ইয়েমেনে ৪ বিমানভর্তি অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইয়েমেনে ৪ বিমানভর্তি অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান
পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কার্গো বিমান

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বড় আক্রমণ সামলাতে সৌদি আরব যখন নতুন করে ছক কষছে, তখনই সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর হাতে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র তুলে দিলো পাকিস্তান। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কাছে চার কার্গো বিমান ভর্তি সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ।

সম্প্রতি এডেনে পৌঁছানো এসব চালানের মধ্যে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন-প্রতিরোধী প্রযুক্তি। শুধু অস্ত্র নয়, ইয়েমেনি সৈন্যদের সহায়তায় পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টারাও এখন সৌদি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। এ পরিস্থিতি ইয়েমেন যুদ্ধে পাকিস্তানের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট আলামত।

বর্তমানে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুথিরা। বিদ্রোহীদের এই একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙতে সৌদি আরব একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে হুথিরাও পিছিয়ে নেই। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকার সঙ্গে এডেন শহরকে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু উড়িয়ে দিয়েছে হুথিরা। তাইজ শহরটি যদি কোনোভাবে হুথিদের দখলে চলে যায়, তবে এডেন থেকে উত্তর অঞ্চলের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং সরকারি বাহিনীর রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হুথি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বিমান হামলা বাড়িয়েছে সৌদি আরব। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, একদিনের ব্যবধানেই তাদের ওপর ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট। রাজধানী সানার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সা’দার ১১টি ঘাঁটি এবং তাইজের সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থার ওপর দফায় দফায় এসব হামলা চালানো হয়। পাল্টা আঘাত হিসেবে সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো, এমনকি রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। সম্প্রতি পবিত্র মদিনা শহরের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার পেছনেও হুথিদেরকে দায়ী করেছে রিয়াদ। তবে হুথিরা তা অস্বীকার করেছে ।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার ইতিহাস বেশ পুরোনো হলেও বর্তমান পদক্ষেপটিকে দেখা হচ্ছে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’র বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে। আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সই হয়। তবে ইয়েমেনে সমর্থন জোগাতে গিয়ে ইসলামাবাদকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হচ্ছে।

সৌদির দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে সরাসরি দৃশ্যমান ভূমিকায় না থাকলেও পাকিস্তানের মতোই পর্দার আড়াল থেকে অস্ত্র ও সামরিক উপদেষ্টা পাঠাচ্ছে। তাছাড়া ইয়েমেন সংকটে নিজেদের হাত শক্তিশালী করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই