বাংলামোটরে চাঁদা না পেয়ে গুলি ও মারধর যুবদলের বহিষ্কৃত নেতাসহ ৪ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলামোটরে চাঁদা না পেয়ে গুলি ও মারধর
যুবদলের বহিষ্কৃত নেতাসহ ৪ জন রিমান্ডে
রাজধানীর বাংলামোটরে এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমন ও তাঁর তিন সহযোগীর বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ওষুধ বিক্রেতাকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং ফাঁকা গুলিবর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনসহ (৩৮) চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রিমান্ডে নেওয়া অপর আসামিরা হলেন মো. ওমর (৩২), মো. মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত প্রধান আসামি ফেরদৌসের চার দিন এবং বাকি তিনজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এদিন বিকেলে আসামিদের আদালতে হাজির করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসিম। শুনানিতে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী ছিল না।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাড়ির সামনে বাদী মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় প্রধান আসামি ফেরদৌস আহমেদ সাইমন বাদীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফেরদৌস পিস্তল বের করে তাঁর বুকে গুলি করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ফেরদৌস পিস্তলের বাঁট দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও তাঁকে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

মামলায় আরও বলা হয়, হামলায় আহত বাদী প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে বাদীর ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন তার কাছে আসেন। এ সময় ফেরদৌসসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে এসে আবারও বাদীকে মারধরের চেষ্টা করেন। ফেরদৌস পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করেন। ফেরদৌসও পালানোর চেষ্টার সময় আটক হন। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেয়। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সোহান বাদী হয়ে মামলা করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার অন্যান্য তথ্য উদ্ধারে রিমান্ডে নিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এই আসামিদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদক মামলা রয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাতিরঝিল থানার এসআই নাসিম বলেন, আসামি চারজনকে একই জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে।

/বিবি/