এক দিনেই মাস্কের সম্পদ বাড়লো ৬১ বিলিয়ন ডলার

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
এক দিনেই মাস্কের সম্পদ বাড়লো ৬১ বিলিয়ন ডলার
ইলন মাস্ক

আবারও ট্রিলিয়নর হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। শুক্রবার (২ অক্টোবর) মাত্র এক দিনেই তার পকেটে এসেছে ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকার হিসাব বলছে, এ বৃদ্ধিতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকের একদম দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন তিনি।

মাস্কের উত্থানের পেছনের কারিগর মূলত তার দুই প্রতিষ্ঠান- মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স এবং ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা। শুক্রবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সাত শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে। এর মূল অনুঘটক ছিল গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের কিছু মহাকাশযানের সফল উৎক্ষেপণ। একই দিনে টেসলার শেয়ারদরও প্রায় পাঁচ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে পৌঁছায়। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের তৃতীয় প্রান্তিকের গাড়ি সরবরাহের রিপোর্ট। এ সময়ে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীদের মনে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, টানা তৃতীয় বছরের মতো গাড়ি সরবরাহ কমে যাওয়ার যে শঙ্কা ছিল, তা হয়তো প্রতিষ্ঠানটি এড়াতে পারবে ।

এক দিনে মাস্কের যে পরিমাণ সম্পদ বেড়েছে, তার আর্থিক পরিমাণ শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। একটু তুলনা করলেই ব্যাপারটি পরিষ্কার হয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাস্কের মাত্র এক দিনের সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ আমাদের দেশের পুরো বছরের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশের সমান!

ফোর্বসের তালিকায় সবার ওপরে থাকা মাস্কের ধারেকাছেও নেই কেউ। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদ রয়েছে ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

তবে ট্রিলিয়ন ডলারের অঙ্কটা মাস্কের জন্য একদম অপরিচিত কিছু নয়। এর আগেও তিনি বেশ কয়েকবার অঙ্কটা ছুঁয়ে দেখেছেন। ১২ জুন তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন, যখন তার মোট সম্পদ সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। কিন্তু জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম এক ধাক্কায় ৩১ শতাংশ কমে যাওয়ায় তার সেই অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যায়। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির জেরে ১১৬ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ফোর্বসের হিসাব থেকেও বাদ পড়ে। এরপর ২৯ জুন ফের ট্রিলিয়ন ডলারের ঘরে প্রবেশ করলেও জুলাইয়ের শুরুতে স্পেসএক্সের শেয়ারের দর সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় মাস্কের মোট সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

তবে উত্থান-পতনের রোমাঞ্চকর পথ পেরিয়ে স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে মাস্কের সম্পদ।

/এমএকে/