মিটফোর্ডের চিকিৎসকেরা অফিস সময়ে রোগী দেখেন ক্লিনিকে
পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল। ১৮৫৮ সালের ১ মে এটি চালু হয়। দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। জায়গার অভাবে রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালে রোগীর অস্বাভাবিক চাপ। চিকিৎসকেরা অফিস চলাকালীন বাইরে রোগী দেখেন। হাসপাতালের কর্মচারীরা পরিত্যক্ত ভবনে মানবেতর জীবনযাপন করেন। সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব অনিয়ম ও ভোগান্তির চিত্র। আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি আয়নাল হোসেনের তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব আজ প্রকাশ করা হলো।

মিটফোর্ডের চিকিৎসকেরা অফিস সময়ে রোগী দেখেন ক্লিনিকে
আয়নাল হোসেন

চাকরি করেন সরকারি হাসপাতালে। অথচ মাঝেমধ্যেই উধাও হয়ে যান চিকিৎসকেরা। তারা কোথায় যান তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেলো ভয়াবহ তথ্য। অফিস চলাকালীনই তারা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেন। এসব চিকিৎসক দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের।
এসব হাসপাতালে আসা রোগী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মিটফোর্ড হাসপাতালের ২০-২৫ জন চিকিৎসক নিয়মিত আশপাশের এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালে রোগী দেখেন। এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী আসার পর চিকিৎসকের মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। ওই কল পেয়ে চিকিৎসক নানা অজুহাতে হাসপাতাল থেকে অফিস চলাকালীন বের হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে রোগী দেখেন। অথচ এভাবে রোগী দেখলে ১৯৮২ সালের দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্সের ৪ ধারার লঙ্ঘন হয়।
দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্সের ৪ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো নিবন্ধিত সরকারি চিকিৎসক অফিস চলাকালীন কোনো ধরনের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বা ব্যক্তিগত চেম্বার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন না। অফিস সময়ে দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ-এর পরিপন্থী। যেখানে বলা হয়েছে—'সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।’ এছাড়া এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ এবং দায়িত্ব অবহেলার শামিল। এই অপরাধরে জন্য চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত বা চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো প্রশাসনিক শাস্তি হতে পারে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা গেছে, মিটফোর্ড হাসপাতালের ১৫-২০০ গজের মধ্যে ১০-১২টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল। এসব প্রতিষ্ঠান ৯০ শতাংশ রোগী মিটফোর্ড থেকে আসছে। মিটফোর্ড হাসপাতালের উত্তর পাশে আল–আরাফাত হাসপাতাল, ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল, বাঁধন হাসপাতাল, ম্যাক্সলাইফ মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইস্টার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুনলাইট হাসপাতাল, মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, একটু দূরে ঢাকা হাসপাতাল ও নিউ ঢাকা ক্লিনিক। এসব প্রতিষ্ঠানের দালালরা মিটফোর্ড হাসপাতালে আসা রোগীদের নানাভাবে ফুসলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসছে।

আর সবেচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে. এসব রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন খোদ মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকেরাই। বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী আসলেই সেখান থেকে চিকিৎসককে কল দেওয়া হয়। আর চিকিৎসক চা-শিঙারা খাওয়ার অজুহাতে ছুটে যান বেসরকারি হাসপাতালে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের উত্তরপাশে অবস্থিত ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালের নিচে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদক অপেক্ষা করতে থাকেন। সেখানে বেলা ১টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ১০-১২জন রোগী আসেন। এ সময় মিটফোর্ড হাসপাতালের বর্হিবিভাগের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ তানভীর, শিশু বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ মালাকার এবং মেডিসিন বিভাগের তিনজন চিকিৎসককে ওই হাসপাতালে ঢুকতে দেখা যায়।
অফিস চলাকালীন বাইরে রোগী দেখার বিষয়ে জানার জন্য অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. তানভীরের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার মুঠোফোন নম্বরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শিশু বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ মালাকারের মুঠোফোন নম্বর না পাওয়ায় অফিস চলাকালীন বাইরে রোগী দেখার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোগী ভাগিয়ে আনার মতো এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে মিটফোর্ডের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত। তারা প্রায়ই রোগী বা স্বজনদের প্রলুব্ধ করেন। বিশেষ করে কোনো অস্ত্রোপচারের (অপারেশন) রোগী আসলে তাদেরকে নানাভাবে ফুসলিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয়। কারণ সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের করাতে হলে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়। আর বেসরাকারিতে দুই–একদিন পরই অস্ত্রোপচার করা যায়। এজন্য রোগীর স্বজনেরা দালালদের কথায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটে যান।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ এইচ এম এ রুস্তম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, অফিস চলাকালীন কোনো চিকিৎসক বাইরের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সরকারেরও কঠোর নির্দেশনা আছে।

