আকাশে উড়লো টেসলার নতুন গাড়ি রোডস্টার

আকাশে উড়লো টেসলার নতুন গাড়ি রোডস্টার
সিজেডএন ডেস্ক

স্পেসএক্সের স্পেশাল রকেট থ্রাস্টার প্রযুক্তিতে তৈরি টেসলার নতুন প্রজন্মের রোডস্টার নিয়ে প্রযুক্তি আর গাড়িপ্রেমীদের উৎসাহ এখন তুঙ্গে। সাম্প্রতিক এক মহড়ায় চার চাকার এ বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারটি রকেটের মতো থ্রাস্টারের ধাক্কায় অল্প কিছুক্ষণের জন্য শূন্যে ভেসে উঠে আবার নিরাপদে মাটিতে নেমেছে। এমন দৃশ্য সামনে আসার পর থেকে উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে নতুন স্বপ্ন দানা বাঁধছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে ডজনখানেক জটিল প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এই প্রদর্শনীর পরেও গাড়িটির আকাশে ওড়ার মূল ক্ষমতা, চূড়ান্ত দরদাম, সাধারণ রাস্তায় চলাচলের অনুমোদন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নিরাপত্তা নীতি নিয়ে স্পষ্ট কোনো জবাব মেলেনি।
স্পেসএক্সের পরীক্ষাগারে নজরকাড়া প্রদর্শনী
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের নিজস্ব টেস্ট সাইটে রোডস্টার কারটির প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, কিছুটা হেলানো বা উল্টো এক র্যাম্প ধরে তরতরিয়ে উঠে মুহূর্তেই আকাশে লাফ দিচ্ছে টেসলার লাল টুকটুকে স্পোর্টস কারটি। এমনকি অন্য আরেকটি গাড়ির ওপর দিয়ে বাতাসে ভেসে পার হয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য এক কসরতও দেখায় এটি।
তবে এৱ আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনার পরও আসল তথ্যগুলো কিন্তু আড়ালেই থেকে গেছে। গাড়িটি ঠিক কত উচ্চতায় উঠেছিল, শূন্যে কতদূর এগিয়েছিল কিংবা ঠিক কত সেকেন্ড আকাশে ভেসে ছিল- সে সম্পর্কে টেসলার পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। ফলে বিশেষজ্ঞরা এটিকে আকাশে দীর্ঘক্ষণ ওড়ার সক্ষমতা হিসেবে না দেখে, আপাতত চমকপ্রদ স্টান্ট হিসেবেই গণ্য করছেন।
কত উঁচুতে উঠেছিল গাড়িটি
বিভিন্ন সূত্র ও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, র্যাম্প বেয়ে ওঠার সময়ে গাড়িটির অবস্থান মাটির লেভেল থেকে আনুমানিক ২১ মিটার উঁচুতে ছিল। তবে ওটা কিন্তু কেবল র্যাম্পের উচ্চতা নির্দেশ করে, গাড়িটি নিজের ক্ষমতায় মাটি ছেড়ে শূন্যে কতটা স্থায়ীভাবে ভেসেছিল তা নয়। ফলে এক বা একাধিক বড় বাধা ডিঙিয়ে যাওয়া, আকাশে দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়া, নিরাপদে দীর্ঘক্ষণ শূন্যে থাকার মতো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা যে রোডস্টারের রয়েছে- এখনই জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।
আইনি প্রক্রিয়া, লাইসেন্স ও বীমা
গাড়িতে রকেটের কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করার জন্য ড্রাইভারের বাড়তি কোনো স্পেশাল বিমান চালনাবিষয়ক লাইসেন্স, আলাদা ট্রেনিং বা বিশেষ বীমা লাগবে কি না- তা এখনো খোলসা করেনি ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান। নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহ এ যানটিকে ঠিক কী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আসল নিয়মকানুন।
সাধারণ রাস্তায় চলার অনুমোদন পেলে হয়তো মোটরযান চালানোর স্বাভাবিক লাইসেন্স দিয়েই কাজ চালানো যাবে। কিন্তু আকাশপথে চালাতে গেলে প্রত্যেক দেশের উড্ডয়ন ও বেসামরিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত কড়া আইনের মুখোমুখি হতে হবে। একই ঝামেলা পোহাতে হবে বীমা কোম্পানিগুলোকেও। সাধারণ গাড়ির ইনস্যুরেন্স দিয়ে সব ধরণের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হবে না, তাই এসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি মেপে নতুন নিয়ম বানাতে হবে।
