে এখানে এসে খুঁজে নিচ্ছেন নিরিবিলি পড়ার জায়গা।
কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পাঠাগারগুলোকে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীবান্ধব পাঠকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
সংগঠনটির সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) চুক্তির আওতায় এরকম ৮টি পাঠাগার পর্যায়ক্রমে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন নিয়মিত পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল না। এর মধ্যে মীর মুগ্ধ স্মৃতি পাঠাগার চালু হয়েছে এবং আরও দুটি পাঠাগার সচল করার কাজ চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঠাগারটি খোলা থাকে। নিয়মিত পাঠকদের কাছ থেকে মাসিক ৪০০ টাকা ম্যানেজমেন্ট ফি নেওয়া হয়। আর যারা নিয়মিত না এসে মাঝে মধ্যে পড়তে আসেন, তাদের জন্য রয়েছে ১০ টাকা প্রবেশমূল্য। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ফি দিয়ে পাঠাগার পরিচালনার পুরো ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না; বরং ব্যয়ের একটি বড় অংশ সংগঠনটি নিজস্ব অর্থায়নে বহন করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রায় ২০টি টেবিল ও শতাধিক চেয়ার রয়েছে। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ছাদসংলগ্ন একটি স্থানে গরম ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ইন্টারনেট সুবিধা, পত্রিকা পড়ার সুযোগ এবং খাবারের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে। সিঁড়িঘরে রং করাসহ কিছু সংস্কারকাজও চলছে।

নিচতলায় থাকা পাবলিক টয়লেট সিটি করপোরেশনের ইজারায় পরিচালিত হলেও পাঠাগারে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এর জন্য আলাদা কোনো টাকা নেওয়া হয় না।
পাঠাগারে বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ, সাহিত্য, উপন্যাস, ছোটগল্পসহ বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লেখকের বই সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাঠাগার আরও সমৃদ্ধ করতে অনলাইন ও অফলাইন দুইভাবেই বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাঠাগারে পড়তে আসা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান জীম বলেন, ‘এই লাইব্রেরির পরিবেশ পড়াশোনার জন্য অনেক ভালো। বাইরের অন্য প্রাইভেট লাইব্রেরিতে খরচ অনেক বেশি। আরও কিছু বই এখানে যুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান থাকবে।’
গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রাফি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের অব্যবহৃত পাঠাগারগুলো সচল করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। পর্যায়ক্রমে সবগুলো সচল করা হবে ‘
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া এই মানের লাইব্রেরির সুবিধা খুব একটা নেই। কোথাও পড়তে হলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। আমরা চাচ্ছি, ন্যূনতম একটা ফি নিয়ে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ করে দিতে।’
পাঠাগারটির বই সংগ্রহ নিয়েও কাজ করছে ফাউন্ডেশন। রাফি জানান, ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটি পুরনো লাইব্রেরির গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের স্বত্বাধিকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বত্বাধিকারীদের অনুমতি নিয়ে সেগুলো পাঠাগারে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বইগুলো ডিজিটাল রূপে সংরক্ষণ করে অনলাইন আর্কাইভ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে উদ্যোগটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই ভবনটি মূলত লাইব্রেরির জন্যই করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একজন এটি ব্যবহার করে রেস্টুরেন্ট ও গোডাউন হিসেবে পরিচালনা করেছিলেন। জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা সিটি করপোরেশনের কাছে প্রস্তাব দিই। তাদের আটটি লাইব্রেরির স্থাপনা আছে, কিন্তু কোনোটিতেই নিয়মিত লাইব্রেরির কার্যক্রম ছিল না। আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করি। পরে আমাদের সঙ্গে চুক্তি হয়।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঠাগার বিষয়ক কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘দক্ষিণ সিটিতে আটটি লাইব্রেরি আছে। আমরা একে একে সব চালু করছি। মীর মুগ্ধ পাঠাগার এরইমধ্যে চালু করা হয়েছে। পাঠাগার বিষয়ে আমাদের একটি কমিটি আছে। আমি সেই কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করছি। মীর মুগ্ধ পাঠাগারে বর্তমানে ছোটখাটো কিছু সংস্কারকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এই পাঠাগার সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

