নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর, প্রধান আসামির জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর, প্রধান আসামির জামিন
হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিস স্টুডিওতে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে তার ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) বয়স্ক ও অসুস্থ বিবেচনায় তার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিষয়টি আমলে নিয়ে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১ অক্টোবর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ৭ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিণ মানিকদীস্থ ইনসিভি চত্বর নিউগিনি প্রোপার্টিজের ক্রয়কৃত জমির ওপর নির্মিত নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সম্পত্তি জবরদখলসহ নানা রকম সন্ত্রাস ও ত্রাস সৃষ্টির লিপ্ত রয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম তার প্রজেক্টে অবস্থান করছিলেন। এসময় আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা অস্ত্রশস্ত্রসহ শাবল, রিভালবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধে তার প্রজেক্টে অনধিকার প্রবেশ করেন। এসময় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

এতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে থাকা লেবার, সিকিউরিটি গার্ডরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকে এবং বাদীও প্রাণভয়ে নির্মাণাধীন ভেতরে আশ্রয় নেন। আসামিরা নির্মাণাধীন ভবনের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর করে জখম করেন। আবুল কাসেম রিভালবারের মাথা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পারভেজের মাথার মাঝ বরাবর আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামি বাবুল ছোরা দিয়ে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অংশে এবং তার বাম হাত ও পিঠে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। আসামি গোলাম মহিউদ্দিন তার পকেটে থাকা নগদ সাত হাজার টাকা নিয়ে যায়। পারভেজকে বাঁচাতে প্রজেক্টের সিকিউরিটি গার্ড সৈয়দ নজরুল ইসলাম এগিয়ে এলে আসামিরা তাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। আসামি শাহিনুজ্জামান তার হাতে থাকা সিকিউরিটির কাজে ব্যবহৃত ওয়াল্যাস সেট নিয়ে যায়। আসামি মতিউর ও মজিবুর সিকিউরিটি গার্ড সৈয়দ নজরুল ইসলামের দুই হাজার টাকা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি নুরুল ও মিজানুর প্রজেক্টের মেইন গেটে ১০ রাউন্ড গুলি করে এবং লোহার গেট, থাইগ্লাস, কেচিগেট ভেঙে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেন। আসামিরা বাদীর প্রজেক্টের অফিস রুমে প্রবেশ করে চারটি কম্পিউটারের মনিটর, চারটি ডিভিবক্স, একটি এলইডি টিভি, সাতটি বিভিন্ন ব্রান্ডের ল্যাপটপ, চারটি কাঠের টেবিল, আটটি চেয়ার, একটি কাঠের আলমারি ভাঙচুর করেন। এতে আরও ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। আসামিরা অফিস রুমের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী ক্রয়ের জন্য রাখা নগদ ২৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।

/এসবি/