নতুন মডেলটির দাম কত
সবাই জানতে উদগ্রীব, স্পেসএক্স প্রযুক্তিসংবলিত এ স্পোর্টস কারের চূড়ান্ত দাম আসলে কত দাঁড়াবে? প্রথমদিকে ২০১৭ সালে যখন রোডস্টার গাড়ির দ্বিতীয় জেনারেশনের ঘোষণা এসেছিল, তখন প্রারম্ভিক দাম ধরা হয়েছিল ২ লাখ ডলার। বর্তমানে থ্রাস্টার প্রযুক্তিসহ পারফরম্যান্স এডিশন বুকিং দিতেই হয়তো ৫০ হাজার ডলার থেকে আড়াই লাখ ডলারের মতো জামানত গুনতে হতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, হাই-এন্ডের রকেট এডিশনটি হবে অত্যন্ত লিমিটেড এবং এক আসনবিশিষ্ট। এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের কিংবা সাধারণ ট্রাফিকে চালানোর অনুমতিই হয়তো পাবে না। টেসলার মূল সাইটেও স্পষ্ট করা রয়েছে, উড্ডয়ন ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু মডেল গণমানুষের চলাচলের সড়কে চালানোর আইনি অনুমোদন পায়নি। ২০২৮ সালের দিকে গাড়িটি উৎপাদনে নামতে পারে বলে প্রাথমিক আভাস দেয়া হলেও, সঠিক সময়ে ক্রেতার গ্যারেজে গাড়িটি পৌঁছাবে কি না তা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই।
দৈনন্দিন যাতায়াতে এটি কতটা যুক্তিযুক্ত
স্পেসএক্সের সহযোগিতায় তৈরি এ সিস্টেমে কোনো তরল বা ভারী রকেট ফুয়েল পুড়িয়ে আগুন ছড়ানো হয় না। এতে মূলত অত্যন্ত উচ্চচাপে থাকা সংরক্ষিত বাতাস বা কোল্ড-গ্যাস বিশেষ থ্রাস্টার দিয়ে তীব্র বেগে বের করে শক্তিশালী ধাক্কা তৈরি করা হয়। এটি গাড়িকে সাময়িকভাবে আকাশে তুলতে পারলেও প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিংবা ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে এটি কতটা নিরাপদ বা উপযোগী- তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েই গেছে। হুটহাট কসরত করা আর প্রতিদিনের ভরসায় রূপ নেয়া, দুটো এক জিনিস নয়।
প্রচলিত গাড়ির বিকল্প
রোডস্টারকে এখনই প্রচলিত গাড়ির বিকল্প হিসেবে ধরা যাবে না। কোনো ট্রাফিকের উপর দিয়ে একবার লাফ দিতে পারলেই সাধারণ যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে উড়ন্ত গাড়ির ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। টেসলার রোডস্টার আপাতদৃষ্টিতে চমক দেখালেও গণপরিবহন বা ব্যক্তিগত বাহন হিসেবে প্রচলিত চিত্র পাল্টে দেয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছাতে এর এখনো অনেক পথ বাকি।
সূত্র: সিএনএন

স্পেসএক্সের স্পেশাল রকেট থ্রাস্টার প্রযুক্তিতে তৈরি টেসলার নতুন প্রজন্মের রোডস্টার নিয়ে প্রযুক্তি আর গাড়িপ্রেমীদের উৎসাহ এখন তুঙ্গে। সাম্প্রতিক এক মহড়ায় চার চাকার এ বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারটি রকেটের মতো থ্রাস্টারের ধাক্কায় অল্প কিছুক্ষণের জন্য শূন্যে ভেসে উঠে আবার নিরাপদে মাটিতে নেমেছে। এমন দৃশ্য সামনে আসার পর থেকে উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে নতুন স্বপ্ন দানা বাঁধছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে ডজনখানেক জটিল প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এই প্রদর্শনীর পরেও গাড়িটির আকাশে ওড়ার মূল ক্ষমতা, চূড়ান্ত দরদাম, সাধারণ রাস্তায় চলাচলের অনুমোদন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নিরাপত্তা নীতি নিয়ে স্পষ্ট কোনো জবাব মেলেনি।
স্পেসএক্সের পরীক্ষাগারে নজরকাড়া প্রদর্শনী