একসময় রেস্টুরেন্ট ও গোডাউনের দখলে থাকা আজিমপুরের পরিত্যক্ত ‘নগর পাঠাগার’ এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভরে ওঠে বইয়ের পাতার শব্দে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওই স্থাপনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এখন চালু হয়েছে ‘শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ স্মৃতি পাঠাগার’। একসময় অব্যবহৃত থাকা পাঠাগারটি এখন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। অনেকে এখানে এসে খুঁজে নিচ্ছেন নিরিবিলি পড়ার জায়গা।
কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পাঠাগারগুলোকে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীবান্ধব পাঠকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
সংগঠনটির সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) চুক্তির আওতায় এরকম ৮টি পাঠাগার পর্যায়ক্রমে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন নিয়মিত পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল না। এর মধ্যে মীর মুগ্ধ স্মৃতি পাঠাগার চালু হয়েছে এবং আরও দুটি পাঠাগার সচল করার কাজ চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঠাগারটি খোলা থাকে। নিয়মিত পাঠকদের কাছ থেকে মাসিক ৪০০ টাকা ম্যানেজমেন্ট ফি নেওয়া হয়। আর যারা নিয়মিত না এসে মাঝে মধ্যে পড়তে আসেন, তাদের জন্য রয়েছে ১০ টাকা প্রবেশমূল্য। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ফি দিয়ে পাঠাগার পরিচালনার পুরো ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না; বরং ব্যয়ের একটি বড় অংশ সংগঠনটি নিজস্ব অর্থায়নে বহন করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রায় ২০টি টেবিল ও শতাধিক চেয়ার রয়েছে। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ছাদসংলগ্ন একটি স্থানে গরম ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ইন্টারনেট সুবিধা, পত্রিকা পড়ার সুযোগ এবং খাবারের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে। সিঁড়িঘরে রং করাসহ কিছু সংস্কারকাজও চলছে।

নিচতলায় থাকা পাবলিক টয়লেট সিটি করপোরেশনের ইজারায় পরিচালিত হলেও পাঠাগারে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এর জন্য আলাদা কোনো টাকা নেওয়া হয় না।
পাঠাগারে বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ, সাহিত্য, উপন্যাস, ছোটগল্পসহ বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লেখকের বই সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাঠাগার আরও সমৃদ্ধ করতে অনলাইন ও অফলাইন দুইভাবেই বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাঠাগারে পড়তে আসা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান জীম বলেন, ‘এই লাইব্রেরির পরিবেশ পড়াশোনার জন্য অনেক ভালো। বাইরের অন্য প্রাইভেট লাইব্রেরিতে খরচ অনেক বেশি। আরও কিছু বই এখানে যুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান থাকবে।’
গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রাফি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের অব্যবহৃত পাঠাগারগুলো সচল করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। পর্যায়ক্রমে সবগুলো সচল করা হবে ‘
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া এই মানের লাইব্রেরির সুবিধা খুব একটা নেই। কোথাও পড়তে হলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। আমরা চাচ্ছি, ন্যূনতম একটা ফি নিয়ে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ করে দিতে।’
পাঠাগারটির বই সংগ্রহ নিয়েও কাজ করছে ফাউন্ডেশন। রাফি জানান, ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটি পুরনো লাইব্রেরির গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের স্বত্বাধিকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বত্বাধিকারীদের অনুমতি নিয়ে সেগুলো পাঠাগারে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বইগুলো ডিজিটাল রূপে সংরক্ষণ করে অনলাইন আর্কাইভ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে উদ্যোগটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই ভবনটি মূলত লাইব্রেরির জন্যই করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একজন এটি ব্যবহার করে রেস্টুরেন্ট ও গোডাউন হিসেবে পরিচালনা করেছিলেন। জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা সিটি করপোরেশনের কাছে প্রস্তাব দিই। তাদের আটটি লাইব্রেরির স্থাপনা আছে, কিন্তু কোনোটিতেই নিয়মিত লাইব্রেরির কার্যক্রম ছিল না। আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করি। পরে আমাদের সঙ্গে চুক্তি হয়।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঠাগার বিষয়ক কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘দক্ষিণ সিটিতে আটটি লাইব্রেরি আছে। আমরা একে একে সব চালু করছি। মীর মুগ্ধ পাঠাগার এরইমধ্যে চালু করা হয়েছে। পাঠাগার বিষয়ে আমাদের একটি কমিটি আছে। আমি সেই কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করছি। মীর মুগ্ধ পাঠাগারে বর্তমানে ছোটখাটো কিছু সংস্কারকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এই পাঠাগার সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

পরিত্যক্ত ‘নগর পাঠাগারে’ ফিরেছে প্রাণ
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

