মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে দুই অধ্যক্ষ, প্রশাসনিক অচলাবস্থা

মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে দুই অধ্যক্ষ, প্রশাসনিক অচলাবস্থা
মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের ফটোক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি। একই প্রতিষ্ঠানে একদিকে গভর্নিং বডির মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসান দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যক্ষ হিসাবে পদায়ন পাওয়া বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের অধ্যাপক সুফিয়া আক্তারও কলেজে যোগ দিয়েছেন। এতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন কে করবেন, তা নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন গভর্নিং বডি লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসানকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ দেয়। তিনি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত ২০ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইডেন মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সুফিয়া আক্তারকে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

অধ্যাপক সুফিয়া আক্তার বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ১৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা। মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাকে ২৭ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল (ইডেন কলেজ) থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্নে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে গণ্য করার কথা বলা হয়।

মন্ত্রণালয়ের পদায়নের পর অধ্যাপক সুফিয়া আক্তার কলেজে যোগদানপত্র জমা দেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ তার যোগদানপত্র গ্রহণ করলেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক অধ্যক্ষ শহিদুল হাসানও দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হয়েছে দ্বৈত অবস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে একই কক্ষে দুজনকে অফিস করতেও দেখা গেছে। শহিদুল হাসান অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়েছেন, আর সুফিয়া আক্তার একই কক্ষে বসে অফিস করেছেন।

অধ্যাপক সুফিয়া আক্তারের দাবি, শহিদুল হাসানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শর্তেই বলা ছিল, সরকার নতুন কোনো অধ্যক্ষ নিয়োগ দিলে ওই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে অধ্যক্ষ হিসাবে পদায়ন করার পর আগের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আর কার্যকারিতা থাকার কথা নয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক সুফিয়া আক্তার সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমি সরকারি প্রক্রিয়ায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছি। চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ প্রয়োজন। তবে আমি কোনো বিরোধে যেতে চাই না। বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের অপেক্ষায় আছি। আমার নিয়োগ নিয়মতান্ত্রিকভাবেই হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগে ইডেন মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। সেখান থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাকে এই কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে পদায়ন করেছে। সরকারি চাকরিতে ত্রিশ মিনিটও গ্যাপ দেওয়া যাবেনা। কলেজ পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে তিনি একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। চেয়ারম্যান বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

এবিষয়ে লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষের পদ নিয়ে তৈরি জটিলতার প্রতিবাদে কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে শহিদুল হাসানকে টিচার্স কনফারেন্স রুমে অবরুদ্ধ অবস্থান করতে হয়। পরে গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুস সালামের সঙ্গে আলোচনা করে ২৭ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, অধ্যক্ষের কক্ষের বাইরে এখনো লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসানের নামফলক রয়েছে। তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)ও নিয়মিত সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। কলেজের দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আর্থিক বিষয়সংক্রান্ত কাজও শহিদুল হাসানই পরিচালনা করছেন বলে কলেজের সংশ্লিষ্টরা জানান।

এদিকে আজ ২৭ সেপ্টেম্বর দুই অধ্যক্ষকে নিয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সঙ্গে একটি বৈঠকের কথা ছিল। সংশ্লিষ্টদের আশা ছিল, ওই বৈঠকে চলমান জটিলতার একটি সমাধান আসতে পারে। তবে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ব্যস্ত থাকায় নির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসান ও অধ্যাপক সুফিয়া আক্তার কেউই আজ কলেজে উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

কলেজ-সংশ্লিষ্টদের মতে, অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে তৈরি এই জটিলতার প্রভাব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও একাডেমিক কার্যক্রমেও পড়তে পারে। একই পদে গভর্নিং বডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পদায়নের কারণে তৈরি হওয়া এই দ্বৈত অবস্থানের সমাধান এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

/এমআর/