ইশরাকের অস্ত্রকাণ্ডে বিএনপিতে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইশরাকের অস্ত্রকাণ্ডে বিএনপিতে অস্বস্তি
মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং তার সহযোগীদের অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে গতকাল থেকে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এ ঘটনায় তার দল বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি আর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিএনপির অনেক নেতা বিষয়টিতে বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদেরও প্রশ্ন, মাদক দমনে প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে একজন প্রতিমন্ত্রী নিজেই কেন অস্ত্র হাতে অভিযানে নামলেন? ঘটনাটি গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় ঘটেছে।

বিকেলে নিজের সহযোগীদের নিয়ে গাড়ি করে সেই এলাকায় যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে তিনি চিৎকার করে মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের উদ্দেশে নানা ধরনের কথা বলেন। এক পর্যায়ে ‘গুলি করে দেব’ বলেও চিৎকার শোনা যায় ভিডিওতে।

একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকা পরিদর্শন করেন। দল ও সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর দিনভর পরিদর্শনের ইতিবাচক আলোচনা অনেকটাই ম্লান হয়েছে ইশরাকের কর্মকাণ্ডে।

একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভাকেও নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। মাদকের বিরুদ্ধে উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। আপত্তি প্রতিমন্ত্রীর অভিযান পরিচালনার ধরন নিয়ে। বিষয়টি বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছেন অনেক নেতা। এটা দল আর সরকারের জন্য অস্বস্তিকর বলেও মনে করেন তারা।

অস্ত্র হাতে ইশরাকের অভিযানের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইশরাক অবশ্য নিজের কর্মকাণ্ডকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘সামাজিক প্রতিরোধের’ অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, একটি অস্থায়ী মাদক আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করে তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। হামলার আশঙ্কায় তিনি আর তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

/আরএ/