চাকরি করেন সরকারি হাসপাতালে। অথচ মাঝেমধ্যেই উধাও হয়ে যান চিকিৎসকেরা। তারা কোথায় যান তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেলো ভয়াবহ তথ্য। অফিস চলাকালীনই তারা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেন। এসব চিকিৎসক দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের।
এসব হাসপাতালে আসা রোগী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মিটফোর্ড হাসপাতালের ২০-২৫ জন চিকিৎসক নিয়মিত আশপাশের এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালে রোগী দেখেন। এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী আসার পর চিকিৎসকের মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। ওই কল পেয়ে চিকিৎসক নানা অজুহাতে হাসপাতাল থেকে অফিস চলাকালীন বের হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে রোগী দেখেন। অথচ এভাবে রোগী দেখলে ১৯৮২ সালের দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্সের ৪ ধারার লঙ্ঘন হয়।
দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্সের ৪ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো নিবন্ধিত সরকারি চিকিৎসক অফিস চলাকালীন কোনো ধরনের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বা ব্যক্তিগত চেম্বার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন না। অফিস সময়ে দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ-এর পরিপন্থী। যেখানে বলা হয়েছে—'সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।’ এছাড়া এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ এবং দায়িত্ব অবহেলার শামিল। এই অপরাধরে জন্য চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত বা চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো প্রশাসনিক শাস্তি হতে পারে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা গেছে, মিটফোর্ড হাসপাতালের ১৫-২০০ গজের মধ্যে ১০-১২টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল। এসব প্রতিষ্ঠান ৯০ শতাংশ রোগী মিটফোর্ড থেকে আসছে। মিটফোর্ড হাসপাতালের উত্তর পাশে আল–আরাফাত হাসপাতাল, ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল, বাঁধন হাসপাতাল, ম্যাক্সলাইফ মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইস্টার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুনলাইট হাসপাতাল, মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, একটু দূরে ঢাকা হাসপাতাল ও নিউ ঢাকা ক্লিনিক। এসব প্রতিষ্ঠানের দালালরা মিটফোর্ড হাসপাতালে আসা রোগীদের নানাভাবে ফুসলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসছে।

আর সবেচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে. এসব রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন খোদ মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকেরাই। বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী আসলেই সেখান থেকে চিকিৎসককে কল দেওয়া হয়। আর চিকিৎসক চা-শিঙারা খাওয়ার অজুহাতে ছুটে যান বেসরকারি হাসপাতালে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের উত্তরপাশে অবস্থিত ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালের নিচে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদক অপেক্ষা করতে থাকেন। সেখানে বেলা ১টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ১০-১২জন রোগী আসেন। এ সময় মিটফোর্ড হাসপাতালের বর্হিবিভাগের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ তানভীর, শিশু বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ মালাকার এবং মেডিসিন বিভাগের তিনজন চিকিৎসককে ওই হাসপাতালে ঢুকতে দেখা যায়।
অফিস চলাকালীন বাইরে রোগী দেখার বিষয়ে জানার জন্য অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. তানভীরের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার মুঠোফোন নম্বরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শিশু বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ মালাকারের মুঠোফোন নম্বর না পাওয়ায় অফিস চলাকালীন বাইরে রোগী দেখার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোগী ভাগিয়ে আনার মতো এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে মিটফোর্ডের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত। তারা প্রায়ই রোগী বা স্বজনদের প্রলুব্ধ করেন। বিশেষ করে কোনো অস্ত্রোপচারের (অপারেশন) রোগী আসলে তাদেরকে নানাভাবে ফুসলিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয়। কারণ সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের করাতে হলে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়। আর বেসরাকারিতে দুই–একদিন পরই অস্ত্রোপচার করা যায়। এজন্য রোগীর স্বজনেরা দালালদের কথায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটে যান।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ এইচ এম এ রুস্তম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, অফিস চলাকালীন কোনো চিকিৎসক বাইরের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সরকারেরও কঠোর নির্দেশনা আছে।