একসময় রেস্টুরেন্ট ও গোডাউনের দখলে থাকা আজিমপুরের পরিত্যক্ত ‘নগর পাঠাগার’ এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভরে ওঠে বইয়ের পাতার শব্দে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওই স্থাপনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় এখন চালু হয়েছে ‘শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ স্মৃতি পাঠাগার’। একসময় অব্যবহৃত থাকা পাঠাগারটি এখন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। অনেকে এখানে এসে খুঁজে নিচ্ছেন নিরিবিলি পড়ার জায়গা।
কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পাঠাগারগুলোকে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীবান্ধব পাঠকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
সংগঠনটির সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) চুক্তির আওতায় এরকম ৮টি পাঠাগার পর্যায়ক্রমে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন নিয়মিত পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল না। এর মধ্যে মীর মুগ্ধ স্মৃতি পাঠাগার চালু হয়েছে এবং আরও দুটি পাঠাগার সচল করার কাজ চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঠাগারটি খোলা থাকে। নিয়মিত পাঠকদের কাছ থেকে মাসিক ৪০০ টাকা ম্যানেজমেন্ট ফি নেওয়া হয়। আর যারা নিয়মিত না এসে মাঝে মধ্যে পড়তে আসেন, তাদের জন্য রয়েছে ১০ টাকা প্রবেশমূল্য। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ফি দিয়ে পাঠাগার পরিচালনার পুরো ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না; বরং ব্যয়ের একটি বড় অংশ সংগঠনটি নিজস্ব অর্থায়নে বহন করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রায় ২০টি টেবিল ও শতাধিক চেয়ার রয়েছে। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ছাদসংলগ্ন একটি স্থানে গরম ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ইন্টারনেট সুবিধা, পত্রিকা পড়ার সুযোগ এবং খাবারের জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে। সিঁড়িঘরে রং করাসহ কিছু সংস্কারকাজও চলছে।

নিচতলায় থাকা পাবলিক টয়লেট সিটি করপোরেশনের ইজারায় পরিচালিত হলেও পাঠাগারে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এর জন্য আলাদা কোনো টাকা নেওয়া হয় না।
পাঠাগারে বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ, সাহিত্য, উপন্যাস, ছোটগল্পসহ বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লেখকের বই সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাঠাগার আরও সমৃদ্ধ করতে অনলাইন ও অফলাইন দুইভাবেই বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাঠাগারে পড়তে আসা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান জীম বলেন, ‘এই লাইব্রেরির পরিবেশ পড়াশোনার জন্য অনেক ভালো। বাইরের অন্য প্রাইভেট লাইব্রেরিতে খরচ অনেক বেশি। আরও কিছু বই এখানে যুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান থাকবে।’
গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রাফি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের অব্যবহৃত পাঠাগারগুলো সচল করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। পর্যায়ক্রমে সবগুলো সচল করা হবে ‘
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া এই মানের লাইব্রেরির সুবিধা খুব একটা নেই। কোথাও পড়তে হলে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। আমরা চাচ্ছি, ন্যূনতম একটা ফি নিয়ে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ করে দিতে।’
পাঠাগারটির বই সংগ্রহ নিয়েও কাজ করছে ফাউন্ডেশন। রাফি জানান, ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটি পুরনো লাইব্রেরির গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের স্বত্বাধিকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বত্বাধিকারীদের অনুমতি নিয়ে সেগুলো পাঠাগারে আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বইগুলো ডিজিটাল রূপে সংরক্ষণ করে অনলাইন আর্কাইভ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে উদ্যোগটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই ভবনটি মূলত লাইব্রেরির জন্যই করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একজন এটি ব্যবহার করে রেস্টুরেন্ট ও গোডাউন হিসেবে পরিচালনা করেছিলেন। জুলাই-পরবর্তী সময়ে আমরা সিটি করপোরেশনের কাছে প্রস্তাব দিই। তাদের আটটি লাইব্রেরির স্থাপনা আছে, কিন্তু কোনোটিতেই নিয়মিত লাইব্রেরির কার্যক্রম ছিল না। আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করি। পরে আমাদের সঙ্গে চুক্তি হয়।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঠাগার বিষয়ক কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘দক্ষিণ সিটিতে আটটি লাইব্রেরি আছে। আমরা একে একে সব চালু করছি। মীর মুগ্ধ পাঠাগার এরইমধ্যে চালু করা হয়েছে। পাঠাগার বিষয়ে আমাদের একটি কমিটি আছে। আমি সেই কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করছি। মীর মুগ্ধ পাঠাগারে বর্তমানে ছোটখাটো কিছু সংস্কারকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এই পাঠাগার সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

এক প্রাঙ্গণে দুই স্কুল, শিক্ষক-শ্রেণিকক্ষ সংকটে আরমানিটোলা বিদ্যালয়







