গুজব ছড়ালে ১০ বছরের কারাদণ্ড

গুজব ছড়ালে ১০ বছরের কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক

আবারও ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন ধারা যুক্ত করে আইনটি আরও কঠোর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে শাস্তিও।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইন বাস্তবায়নে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনুমোদিত অন্যান্য সংস্থাও ভূমিকা পালন করবে। যদিও খসড়ায় নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ নেই। এখানে মূলত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, সংসদের আগামী অধিবেশনেই সংশোধিত আইনটি উত্থাপন ও পাস হতে পারে।
খসড়ায় নতুন ২৬(ক) ধারা যুক্ত করে বলা হয়েছে, সাইবার মাধ্যমে গুজব বা অপতথ্য ছড়িয়ে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র আলাদা সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে গুজব বলতে এমন ভুয়া তথ্য, সংবাদ কিংবা দাবি বোঝানো হয়েছে। যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে অপতথ্য হিসেবে এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, জনগণ বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করা হয়।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও, অডিও কিংবা বিকৃত ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা বাড়ছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, সংশোধিত বিধান কার্যকর হলে দেশের আইন আবারও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সময়কার বিতর্কিত অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। আইনটি দ্রুত পাস না করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত।
আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র মতো শব্দগুলোর ব্যাখ্যা আরও স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এসব ধারার প্রয়োগে ভিন্নমত বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংশোধনের আওতায় ২৫ নম্বর ধারায় ‘মানহানি’ ও ‘হেয়প্রতিপন্ন’-সংক্রান্ত নতুন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।
খসড়া অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অডিও, ভিডিও, স্থিরচিত্র, গ্রাফিক্স, অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কোনো উপাদান ব্যবহার করে অন্য কারও সুনাম ক্ষুণ্ন বা হেয় করার উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নারী কিংবা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে শাস্তি আরও কঠোর হবে। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। মানহানির সংজ্ঞা নির্ধারণে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার ব্যাখ্যাকে অনুসরণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারপ্রধান, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের বিরুদ্ধে নিয়মিত গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যা রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান আইনে নতুন বিধান যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বহুল সমালোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হয়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি বাতিল করে এবং পরে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে। পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা বিল-২০২৬’ পাস হয়। সেই আইন কার্যকরের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই আবারও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আবারও ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন ধারা যুক্ত করে আইনটি আরও কঠোর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে শাস্তিও।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইন বাস্তবায়নে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনুমোদিত অন্যান্য সংস্থাও ভূমিকা পালন করবে। যদিও খসড়ায় নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ নেই। এখানে মূলত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, সংসদের আগামী অধিবেশনেই সংশোধিত আইনটি উত্থাপন ও পাস হতে পারে।
খসড়ায় নতুন ২৬(ক) ধারা যুক্ত করে বলা হয়েছে, সাইবার মাধ্যমে গুজব বা অপতথ্য ছড়িয়ে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র আলাদা সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে গুজব বলতে এমন ভুয়া তথ্য, সংবাদ কিংবা দাবি বোঝানো হয়েছে। যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে অপতথ্য হিসেবে এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, জনগণ বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করা হয়।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও, অডিও কিংবা বিকৃত ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা বাড়ছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, সংশোধিত বিধান কার্যকর হলে দেশের আইন আবারও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সময়কার বিতর্কিত অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। আইনটি দ্রুত পাস না করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত।
আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র মতো শব্দগুলোর ব্যাখ্যা আরও স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এসব ধারার প্রয়োগে ভিন্নমত বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংশোধনের আওতায় ২৫ নম্বর ধারায় ‘মানহানি’ ও ‘হেয়প্রতিপন্ন’-সংক্রান্ত নতুন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।
খসড়া অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অডিও, ভিডিও, স্থিরচিত্র, গ্রাফিক্স, অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কোনো উপাদান ব্যবহার করে অন্য কারও সুনাম ক্ষুণ্ন বা হেয় করার উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নারী কিংবা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে শাস্তি আরও কঠোর হবে। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। মানহানির সংজ্ঞা নির্ধারণে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার ব্যাখ্যাকে অনুসরণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারপ্রধান, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের বিরুদ্ধে নিয়মিত গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যা রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান আইনে নতুন বিধান যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বহুল সমালোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হয়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি বাতিল করে এবং পরে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে। পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা বিল-২০২৬’ পাস হয়। সেই আইন কার্যকরের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই আবারও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গুজব ছড়ালে ১০ বছরের কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক

আবারও ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন ধারা যুক্ত করে আইনটি আরও কঠোর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে শাস্তিও।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইন বাস্তবায়নে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনুমোদিত অন্যান্য সংস্থাও ভূমিকা পালন করবে। যদিও খসড়ায় নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ নেই। এখানে মূলত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, সংসদের আগামী অধিবেশনেই সংশোধিত আইনটি উত্থাপন ও পাস হতে পারে।
খসড়ায় নতুন ২৬(ক) ধারা যুক্ত করে বলা হয়েছে, সাইবার মাধ্যমে গুজব বা অপতথ্য ছড়িয়ে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র আলাদা সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে গুজব বলতে এমন ভুয়া তথ্য, সংবাদ কিংবা দাবি বোঝানো হয়েছে। যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে অপতথ্য হিসেবে এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, জনগণ বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করা হয়।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও, অডিও কিংবা বিকৃত ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা বাড়ছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, সংশোধিত বিধান কার্যকর হলে দেশের আইন আবারও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সময়কার বিতর্কিত অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। আইনটি দ্রুত পাস না করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত।
আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র মতো শব্দগুলোর ব্যাখ্যা আরও স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এসব ধারার প্রয়োগে ভিন্নমত বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংশোধনের আওতায় ২৫ নম্বর ধারায় ‘মানহানি’ ও ‘হেয়প্রতিপন্ন’-সংক্রান্ত নতুন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।
খসড়া অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অডিও, ভিডিও, স্থিরচিত্র, গ্রাফিক্স, অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কোনো উপাদান ব্যবহার করে অন্য কারও সুনাম ক্ষুণ্ন বা হেয় করার উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নারী কিংবা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে শাস্তি আরও কঠোর হবে। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। মানহানির সংজ্ঞা নির্ধারণে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার ব্যাখ্যাকে অনুসরণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারপ্রধান, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের বিরুদ্ধে নিয়মিত গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যা রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান আইনে নতুন বিধান যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বহুল সমালোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হয়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি বাতিল করে এবং পরে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে। পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা বিল-২০২৬’ পাস হয়। সেই আইন কার্যকরের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই আবারও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জুলাইয়ের চেতনাকে বিক্রি না করার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর