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের নিজস্ব টেস্ট সাইটে রোডস্টার কারটির প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, কিছুটা হেলানো বা উল্টো এক র্যাম্প ধরে তরতরিয়ে উঠে মুহূর্তেই আকাশে লাফ দিচ্ছে টেসলার লাল টুকটুকে স্পোর্টস কারটি। এমনকি অন্য আরেকটি গাড়ির ওপর দিয়ে বাতাসে ভেসে পার হয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য এক কসরতও দেখায় এটি।
তবে এৱ আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনার পরও আসল তথ্যগুলো কিন্তু আড়ালেই থেকে গেছে। গাড়িটি ঠিক কত উচ্চতায় উঠেছিল, শূন্যে কতদূর এগিয়েছিল কিংবা ঠিক কত সেকেন্ড আকাশে ভেসে ছিল- সে সম্পর্কে টেসলার পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। ফলে বিশেষজ্ঞরা এটিকে আকাশে দীর্ঘক্ষণ ওড়ার সক্ষমতা হিসেবে না দেখে, আপাতত চমকপ্রদ স্টান্ট হিসেবেই গণ্য করছেন।
কত উঁচুতে উঠেছিল গাড়িটি
বিভিন্ন সূত্র ও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, র্যাম্প বেয়ে ওঠার সময়ে গাড়িটির অবস্থান মাটির লেভেল থেকে আনুমানিক ২১ মিটার উঁচুতে ছিল। তবে ওটা কিন্তু কেবল র্যাম্পের উচ্চতা নির্দেশ করে, গাড়িটি নিজের ক্ষমতায় মাটি ছেড়ে শূন্যে কতটা স্থায়ীভাবে ভেসেছিল তা নয়। ফলে এক বা একাধিক বড় বাধা ডিঙিয়ে যাওয়া, আকাশে দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়া, নিরাপদে দীর্ঘক্ষণ শূন্যে থাকার মতো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা যে রোডস্টারের রয়েছে- এখনই জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।
আইনি প্রক্রিয়া, লাইসেন্স ও বীমা
গাড়িতে রকেটের কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করার জন্য ড্রাইভারের বাড়তি কোনো স্পেশাল বিমান চালনাবিষয়ক লাইসেন্স, আলাদা ট্রেনিং বা বিশেষ বীমা লাগবে কি না- তা এখনো খোলসা করেনি ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান। নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহ এ যানটিকে ঠিক কী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আসল নিয়মকানুন।
সাধারণ রাস্তায় চলার অনুমোদন পেলে হয়তো মোটরযান চালানোর স্বাভাবিক লাইসেন্স দিয়েই কাজ চালানো যাবে। কিন্তু আকাশপথে চালাতে গেলে প্রত্যেক দেশের উড্ডয়ন ও বেসামরিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত কড়া আইনের মুখোমুখি হতে হবে। একই ঝামেলা পোহাতে হবে বীমা কোম্পানিগুলোকেও। সাধারণ গাড়ির ইনস্যুরেন্স দিয়ে সব ধরণের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হবে না, তাই এসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি মেপে নতুন নিয়ম বানাতে হবে।
নতুন মডেলটির দাম কত
সবাই জানতে উদগ্রীব, স্পেসএক্স প্রযুক্তিসংবলিত এ স্পোর্টস কারের চূড়ান্ত দাম আসলে কত দাঁড়াবে? প্রথমদিকে ২০১৭ সালে যখন রোডস্টার গাড়ির দ্বিতীয় জেনারেশনের ঘোষণা এসেছিল, তখন প্রারম্ভিক দাম ধরা হয়েছিল ২ লাখ ডলার। বর্তমানে থ্রাস্টার প্রযুক্তিসহ পারফরম্যান্স এডিশন বুকিং দিতেই হয়তো ৫০ হাজার ডলার থেকে আড়াই লাখ ডলারের মতো জামানত গুনতে হতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, হাই-এন্ডের রকেট এডিশনটি হবে অত্যন্ত লিমিটেড এবং এক আসনবিশিষ্ট। এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের কিংবা সাধারণ ট্রাফিকে চালানোর অনুমতিই হয়তো পাবে না। টেসলার মূল সাইটেও স্পষ্ট করা রয়েছে, উড্ডয়ন ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু মডেল গণমানুষের চলাচলের সড়কে চালানোর আইনি অনুমোদন পায়নি। ২০২৮ সালের দিকে গাড়িটি উৎপাদনে নামতে পারে বলে প্রাথমিক আভাস দেয়া হলেও, সঠিক সময়ে ক্রেতার গ্যারেজে গাড়িটি পৌঁছাবে কি না তা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই।
দৈনন্দিন যাতায়াতে এটি কতটা যুক্তিযুক্ত
স্পেসএক্সের সহযোগিতায় তৈরি এ সিস্টেমে কোনো তরল বা ভারী রকেট ফুয়েল পুড়িয়ে আগুন ছড়ানো হয় না। এতে মূলত অত্যন্ত উচ্চচাপে থাকা সংরক্ষিত বাতাস বা কোল্ড-গ্যাস বিশেষ থ্রাস্টার দিয়ে তীব্র বেগে বের করে শক্তিশালী ধাক্কা তৈরি করা হয়। এটি গাড়িকে সাময়িকভাবে আকাশে তুলতে পারলেও প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিংবা ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে এটি কতটা নিরাপদ বা উপযোগী- তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েই গেছে। হুটহাট কসরত করা আর প্রতিদিনের ভরসায় রূপ নেয়া, দুটো এক জিনিস নয়।
প্রচলিত গাড়ির বিকল্প
রোডস্টারকে এখনই প্রচলিত গাড়ির বিকল্প হিসেবে ধরা যাবে না। কোনো ট্রাফিকের উপর দিয়ে একবার লাফ দিতে পারলেই সাধারণ যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে উড়ন্ত গাড়ির ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। টেসলার রোডস্টার আপাতদৃষ্টিতে চমক দেখালেও গণপরিবহন বা ব্যক্তিগত বাহন হিসেবে প্রচলিত চিত্র পাল্টে দেয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছাতে এর এখনো অনেক পথ বাকি।
সূত্র: সিএনএন

আকাশে উড়লো টেসলার নতুন গাড়ি রোডস্টার
সিজেডএন ডেস্ক

স্পেসএক্সের স্পেশাল রকেট থ্রাস্টার প্রযুক্তিতে তৈরি টেসলার নতুন প্রজন্মের রোডস্টার নিয়ে প্রযুক্তি আর গাড়িপ্রেমীদের উৎসাহ এখন তুঙ্গে। সাম্প্রতিক এক মহড়ায় চার চাকার এ বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারটি রকেটের মতো থ্রাস্টারের ধাক্কায় অল্প কিছুক্ষণের জন্য শূন্যে ভেসে উঠে আবার নিরাপদে মাটিতে নেমেছে। এমন দৃশ্য সামনে আসার পর থেকে উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে নতুন স্বপ্ন দানা বাঁধছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে ডজনখানেক জটিল প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এই প্রদর্শনীর পরেও গাড়িটির আকাশে ওড়ার মূল ক্ষমতা, চূড়ান্ত দরদাম, সাধারণ রাস্তায় চলাচলের অনুমোদন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নিরাপত্তা নীতি নিয়ে স্পষ্ট কোনো জবাব মেলেনি।
স্পেসএক্সের পরীক্ষাগারে নজরকাড়া প্রদর্শনী
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের নিজস্ব টেস্ট সাইটে রোডস্টার কারটির প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, কিছুটা হেলানো বা উল্টো এক র্যাম্প ধরে তরতরিয়ে উঠে মুহূর্তেই আকাশে লাফ দিচ্ছে টেসলার লাল টুকটুকে স্পোর্টস কারটি। এমনকি অন্য আরেকটি গাড়ির ওপর দিয়ে বাতাসে ভেসে পার হয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য এক কসরতও দেখায় এটি।
তবে এৱ আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনার পরও আসল তথ্যগুলো কিন্তু আড়ালেই থেকে গেছে। গাড়িটি ঠিক কত উচ্চতায় উঠেছিল, শূন্যে কতদূর এগিয়েছিল কিংবা ঠিক কত সেকেন্ড আকাশে ভেসে ছিল- সে সম্পর্কে টেসলার পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। ফলে বিশেষজ্ঞরা এটিকে আকাশে দীর্ঘক্ষণ ওড়ার সক্ষমতা হিসেবে না দেখে, আপাতত চমকপ্রদ স্টান্ট হিসেবেই গণ্য করছেন।
কত উঁচুতে উঠেছিল গাড়িটি
বিভিন্ন সূত্র ও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, র্যাম্প বেয়ে ওঠার সময়ে গাড়িটির অবস্থান মাটির লেভেল থেকে আনুমানিক ২১ মিটার উঁচুতে ছিল। তবে ওটা কিন্তু কেবল র্যাম্পের উচ্চতা নির্দেশ করে, গাড়িটি নিজের ক্ষমতায় মাটি ছেড়ে শূন্যে কতটা স্থায়ীভাবে ভেসেছিল তা নয়। ফলে এক বা একাধিক বড় বাধা ডিঙিয়ে যাওয়া, আকাশে দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়া, নিরাপদে দীর্ঘক্ষণ শূন্যে থাকার মতো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা যে রোডস্টারের রয়েছে- এখনই জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।
