‘সুপার ইলেভেন’ থেকে ‘সুপার সিক্স’ হচ্ছে এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘সুপার ইলেভেন’ থেকে ‘সুপার সিক্স’ হচ্ছে এনসিপি
উপরে বাঁ থেকে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এতে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন তাদের বর্তমান পদেই থাকছেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অথবা বুধবার পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। নেতাদের সাংগঠনিক তৎপরতা ও কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, নতুন কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেতে পারেন। অন্যদিকে সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করা হতে পারে।

বর্তমানে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের ১১টি পদকে ‘সুপার ইলেভেন’ নামে অভিহিত করা হয়। কমিটি পুনর্গঠনের পর এই কাঠামো ছোট হয়ে ছয়টি শীর্ষ পদে সীমিত হবে। দলটির নেতারা একে ‘সুপার সিক্স’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

শীর্ষ পদে থাকছেন যারা

এনসিপির তিনজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে বর্তমানে ১৬ জন সদস্য রয়েছেন। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদাধিকারবলে এই পর্ষদের সদস্য। পুনর্গঠিত কাঠামোতেও তাদের পাশাপাশি পাটওয়ারী, হাসনাত, সারজিস ও আসিফ মাহমুদ শীর্ষ নেতৃত্বে থাকবেন।

রাজনৈতিক পর্ষদের বাকি ১০ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তারা হলেন আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহউদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।

দলীয় সূত্র বলছে, যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিবদের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হবে। তারা মূলত দলের সহযোগী সংগঠন ও বিভিন্ন সেলের কার্যক্রম তদারক করবেন।

কেন এই পুনর্গঠন

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। শুরু থেকেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক, হাসনাত আবদুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটিতে যোগ দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পান সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

দল গঠনের পর থেকে জাতীয় নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে এই নেতাদের ভূমিকা আলোচনায় এসেছে। তাদের সাংগঠনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করাও পুনর্গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে দলের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরে অনেকে যুক্ত হওয়ায় তাদের দায়িত্ব দিতে নতুন কিছু পদ তৈরি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কাঠামো এখন পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলে দল মনে করছে।

নেতাদের কার্যক্রম মূল্যায়নের বিষয়ে মনিরা শারমিন বলেন, দলের অনেক নেতা নিজেদের কাজের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। আবার কেউ কেউ সেভাবে সক্রিয় ছিলেন না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের আলোচনা সামনে এসেছিল। তখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দলের কার্যক্রমে গতি আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। পাশাপাশি ২০২৭ সালের শুরুতে দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানা গিয়েছিল। তবে সে সময় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়নি।

/এমআর/