আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখি না: ডা. জাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখি না: ডা. জাহেদ
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ডা. জাহেদ উর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক রিকনসিলিয়েশন নিয়ে সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। দলটির নেতারা অতীতের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেই যে সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড এবং দলটির নেতৃত্বের বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় সমঝোতার কোনও বাস্তব সম্ভাবনা দেখছি না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, গত সপ্তাহে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে দেওয়া আমার বক্তব্যটি সংবাদমাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তাতে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক বিষয় রয়েছে। প্রথমত, যারা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, তাদের বিচার অবশ্যই হতে হবে। রাজনৈতিক সমঝোতার আলোচনা কোনওভাবেই সেই বিচার প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না। তবে অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে সমঝোতার আলোচনা হতে পারে।

তিনি বলেন, একটি দল মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের পর ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু এতদিন পরও দলটির পক্ষ থেকে সেসব অপরাধ স্বীকার বা অনুশোচনার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং তাদের কর্মকাণ্ডে এখনও উসকানি ও সংঘাত সৃষ্টির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে দলটা এই ধরনের কাজ করে বেড়ায় এবং দেশের ভেতরে সন্ত্রাস ও নানারকম উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের সঙ্গে আলাপের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী হবে, সেটি বোঝাই যায়। সরকারের দিক থেকে উদ্যোগ নেওয়ার তো কোনও প্রশ্নই আসে না।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয়েছে, রায়ও হয়েছে। আরও যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া রয়েছে, সেগুলোও চলবে।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল তার অতীত কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করবে এবং ক্ষমা চাইবে, এটি প্রত্যাশিত হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইলেই সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে, এমন কোনও শর্ত সরকার দেয়নি। এটা করলে আলাপ শুরু করা যাবে কিনা, সেই আলাপ পরে হতে পারে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, কেউ যদি ভবিষ্যতে এসে জানান যে আওয়ামী লীগ অপরাধের দায় স্বীকার করেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে, তখন নতুন পরিস্থিতিতে আলোচনা আদৌ সম্ভব কিনা, সেটি বিবেচনার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সেটিও একান্তই তাত্ত্বিক আলোচনা। এর অর্থ এই নয় যে সরকার এখনই কোনও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রক্রিয়ায় যেতে চাইছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নয়, তারও বহু বছর আগে থেকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের অবস্থানে কোনও অস্পষ্টতা নেই। সরকার বরং শুরু থেকেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে চাইছে। আমরা চাই উনি আসুক। আমাদের কি কোনও অস্পষ্টতা আছে যে শেখ হাসিনাকে আমরা চাই না বাংলাদেশে? শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার হয়েছে এবং আদালতের রায়ও এসেছে। ফলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

/এসবি/