চিকিৎসায় নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির ৩ বিজ্ঞানী

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
চিকিৎসায় নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির ৩ বিজ্ঞানী
চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী (বাঁ থেকে) কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল

চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর তিন জনকে পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নোবেল কমিটি। বিজয়ীরা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানি পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও ‘অপটোজেনেটিক্স’ নিয়ে তাদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত নোবেল কমিটির সেক্রেটারি-জেনারেল থমাস পার্লম্যান স্টকহোম থেকে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেগম্যান ও নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামে একটি প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন। তারা দেখতে পান, এই প্রোটিনটি যেকোনো কোষে প্রবেশ করানো হলে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী (বাঁ থেকে) কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল
চিকিৎসায় নোবেল বিজয়ী (বাঁ থেকে) কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল

অন্যদিকে, ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিনের জিন প্রবেশ করান ডাইসেরথ। এরপর ওই কোষগুলোতে নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়বিক সংকেত (নার্ভ সিগন্যাল) চালু বা ট্রিগার করতে সক্ষম হন। পরে তিনি দেখান, জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও স্নায়ুকোষের জন্য আলো-নিয়ন্ত্রিত এই সুইচটি কার্যকর।

আলো দিয়ে স্নায়বিক সংকেত নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতিটি এখন ‘অপটোজেনেটিক্স’ নামে পরিচিত।

চিকিৎসা শাস্ত্রে এখন পর্যন্ত ২৩২ জন ব্যক্তিকে নোবেল দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ৩১ বছর বয়সে পুরস্কারটি পেয়েছেন কানাডার ব্রেডরিক ব্যান্টিং। ৮৭ বছর বয়সে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটন রোস।

প্রথা অনুযায়ী প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার শুরু হয় নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। প্রথম দিনে ঘোষণা করা হয় চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল পুরস্কারজয়ীর নাম। এরপর ছয়টি বিভাগে ছয় দিন নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান ও বুধবার রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে ও শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।

রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ১৯০১ সাল থেকে প্রতি বছর এই পুরস্কার প্রদান করে। সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ডিনামাইটের উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর ৫ বছর পর থেকে তার নামে এবং রেখে যাওয়া অর্থে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৬৯ সালে এতে যুক্ত হয় অর্থনীতি।

প্রতি বছর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর দিবস ডিসেম্বরের ১০ তারিখ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারের অংশ হিসেবে বিজয়ীরা একটি স্বর্ণপদক, শংসাপত্রসহ একটি ডিপ্লোমা এবং বর্তমানে ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ১২ লাখ ডলার) পান। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

/এফসি/