যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় নীলক্ষেতে অবরোধ

ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি
ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি
যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় নীলক্ষেতে অবরোধ
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিতের ঘোষণা আসে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রত্যাশীরা রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

পরীক্ষার্থীরা জানান, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় তারা প্রথমে বিভ্রান্তিতে পড়েন। পরে পরীক্ষা স্থগিতের খবর পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা এক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা ছিল। শিক্ষকদেরও নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু তারা কেন্দ্রে প্রবেশের পরও শিক্ষকরা আসেননি। বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে শিক্ষকরা এসে পরীক্ষা হবে না বলে জানান।

শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণায় ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকার বাইরের জেলাগুলো থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণায় ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকার বাইরের জেলাগুলো থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আরেক চাকরিপ্রত্যাশী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রশ্ন বলে বিভিন্ন প্রশ্ন প্রচার করা হয়। পরে প্রচারিত প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের মিল ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

ওই পরীক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। ফলে ঢাকার বাইরে থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের অনেকে বিপাকে পড়েছেন। তাদের কারও যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ বাবদ দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। কেউ হোটেলে থেকেছেন, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাসায় উঠেছেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাদের অর্থ ও সময় দুটিই নষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠছে। এসব ঘটনার প্রতিকার এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২ জন নিয়োগের জন্য এ পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য এ পরীক্ষায় তিন লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষার আগের রাতে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

/এমআর/