মিটফোর্ডের চিকিৎসকেরা অফিস সময়ে রোগী দেখেন ক্লিনিকে
আয়নাল হোসেন

চাকরি করেন সরকারি হাসপাতালে। অথচ মাঝেমধ্যেই উধাও হয়ে যান চিকিৎসকেরা। তারা কোথায় যান তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেলো ভয়াবহ তথ্য। অফিস চলাকালীনই তারা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেন। এসব চিকিৎসক দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের।
এসব হাসপাতালে আসা রোগী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মিটফোর্ড হাসপাতালের ২০-২৫ জন চিকিৎসক নিয়মিত আশপাশের এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালে রোগী দেখেন। এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী আসার পর চিকিৎসকের মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। ওই কল পেয়ে চিকিৎসক নানা অজুহাতে হাসপাতাল থেকে অফিস চলাকালীন বের হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে রোগী দেখেন। অথচ এভাবে রোগী দেখলে ১৯৮২ সালের দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্সের ৪ ধারার লঙ্ঘন হয়।
দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্সের ৪ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো নিবন্ধিত সরকারি চিকিৎসক অফিস চলাকালীন কোনো ধরনের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বা ব্যক্তিগত চেম্বার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন না। অফিস সময়ে দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদ-এর পরিপন্থী। যেখানে বলা হয়েছে—'সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।’ এছাড়া এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ এবং দায়িত্ব অবহেলার শামিল। এই অপরাধরে জন্য চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত বা চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো প্রশাসনিক শাস্তি হতে পারে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা গেছে, মিটফোর্ড হাসপাতালের ১৫-২০০ গজের মধ্যে ১০-১২টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল। এসব প্রতিষ্ঠান ৯০ শতাংশ রোগী মিটফোর্ড থেকে আসছে। মিটফোর্ড হাসপাতালের উত্তর পাশে আল–আরাফাত হাসপাতাল, ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল, বাঁধন হাসপাতাল, ম্যাক্সলাইফ মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইস্টার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুনলাইট হাসপাতাল, মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, একটু দূরে ঢাকা হাসপাতাল ও নিউ ঢাকা ক্লিনিক। এসব প্রতিষ্ঠানের দালালরা মিটফোর্ড হাসপাতালে আসা রোগীদের নানাভাবে ফুসলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসছে।

আর সবেচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে. এসব রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন খোদ মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকেরাই। বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী আসলেই সেখান থেকে চিকিৎসককে কল দেওয়া হয়। আর চিকিৎসক চা-শিঙারা খাওয়ার অজুহাতে ছুটে যান বেসরকারি হাসপাতালে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের উত্তরপাশে অবস্থিত ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালের নিচে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদক অপেক্ষা করতে থাকেন। সেখানে বেলা ১টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ১০-১২জন রোগী আসেন। এ সময় মিটফোর্ড হাসপাতালের বর্হিবিভাগের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ তানভীর, শিশু বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ মালাকার এবং মেডিসিন বিভাগের তিনজন চিকিৎসককে ওই হাসপাতালে ঢুকতে দেখা যায়।
অফিস চলাকালীন বাইরে রোগী দেখার বিষয়ে জানার জন্য অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. তানভীরের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার মুঠোফোন নম্বরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শিশু বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ মালাকারের মুঠোফোন নম্বর না পাওয়ায় অফিস চলাকালীন বাইরে রোগী দেখার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোগী ভাগিয়ে আনার মতো এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে মিটফোর্ডের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত। তারা প্রায়ই রোগী বা স্বজনদের প্রলুব্ধ করেন। বিশেষ করে কোনো অস্ত্রোপচারের (অপারেশন) রোগী আসলে তাদেরকে নানাভাবে ফুসলিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয়। কারণ সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের করাতে হলে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়। আর বেসরাকারিতে দুই–একদিন পরই অস্ত্রোপচার করা যায়। এজন্য রোগীর স্বজনেরা দালালদের কথায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটে যান।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ এইচ এম এ রুস্তম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, অফিস চলাকালীন কোনো চিকিৎসক বাইরের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সরকারেরও কঠোর নির্দেশনা আছে।