আইনি প্রক্রিয়া, লাইসেন্স ও বীমা
গাড়িতে রকেটের কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করার জন্য ড্রাইভারের বাড়তি কোনো স্পেশাল বিমান চালনাবিষয়ক লাইসেন্স, আলাদা ট্রেনিং বা বিশেষ বীমা লাগবে কি না- তা এখনো খোলসা করেনি ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান। নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহ এ যানটিকে ঠিক কী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে আসল নিয়মকানুন।
সাধারণ রাস্তায় চলার অনুমোদন পেলে হয়তো মোটরযান চালানোর স্বাভাবিক লাইসেন্স দিয়েই কাজ চালানো যাবে। কিন্তু আকাশপথে চালাতে গেলে প্রত্যেক দেশের উড্ডয়ন ও বেসামরিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত কড়া আইনের মুখোমুখি হতে হবে। একই ঝামেলা পোহাতে হবে বীমা কোম্পানিগুলোকেও। সাধারণ গাড়ির ইনস্যুরেন্স দিয়ে সব ধরণের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হবে না, তাই এসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি মেপে নতুন নিয়ম বানাতে হবে।
নতুন মডেলটির দাম কত
সবাই জানতে উদগ্রীব, স্পেসএক্স প্রযুক্তিসংবলিত এ স্পোর্টস কারের চূড়ান্ত দাম আসলে কত দাঁড়াবে? প্রথমদিকে ২০১৭ সালে যখন রোডস্টার গাড়ির দ্বিতীয় জেনারেশনের ঘোষণা এসেছিল, তখন প্রারম্ভিক দাম ধরা হয়েছিল ২ লাখ ডলার। বর্তমানে থ্রাস্টার প্রযুক্তিসহ পারফরম্যান্স এডিশন বুকিং দিতেই হয়তো ৫০ হাজার ডলার থেকে আড়াই লাখ ডলারের মতো জামানত গুনতে হতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, হাই-এন্ডের রকেট এডিশনটি হবে অত্যন্ত লিমিটেড এবং এক আসনবিশিষ্ট। এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের কিংবা সাধারণ ট্রাফিকে চালানোর অনুমতিই হয়তো পাবে না। টেসলার মূল সাইটেও স্পষ্ট করা রয়েছে, উড্ডয়ন ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু মডেল গণমানুষের চলাচলের সড়কে চালানোর আইনি অনুমোদন পায়নি। ২০২৮ সালের দিকে গাড়িটি উৎপাদনে নামতে পারে বলে প্রাথমিক আভাস দেয়া হলেও, সঠিক সময়ে ক্রেতার গ্যারেজে গাড়িটি পৌঁছাবে কি না তা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই।
দৈনন্দিন যাতায়াতে এটি কতটা যুক্তিযুক্ত
স্পেসএক্সের সহযোগিতায় তৈরি এ সিস্টেমে কোনো তরল বা ভারী রকেট ফুয়েল পুড়িয়ে আগুন ছড়ানো হয় না। এতে মূলত অত্যন্ত উচ্চচাপে থাকা সংরক্ষিত বাতাস বা কোল্ড-গ্যাস বিশেষ থ্রাস্টার দিয়ে তীব্র বেগে বের করে শক্তিশালী ধাক্কা তৈরি করা হয়। এটি গাড়িকে সাময়িকভাবে আকাশে তুলতে পারলেও প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিংবা ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে এটি কতটা নিরাপদ বা উপযোগী- তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েই গেছে। হুটহাট কসরত করা আর প্রতিদিনের ভরসায় রূপ নেয়া, দুটো এক জিনিস নয়।
প্রচলিত গাড়ির বিকল্প
রোডস্টারকে এখনই প্রচলিত গাড়ির বিকল্প হিসেবে ধরা যাবে না। কোনো ট্রাফিকের উপর দিয়ে একবার লাফ দিতে পারলেই সাধারণ যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে উড়ন্ত গাড়ির ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। টেসলার রোডস্টার আপাতদৃষ্টিতে চমক দেখালেও গণপরিবহন বা ব্যক্তিগত বাহন হিসেবে প্রচলিত চিত্র পাল্টে দেয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছাতে এর এখনো অনেক পথ বাকি।
সূত্র: সিএনএন









