জ্ঞানেশ বিদায় নেবে, মোদি সরকারেরও পতন হবে: রাহুল গান্ধী

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
জ্ঞানেশ বিদায় নেবে, মোদি সরকারেরও পতন হবে: রাহুল গান্ধী
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, বর্তমান মোদি সরকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ক্ষমতা থেকে না সরালে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ঠিক করা সম্ভব হবে না। শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল লেখেন, জ্ঞানেশ কুমারকে বিদায় নিতে হবে। এ সরকারকেও বিদায় নিতে হবে। এর পরই গণতন্ত্র মেরামতের কাজ শুরু হবে।

এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে এক বক্তব্যে বিরোধীদলীয় এ নেতা জানান, শুধু সিইসি জ্ঞানেশ কুমার নন, এর পেছনে আরও বড় ও গভীর সমস্যা লুকিয়ে রয়েছে, যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ই সরকারের বিদায় অনিবার্য।

তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের চেয়েও অনেক গভীর সমস্যা রয়েছে এবং এর জন্য বর্তমান সরকারের পতন প্রয়োজন। আমরা যদি গত তিন-চার দিনে যেভাবে চাপ সৃষ্টি করেছি, তা বজায় রাখি, তবে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি এই সরকার পড়ে যাবে। বিরোধীদের আন্দোলন সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে এবং সরকার এখন ভেতরে ভেতরে বেশ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। ভোটার তালিকার এসআইআর কার্যক্রমসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিরুদ্ধে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশনের ওপর চড়াও হয়েছে বিরোধী শিবির। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে ভিন্নমত ও পর্যবেক্ষণ থাকাটা স্বাভাবিক আলোচনারই অংশ এবং তাদের নেওয়া সব আদেশ ও সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনি ও সংবিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া মেনেই করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধীদের আন্দোলন দমাতে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপাল এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, সব ট্রেন বন্ধ, ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, গণগ্রেপ্তার, লকডাউনে পরিণত হয়েছে দিল্লি, মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ। মোদি-শাহ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিজস্ব জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। একজন একনায়কের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অহিংস আন্দোলন ও সত্যাগ্রহকে অত্যন্ত নির্মমভাবে দমন করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

/এমএকে/