উন্নয়নকাজে রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে ৭ মাস, ঝুঁকিতে যানবাহন-পথচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
উন্নয়নকাজে রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে ৭ মাস, ঝুঁকিতে যানবাহন-পথচারী
রাস্তার মাঝখানে ও ফুটপাতে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে ইট, বালি, সুরকি ও বালির স্তুপ

রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তা যেন সংস্কার আর খোঁড়াখুঁড়ির চক্রে আটকে আছে। কোথাও রাস্তার পিচ উঠে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ, আবার কোথাও ভালো রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে পাইপলাইন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিযোগাযোগ কিংবা ড্রেনেজের কাজের জন্য। তবে কাজ শেষ হলেও অনেক জায়গায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকছে কাটা অংশ। কোথাও মাটি ফেলে রাখা, তো কোথাও ইট-বালু স্তূপ করে রাখায় সংকুচিত হয়ে পড়ছে চলাচলের পথ। আবার কোথাও সংস্কার কাজের নামে দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় পড়ে আছে। উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরে এমনিই অবস্থা বিরাজ করছে।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাশে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদ থেকে সার্ভিস সড়ক ধরে বিভিন্ন সড়ক হয়ে সহজেই জসীমউদ্‌দীন রোডসহ আশপাশ এলাকায় যাতায়াত করা যায়। সড়কের আশপাশে উত্তরা ক্লাব লিমিটেড, উত্তরা লেডিস ক্লাব, স্কলাস্টিকা সিনিয়র ক্যাম্পাস, ১ নম্বর সেক্টরের জামে মসজিদ, ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যালয় রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের অফিসসহ নানা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন মানুষ যাতায়াত করে। গুরুত্বপূর্ণ এ আবাসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক এলাকায় প্রায় সাড়ে ৭ মাস ধরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উন্নয়নকাজ চলছে। এজন্য সার্ভিস সড়কসহ কয়েকটি সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও তৈরি হয়েছে বড় গর্ত, কোথাও উঁচু হয়ে আছে ড্রেনের স্ল্যাব ও ম্যানহোল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। সেইসঙ্গে গর্তে পানি জমে মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। এতে সড়কে দুর্ভোগের পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, ড্রেনেজ লাইনের কাজের জন্য ১ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি সড়কের অংশ খোঁড়া হয়েছে। এর ফলে পিচঢালা মূল সড়কের মাঝখানে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও দীর্ঘ ড্রেন। এছাড়া ড্রেনের কংক্রিটের স্ল্যাব ও ম্যানহোল নির্মাণ করা হলেও এর চারপাশে মাটি দেওয়া হয়নি। অনেক রাস্তাও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া রাস্তার মাঝখানে ও ফুটপাতে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে ইট, বালি, সুরকি ও বালির বস্তার বিশালাকার স্তূপ। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। আবার কোথাও খোঁড়া অংশ এড়িয়ে এক লেন থেকে অন্য লেনে সরে যেতে হচ্ছে। তবে নির্মাণকাজ চলার সময় খোঁড়া অংশে শক্ত ব্যারিকেড, সতর্কতামূলক সাইন ও রাতে দৃশ্যমান রিফ্লেক্টরের ব্যবস্থা নেই। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তা খোঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে। এতে যাতায়াত ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে। রাতে খানা-খন্দকে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ভয় তো আছেই। অনেক জায়গায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ায় দিনের বেলায়ও এক্সিডেন্টের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে সড়কে গর্তে পানি জমে মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। এতে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

রিকশাচালকরা বলছেন, উন্নয়নকাজের জন্য রাস্তা খুঁড়ে রাখার ফলে বড় বড় খাদ তৈরি হয়েছে। আবার অনেক জায়গা উঁচু-নিচু অবস্থায় রয়েছে। এতে রাতে বেশ অসুবিধা হয়। যাত্রী নিয়ে উল্টে পড়ার ভয় থাকে।

গাড়িচালকরা বলছেন, ‘উঁচু-নিচু স্ল্যাব ও খাদের কারণে গাড়ির নিচে আঘাত লেগে যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে। দিনের চেয়ে রাতে যাতায়াতে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রায় ৭ মাস ধরে এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কাজ কবে শেষ হবে জানি না।

সড়কের পাশে ডিএনসিসি প্রকৌশল বিভাগের স্থাপন করা সাইনবোর্ডে প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডিএনসিসির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্টর-১ এলাকায় স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি ১ নম্বর সেক্টরে মাস্টার ড্রেনেজ লাইন নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় সেক্টর-১-এর ৮ ও ৯ নম্বর সড়ক এবং পশ্চিম পাশের সার্ভিস সড়কে ফুটপাত ও পাইপ নর্দমা নির্মাণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এসব সড়কের উন্নয়নকাজও চলছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ, অঞ্চল-১, উত্তরা। এর কাজ ‍শুরু হয়েছে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি। কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২৭। অর্থাৎ কাজ শুরুর পর প্রায় সাড়ে ৭ মাস পার হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার এখনো কয়েক মাস বাকি রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। তবে কাজ চলাকালে জননিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি। এ সময় তারা নির্মাণকাজ চলার সময় খোঁড়া অংশে শক্ত ব্যারিকেড, সতর্কতামূলক সাইন ও রাতে দৃশ্যমান রিফ্লেক্টরের ব্যবস্থার দাবি জানান। সেইসঙ্গে সড়কের গর্তে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং মশার লার্ভা জন্মানোর মতো স্থানগুলো পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মোহাম্মদ কামাল হোসেন মশার বংশবিস্তার যাতে না হয় সেজন্য সড়কের গর্তগুলোয় জমে থাকা পানি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্কাশনের ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যারিকেড বসানো হবে বলেও জানান।

/জেএইচ/