আবারও পুরোপুরি বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

দিনাজপুর সংবাদদাতা
দিনাজপুর সংবাদদাতা
আবারও পুরোপুরি বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

অগ্নিকাণ্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ) ভোর ৫টা ৫ মিনিটে ১ নম্বর ইউনিটের আইঅ্যান্ডসি সেকশনের বৈদ্যুতিক লাইনে শর্টসার্কিট থেকে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর প্রভাবে সচল থাকা ২৭৫ মেগাওয়াটের ৩ নম্বর ইউনিটটিও তাৎক্ষণিকভাবে ‘ট্রিপ’ করে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সামগ্রিক উৎপাদন পুরোপুরি থমকে যায়।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিট দুটির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের একদল চীনা প্রকৌশলী কাজ শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে প্রথম ইউনিট এবং মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ) ভোর ৫টা ৫ মিনিটে কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে ইউনিট দুটি কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পার্বতীপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত বা লো-ভোল্টেজের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ২৭৫ মেগাওয়াটের ৩ নম্বর ইউনিটটি প্রায় আট বছর চালু থাকার পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ১৮ মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর প্রায় দুই মাস আগে ইউনিটটি পুনরায় সচল করা হয়েছিলো। সম্প্রতি ১২৫ মেগাওয়াটের ১ নম্বর ইউনিট ও ৩ নম্বর ইউনিট সচল ছিল; যেখানে ১ নম্বর ইউনিট থেকে প্রায় ৬৫ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে ১২৫ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নিয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। লক্ষ্যমাত্রা ২৫০ মেগাওয়াট ধরা হলেও কখনই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হয়নি; দুটি ইউনিট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৩০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত মিলতো। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন কমতে কমতে তা একপর্যায়ে ১১০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। একপর্যায়ে ২০২০ সালে ২ নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়লে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াটে গিয়ে ঠেকে। মূলত প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ধারাবাহিকভাবে সংকটের মুখে পড়েছে।

/এসবি/